<p>ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানকে (মিল্টন)। আর সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা–১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে। আগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার এক মাসের বেশি সময় পর নতুন নেতৃত্ব পেল বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক শাখা।</p><p>আজ রোববার রাতে বিএনপির সহ–দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই শাখায় পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে।</p><p>শফিকুল ইসলাম খান যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ–সভাপতি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।</p><p>গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমিনুল হক ও মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ওই দিন দলের সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আমিনুল হক ওই কমিটির আহ্বায়ক এবং মোস্তফা জামান সদস্যসচিব ছিলেন।</p>
এক হাতে একটি ডিম, অন্য হাতেও তাই। মাথার ওপরও সাজানো আরও একটি ডিম। চারপাশে মুরগি, পেছনে রঙিন ক্যানভাস। এমন অদ্ভুত অথচ দারুণ মজার সাজে ধরা দিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
মুক্তিযুদ্ধ থেকে রাষ্ট্রনায়ক জিয়ার উত্থান, আর্মি স্টেডিয়ামে ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন
<p>পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরের কয়েকটি জায়গায় আজ রোববার দিনভর বিক্ষোভ হয়েছে। হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দেড় ঘণ্টার মতো অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।</p><p> এমন পরিস্থিতিতে সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার ১৭৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে আজ সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে প্রথম আলোকে জানান আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।</p><p>মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের আগে পোশাকশ্রমিকেরা হেমায়েতপুরে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক–সংলগ্ন একেএইচ গ্রুপের কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। মহাসড়ক অবরোধের আগে প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হন স্থানীয় এক সাংবাদিক। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।</p><p>পুলিশ, শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সাভারের আশুলিয়া, ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে হেমায়েতপুরের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে একেএইচ গ্রুপের কারখানায় কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/324386yi/dhaka2.jpg"><figcaption>আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ</figcaption></figure><p>বেলা আড়াইটার দিকে ছুটি ঘোষণা করা কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ একেএইচ গ্রুপের কারখানার সামনে যান। তাঁরা ওই কারখানার শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানান। শ্রমিকেরা বের না হওয়ায় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা না করায় তাঁরা কারখানা চত্বরে ঢুকে কারখানার কাচ, শ্রমিকদের পরিবহনের বাস, প্রাইভেট কার ও কাভার্ড ভ্যানের কাচ ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া কারখানার ফটকে নিরাপত্তারক্ষীদের বসার কক্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে তাঁরা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সড়কের উভয় পাশে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/y3g8m2oe26">আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ৩০ কারখানা ছুটি ঘোষণা</a></aside><p>ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রাইম টিভির সাভার উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল মালাকারকে মারধর করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে সাভার মডেল থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।</p><p>গোপাল মালাকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিডিও করার সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী ভিডিও কেন করছি, এটা বলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করেন। এ সময় আমার মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন তাঁরা। যে মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছিলাম, সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’</p><p><strong>আশুলিয়ায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ</strong></p><p>ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভ করেন কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। শ্রমিকদের ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের ৪-৫ জন সদস্য আহত হন। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।</p><p>পুলিশ ও সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের ভাষ্য, নাঈম নিটওয়্যারের শ্রমিকেরা আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের বের করার চেষ্টা করেন এবং আশপাশের কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। তখন পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অনেকগুলো কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।</p>
