ফুটবল

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রেফারির সমালোচনা করায় মিসরের কোচসহ তিনজন নিষিদ্ধ

অক্টোবর ২০, ২০২৬
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রেফারির সমালোচনা করায় মিসরের কোচসহ তিনজন নিষিদ্ধ
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রেফারির সমালোচনা করায় মিসরের কোচসহ তিনজন নিষিদ্ধ
সর্বশেষ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ৩–২ গোলে হেরে বিদায় নেয় মিসর।

Prothomalo

View more
মুঠোফোনের বাক্স থেকে চার্জার বাদ দিল অনেক ফোন নির্মাতা, কেন
মুঠোফোনের বাক্স থেকে চার্জার বাদ দিল অনেক ফোন নির্মাতা, কেন

২০২০ সালে আইফোন ১২ সিরিজের সঙ্গে বক্সে চার্জিং অ্যাডাপ্টার দেওয়া বন্ধ করে অ্যাপল। পরের বছর গ্যালাক্সি এস–২১ সিরিজের ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত নেয় স্যামসাং। এরপর আরও কয়েকটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোনের বাক্স থেকে চার্জার সরিয়ে নেয়।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
যৌনপল্লিতে বেড়ে ওঠা রতন দলুই এখন শিশুদের স্বপ্ন গড়ার কারিগর
যৌনপল্লিতে বেড়ে ওঠা রতন দলুই এখন শিশুদের স্বপ্ন গড়ার কারিগর

<p>কলকাতার সোনাগাছি যৌনপল্লির গলি আর ঘুপচি ঘর থেকে রতন দলুইয়ের জীবন শুরু। এখন তাঁর মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে পল্লির অনেক শিশুর ভবিষ্যৎ। দেখুন ভিডিওতে…</p><figure></figure>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
পুরুষেরা প্রকাশ্যে কাঁদতে কেন সংকোচ বোধ করেন
পুরুষেরা প্রকাশ্যে কাঁদতে কেন সংকোচ বোধ করেন

আরিফের এই অভিজ্ঞতা একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। সমাজে পুরুষের কাছ থেকে দৃঢ়তা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করা হয়। অনেক সময় এসব গুণের সঙ্গে কান্না না করার ধারণাও জুড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পুরুষেরা কি সত্যিই নারীদের তুলনায় কম আবেগ অনুভব করেন? নাকি সামাজিক প্রত্যাশার কারণে তাঁরা আবেগ প্রকাশ করতে চান না?

অক্টোবর ২০, ২০২৬
হাল ফ্যাশন শারদীয় ভোজ: নিরামিষ দিয়েই তাক লাগাতে মেনুতে রাখুন চাপড়ঘণ্ট
হাল ফ্যাশন শারদীয় ভোজ: নিরামিষ দিয়েই তাক লাগাতে মেনুতে রাখুন চাপড়ঘণ্ট

<p>শারদীয় ভোজে নানা সবজির সঙ্গে ছোলার ডালের বড়া মিশিয়ে তৈরি চাপড়ঘণ্টে জমে উঠুক উৎসবের খাওয়াদাওয়া। ঐতিহ্যবাহী এই পদের রেসিপি ও ছবি দিয়েছেন <strong>পারভীন আলী</strong>।</p><h3>উপকরণ</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/2udexksw/WhatsApp-Image-2026-10-17-at-15.22.55.jpeg"></figure><p>ছোলার ডাল ৩০০ গ্রাম<br>পটল ৩০০ গ্রাম<br>পেঁপে ৩০০ গ্রাম<br>ঝিঙে ৪০০ গ্রাম<br>বেগুন ৩০০ গ্রাম<br>মিষ্টিকুমড়া ৪০০ গ্রাম<br>আলু ৪টি মাঝারি আকারের<br>কাঁচা মরিচ ৫–৬টি<br>শুকনা মরিচ ৪টি<br>পাঁচফোড়ন ১ চা-চামচ<br>হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ<br>মরিচগুঁড়া ১ টেবিল চামচ<br>ঘি ১ কাপ<br>শর্ষের তেল আধা কাপ<br>আদাবাটা ১ চাচামচ<br>কাঁচা মরিচবাটা ১ চা–চামচ<br>তেজপাতা ২টি<br>চিনি আধা চা–চামচ<br>লবণ স্বাদমতো </p><h3>প্রণালি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/077lnjh2/WhatsApp-Image-2026-10-17-at-15.22.56.jpeg"></figure><p>প্রথমে ছোলার ডাল ভালো করে ধুয়ে পানিতে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর মিহি করে বেটে নিতে হবে। বেটে রাখা ছোলার ডালে লবণ, হলুদগুঁড়া ও মরিচগুঁড়া দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে। এবার ফ্রাইপ্যানে শর্ষের তেল দিয়ে হালকা গরম হলে বড়ার আকারে ভেজে তুলে রাখতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/ijygpmf2/WhatsApp-Image-2026-10-17-at-15.22.56-1.jpeg"></figure><p>সবজিগুলো কিউব আকারে কেটে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।</p><p>এরপর অন্য একটি কড়াইয়ে ঘি দিয়ে তেজপাতা, শুকনা মরিচ ও পাঁচফোড়ন দিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে। প্রথমে আলু, পটোল ও পেঁপে দিয়ে দুই মিনিট ভেজে নিতে হবে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/5fq9miof/WhatsApp-Image-2026-10-17-at-15.22.56-2.jpeg"></figure><p>এরপর মিষ্টিকুমড়া, বেগুন ও ঝিঙে দিতে হবে। সব সবজি একসঙ্গে তিন–চার মিনিট ভেজে তাতে আদাবাটা, কাঁচা মরিচবাটা, হলুদগুঁড়া, মরিচগুঁড়া ও লবণ দিয়ে কষাতে হবে।</p><p>কিছুক্ষণ কষিয়ে ঢাকনা দিয়ে অল্প আঁচে দুই মিনিট রান্না করতে হবে। সবজি থেকে পানি বের হলে ছোলার ডালের বড়াগুলো দিয়ে আবার ঢেকে দিতে হবে। এক মিনিট পর ঢাকনা খুলে গরমমসলার গুঁড়া, কাঁচা মরিচ ও চিনি দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিতে হবে। মাখা মাখা হয়ে এলে নামিয়ে নিতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/5hrvekb3/WhatsApp-Image-2026-10-17-at-15.22.57.jpeg"></figure><p><br>এভাবেই তৈরি হয়ে যাবে সবজি ও ছোলার ডালের বড়া দিয়ে চাপড়ঘণ্ট, যা গরম ভাতের সঙ্গে খেতে দারুণ। </p>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
রিপলি’স বিলিভ ইট অর নট!
রিপলি’স বিলিভ ইট অর নট!