<p>নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলায় দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, তাজুল ইসলাম এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। এতে সরাসরি পাঁচজন অংশ নেন। এর মধ্যে তাজুল পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করেন। জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ এসব তথ্য জানিয়েছে।</p><p>আজ রোববার বিকেলে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভুঁইয়ার কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন দুই আসামি ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) ও সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। বিকেল পৌনে চারটায় শুরু হওয়া জবানবন্দি নেওয়া হয় সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। পরে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।</p><p>দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, জবানবন্দিতে দুই আসামি জানিয়েছেন, তাজুল ইসলামের সঙ্গে সাংবাদিক আলিফের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁরা তাজুলের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতেন। সীমান্ত এলাকায় তাঁদের বিভিন্ন ব্যবসা ছিল। এসব ব্যবসায় আলিফ বাধা দিতেন এবং পুলিশকে তথ্য দিতেন। এসব কারণে আলিফের প্রতি তাঁদেরও ক্ষোভ ছিল।</p><p>ওসি আরও বলেন, দুই আসামির ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি পাঁচজন অংশ নেন। তাজুল ইসলাম পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করেন। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লোকজন চলে এলে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।</p><p>জবানবন্দিতে তাজুল ছাড়া আরও কয়েকজনের নাম এসেছে জানিয়ে ওসি বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যেই তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।</p><aside><cite>খন্দকার শাকের আহমেদ, দুর্গাপুর থানার ওসি</cite>জবানবন্দিতে তাজুল ছাড়া আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যেই তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।</aside><p>পুলিশ জানায়, তাজুলের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের ঘটনায়ও তাজুলের বাহিনী জড়িত। নিজ নামে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনীও চালান তিনি।</p><p> সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তাজুলের চোরাচালান ও অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য পেয়ে তা র্যাবকে দিয়েছিলেন আলিফ। বছর চারেক আগে তাজুলকে র্যাব (এখন এসআরবি) গ্রেপ্তার করেছিল।</p><p> দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদের গত অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তাজুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য পেয়েছিলেন আলিফ। তাঁর (তাজুল) বাড়িঘরের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। তাজুল মনে করতেন, তাঁর কাছে থাকা অস্ত্রের তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েছেন আলিফ। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকে আগেও আলিফের ওপর হামলা হয়েছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/6oq7banhxy">সীমান্তে অপরাধ খুঁজতে গিয়েই সন্ত্রাসীদের নিশানা হন সাংবাদিক আলিফ</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/86l3e2zw/WhatsApp-Image-2026-10-15-at-10.11.53-PM.jpeg"><figcaption>গুলিতে সাংবাদিক হত্যার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায়</figcaption></figure><p>গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।</p><p>হত্যাকাণ্ডের পরদিন আলিফের স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।</p><p>গতকাল শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে ইমরান ও সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। এ নিয়ে সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়।</p><p>নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আশা করছি, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারব। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/nur3u4f04s">‘তারা অস্ত্র নিয়ে বসে আছে, আমি গেলে গুলি করবে’—আগেই বলেছিলেন সাংবাদিক আলিফ</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/v0jd3az6/NetrokonaDH054820261016Screenshot20261016111150WhatsApp.jpg"><figcaption>সাংবাদিক লুৎফুজ্জামানের নিথর দেহের পাশে কাঁদছেন স্ত্রী । নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় তেলনজিয়া এলাকায়</figcaption></figure><p><strong>ঢাকায় চাকরিতে যোগ দিয়েছেন আলিফের স্ত্রী</strong><br>এদিকে নিহত আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি কাজে যোগ দেন। দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন আনন্দিতা।</p><p>গারো সম্প্রদায়ের এই নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল আলিফের সঙ্গে। বিয়ের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে তাঁর নাম হয় খাদিজা আক্তার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/i0pnmca75m">‘বাচ্চাদের খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও, আমার আসতে একটু দেরি হবে’</a></aside><aside><cite>আনন্দিতা সাংমা, নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী </cite>স্বামীকে আর কখনো ফিরে পাব না; কিন্তু যারা তাঁকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে, আমার দুই সন্তানকে এতিম করেছে, আমাকে স্বামীহারা করেছে, তাদের শাস্তি দেখে যেতে চাই। আমি তাদের ফাঁসি চাই।</aside><p>গতকাল শনিবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে আনন্দিতা সাংমা বলেন, ‘প্রথম আলোতে খবর প্রকাশের পর অনেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। একজন নারী আমাকে ফোন করে সহযোগিতার কথা বলেছেন। আমার ব্যাংক হিসাবের নম্বর চেয়েছেন। এরপর আরও অনেকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। চাকরির ব্যবস্থা হওয়ায় আপাতত অন্য কারও আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।’</p><p>আনন্দিতা আরও বলেন, ‘আমি চাই, তাজুল ইসলাম, শুটার শামীমসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্বামীকে আর কখনো ফিরে পাব না; কিন্তু যারা তাঁকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে, আমার দুই সন্তানকে এতিম করেছে, আমাকে স্বামীহারা করেছে, তাদের শাস্তি দেখে যেতে চাই। আমি তাদের ফাঁসি চাই।’</p>
<p>টি–টুয়েন্টি তো এখন আসলেই ছক্কার উৎসব। বল আকাশে উঠছে, সীমানার ওপারে গিয়ে পড়ছে। ব্যাটসম্যানদের কাছে বাউন্ডারি এখন আর যথেষ্ট নয়। ছক্কা মারাটাই যেন নতুন অভ্যাস। এই অভ্যাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল ভারত।</p><p>নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজ হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে ইতিহাস লিখেছে ভারতীয় দল। এক পঞ্জিকাবর্ষে ৪০০ ছক্কা মারা বিশ্বের প্রথম দল এখন ভারত। ২০২৬ সালে নিজেদের ৪০তম ম্যাচে এই মাইলফলক ছুঁয়েছে তারা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা মেরেছেন ১১টি ছক্কা। তাতেই ৪০০-এর ঘরে পৌঁছে যায় দলটির ছক্কার সংখ্যা।</p><p>আগের রেকর্ডটি ছিল আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ অস্ট্রিয়ার। ২০২৫ সালে ৩৬ ম্যাচে ৩২৬ ছক্কা মেরেছিল দলটি। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে আগের সেরা রেকর্ডটিও ভারতের। ২০২২ সালে ৪০ ম্যাচে ২৮৯ ছক্কা মেরেছিল তারা। চার বছরে ছবিটা কতটা বদলে গেছে, সংখ্যাতেই তা স্পষ্ট। ২০২২ সালে ভারতের ম্যাচপ্রতি ছক্কার গড় ছিল ৭.২। এবার সেটি বেড়ে হয়েছে ১০। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে ১০টি করে ছক্কা মারছে ভারত।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/isvy4ji9/gettyimages_2302485219_2048x2048.jpg"><figcaption>২০২৬ সালে টি–টুয়েন্টিতে ভারতের মারা ৪০০ ছক্কার মধ্যে ১৪২টিই এসেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।</figcaption></figure><p><br>৪০০তম ছক্কাটি এসেছে ভারতের নীতীশ ধীরের ব্যাট থেকে। ইনিংসের ১৯তম ওভারে ব্লেয়ার টিকনারের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে বলের ওপরের দিকে ব্যাট লাগে। বল উড়ে যায় ফাইন লেগের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয় সেই ছক্কা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/bofctb9gqz">শেষ দুই ম্যাচে জিতে ভারতের সিরিজ জয়ের আনন্দ ম্লান করল নিউজিল্যান্ড</a></aside><p><br>তবে ভারতের এই ছক্কাযাত্রায় নিউজিল্যান্ডেরও বিশেষ ভূমিকা আছে। ২০২৬ সালে ভারতের মারা ৪০০ ছক্কার মধ্যে ১৪২টিই এসেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এক পঞ্জিকাবর্ষে কোনো একটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার বিশ্ব রেকর্ডও এটি।<br>এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার তালিকায় এখন প্রথম তিনটি জায়গার দুটিই ভারতের। ২০২৬ সালে ৪০০, ২০২২ সালে ২৮৯। মাঝখানে অস্ট্রিয়া, ২০২৫ সালে ৩২৬ ছক্কা।</p><h3>টি–টুয়েন্টিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারা দল</h3>
<p>ইরাসমাস মুন্ডুস বৃত্তি পেয়ে ইউরোপে পড়তে গেছেন <strong>ডা. জারিন তাসনিম</strong>। লিখেছেন তাঁর অভিজ্ঞতা।</p><p>সেপ্টেম্বরের এক সকালে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্তর আর কয়েক বছরের পেশাজীবনের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হলাম। যেতে যেতে ভাবছিলাম, সত্যিই কি আবার ছাত্রজীবন ফিরে পেতে যাচ্ছি! আবারও ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা…! চিকিৎসক হিসেবে যে পথে হাঁটা শুরু করেছিলাম, সেই পথ কি অন্য দিকে বাঁক নেবে! </p><p>গন্তব্য স্পেনের ছোট্ট শহর ওভিয়েদো। ইরাসমাস মুন্ডুস বৃত্তি নিয়ে সেখানে দুর্যোগকালীন জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পড়তে যাচ্ছি। জানিয়ে রাখি, ইরাসমাস মুন্ডুস হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি উদ্যোগ, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হয়ে একটি পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে। শিক্ষার্থীরা একাধিক দেশে পড়ার সুযোগ পান। পূর্ণ বৃত্তির আওতায় পড়াশোনা ও জীবনযাপনের জন্য আর্থিক সহায়তাও থাকে। </p><p>মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ভবিষ্যৎ অনেকটাই সরল মনে হয়। রোগী আসবেন, রোগ নির্ণয় হবে, চিকিৎসা দেওয়া হবে, এই তো! কিন্তু পেশাজীবনে এসে বুঝতে শুরু করি, একজন মানুষ কেন অসুস্থ হলেন—এ প্রশ্নের উত্তর সব সময় তার শরীরের ভেতরে পাওয়া যায় না। সে কোথায় থাকে, কী তাঁর সামাজিক অবস্থান, কোথা থেকে সে পানি সংগ্রহ করে, কতখানি মানসিক চাপে থাকে, এসবের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/ubot77q13o">মিরপুরের ব্যতিক্রমী বিনোদনকেন্দ্র ওয়াওজা এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম হলে কী কী আছে, কেন যাবেন</a></aside><p>এই প্রশ্নগুলোই ধীরে ধীরে আমাকে চিকিৎসার পরিচিত গণ্ডি থেকে জনস্বাস্থ্যের দিকে নিয়ে যায়।</p><p>ইন্টার্নশিপের পরই ২০২০ সালে দিনাজপুরে আইসিডিডিআরবির একটা ক্লিনিক্যাল গবেষণায় যোগ দিয়েছিলাম। সেখানেই প্রথম কাছ থেকে বুঝতে পারি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সেভ দ্য চিলড্রেনের সঙ্গে রংপুরে কাজ করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মসূচি কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং কোথায় ঘাটতি, তা দেখার সুযোগ পাই।</p><p>এরপর পথ আমাকে নিয়ে যায় কক্সবাজারে। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা আমার পেশাজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। বাস্তুচ্যুতি ও দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, কাছ থেকে তা দেখেছি। বুঝেছি, সংকটের মধ্যে মানুষ শুধু চিকিৎসা চায় না; নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং নিজের জীবনের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণও ফিরে পেতে চান তাঁরা।</p><p>এখানেই আমার কাছে চিকিৎসকের ভূমিকার অর্থ বদলে যায়। আমি বুঝতে শুরু করি, সংকটের মধ্যে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করাই আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে। সেখান থেকেই ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।</p><p>আবেদনপত্র পূরণ করা নয়, বরং আমার কাছে বৃত্তি পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নিজের পথটা বোঝা। আমি কেন চিকিৎসাবিদ্যা থেকে জনস্বাস্থ্যে এলাম? আমার অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে কী শিখিয়েছে? কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো আমার জানা নেই? ভবিষ্যতে আমি কোথায় অবদান রাখতে চাই? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর যত পরিষ্কার হয়েছে, দুর্যোগকালীন জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়ালেখা আমার কাছে ততই প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে।</p><p>আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী বৃত্তির আবেদন তৈরি হয় তখনই, যখন একজন মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন। অন্য কারও মতো ‘নিখুঁত প্রার্থী’ হওয়ার চেয়ে নিজের গল্পটা সৎভাবে বলতে পারাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>স্পেনের ওভিয়েদোতে থেকে যাত্রা শুরু হয়েছে। এরপর সুইডেনের কারোলিন্সকা ইনস্টিটিউটে পড়ব। প্রতিটি ধাপে নতুন শিক্ষক, নতুন স্বাস্থ্যব্যবস্থা, নতুন সমস্যা, সঙ্গে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও পাব।</p><p>আজও নিজেকে প্রথমে একজন চিকিৎসক হিসেবেই দেখি। তবে সেই পরিচয়ের অর্থ বদলেছে। এখন মনে হয়, একজন চিকিৎসকের কাজ কখনো একজন রোগীর পাশে দাঁড়ানো, কখনো একটি জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করা, কখনো গবেষণার মাধ্যমে একটি সমস্যাকে দৃশ্যমান করা, আবার কখনো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রমাণ পৌঁছে দেওয়া।</p><p>আজ ওভিয়েদোতে বসে মনে হয়, দিনাজপুর থেকে রংপুর, রংপুর থেকে কক্সবাজার, আর সেখান থেকে ইউরোপ—প্রতিটি জায়গাই আমাকে একই প্রশ্নের কাছে ফিরিয়ে এনেছে—সংকটের মধ্যেও কীভাবে আরও বেশি মানুষের কাছে, আরও ন্যায়সংগতভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো যায়।</p><p>হয়তো এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সামনে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।</p>
<p>সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনের ৬৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের উপস্থিতিতে আজ রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন।</p><p> এসআরবি-১২ জানায়, আত্মসমর্পণ করা ব্যক্তিদের মধ্যে পাবনার ৪৫ জন, রাজবাড়ীর ১৩ জন ও সিরাজগঞ্জের সাতজন আছেন। তাঁদের কেউ নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির, কেউ পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির, কেউ–বা নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাম ভিন্ন হলেও তাঁরা সবাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতেন।</p><p> অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ভুল বুঝে যারা চরমপন্থী সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা নিজেদের ভুল উপলব্ধি করে আত্মসমর্পণ করছেন। তারা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে জন্য আইনি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নানা জটিলতা ও সমস্যা সমাধানে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও জানান তিনি।</p><p>এসআরবির সদস্যদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্ধকার জগতে থাকা ব্যক্তিদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চল ভেদে চরমপন্থী সংগঠনে যুক্ত ব্যক্তিদের নানা সমস্যা আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে।</p><p>২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আত্মসমর্পণকারীদের কাছে তথ্য থাকলে এসআরবিকে সহায়তা করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। পরে অস্ত্র জমা দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ফারজানা শারমিন বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।</p><p>এসআরবি-১২–এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান, এসআরবির মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ, রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান বক্তব্য দেন।</p><p>বক্তারা বলেন, আত্মসমর্পণকারী অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র মামলা আছে। মামলাগুলো দেখে সেই অনুযায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মামলার বিচারও দ্রুত শেষ করা হবে। এ ছাড়া মামলা নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের সুবিধা দেবে সরকার।</p><p>পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা সালমান শাহ আজ এসআরবির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের ভালো হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। তাই অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরতে এখানে এসেছি। এই সুযোগ পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। আমরা দুই ভাই এই পথে এসেছিলাম। আজ দুই ভাই একসঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছি।’</p><p>আরেক আত্মসমর্পণকারী পাবনার বাবু মিয়া ওরফে আইনুল হোসেন বলেন, ভুল পথে চলতে চলতে অনেক কিছু হারিয়েছেন। এভাবে তাঁর জীবন থেকে ১৫ বছর চলে গেছে। এখন সুন্দরভাবে পরিবার–পরিজন নিয়ে বাকি জীবন পার করতে চান।</p><p>অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে বলে জানিয়েছেন আত্মসমর্পণ করতে আসা মাজেদ আলী মুন্সী। আলমগীর নামের আরেকজন বলেন, ‘আমরা একেক সময় একেক জায়গায় থাকতাম। যখন নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস পেতাম না, তখন অনেককে দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তেন।’</p><p>একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এসব জেলার চরমপন্থী সংগঠনের অনেক সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। এতে এলাকাগুলোতে চরমপন্থীদের তৎপরতা অনেক কমে এসেছে।</p><p>চরমপন্থীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শতাধিক চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন এবং ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে সাত জেলার আরও ৩২৩ জন আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ তিন জেলার ৬৫ জন আত্মসমর্পণ করলেন।</p>
আইজেনকোট বলেন, পাঁচ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে ইসরায়েলিরা ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা ও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়ানোর বিরুদ্ধে এবং পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।