২০২৬ সালে টানা ৭২ ঘণ্টা একটি গাছকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে

অক্টোবর ২০, ২০২৬
অতিশীতল পানিতে টোকা দিলেই বরফ জমে যায় কেন
অতিশীতল পানিতে টোকা দিলেই বরফ জমে যায় কেন

<a href="https://www.bigganchinta.com/physics/84fncsjdxn" target="_blank" rel=""><span>আগের পর্ব</span></a><p>এবার ফিরে আসা যাক সেই বোতলের ঘটনায়। ফ্রিজার থেকে বের করা পানির বোতলটি স্বচ্ছ ও তরল। কিন্তু টেবিলে টোকা দিতেই বরফ জমতে শুরু করে। অথচ বোতলের গায়ে থাকা পৃষ্ঠ বা পানির ভেতরে থাকা কণাগুলো তো আগেও ছিল। তাহলে একটি টোকা কীভাবে এত বড় পরিবর্তন ঘটায়? বিজ্ঞানীরা এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। ১৯০৬ সালে বার্নস দেখান, প্রবল আলোড়নের ফলে পাতিত পানি তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রায় জমে যেতে পারে। তাঁর পরীক্ষায় পানির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৬৯ থেকে ২৭০ কেলভিন, অর্থাৎ মাইনাস ৪ থেকে মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।</p><p>১৯১৩ সালে ইয়ং ও ভ্যান সিকলেন পানির ট্যাংকে ডোবানো একটি নেহাইয়ের ওপর হাতুড়ি ফেলে অতিশীতল পানিকে জমিয়ে দেন। ১৯৪৮ সালে ডরসি দেখান, অতিশীতল পানি একটি নলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঢাললেও সব সময় জমে যায় না। তবে প্রবল ঝাঁকুনিতে পানি জমার আগে প্রায় ২ ডিগ্রি পর্যন্ত উষ্ণ হতে পারে। পানি ঝাঁকালে কেন জমে যায়, তার ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আকস্মিক ধাক্কায় পানির মধ্যে খুব অল্প সময়ের জন্য চাপের পরিবর্তন ঘটতে পারে। কোনো তরলকে শুধু চাপ দিলেই হয় না, বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে টানার মতো অবস্থাও তৈরি হতে পারে। পানির প্রসারণের ফলে স্থানীয়ভাবে ঋণাত্মক চাপ তৈরি হলে বরফ তৈরির প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/31lwgtpelk">পানি হিমাঙ্কের নিচেও তরল থাকে কীভাবে</a></aside><blockquote>১৯৪৮ সালে ডরসি দেখান, অতিশীতল পানি একটি নলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঢাললেও সব সময় জমে যায় না। তবে প্রবল ঝাঁকুনিতে পানি জমার আগে প্রায় ২ ডিগ্রি পর্যন্ত উষ্ণ হতে পারে।</blockquote><p>ক্লডিয়া মারকোলির একটি মডেলে দেখানো হয়েছে, প্রায় ২৬২ কেলভিন বা মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বরফ তৈরির প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঋণাত্মক চাপ প্রায় ১৮৯ মেগাপ্যাসকেল, যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপের প্রায় ১ হাজার ৯০০ গুণ। বোতলে টোকা দিলে এমন চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি ক্ষণস্থায়ী ও স্থানীয় হতে পারে। তবে ঝাঁকালে পানি জমে যাওয়ার সব ঘটনাকে শুধু এই ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানো যায় না। ধাক্কা বা আলোড়ন বরফ তৈরির সূচনা ঘটাতে পারে অন্যভাবেও। পাত্রের দেওয়ালে থাকা ক্ষুদ্র আঁচড়, পানির মধ্যে থাকা কণা কিংবা আগে থেকেই থাকা ক্ষুদ্র বরফের স্ফটিক এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। একবার স্থিতিশীল বরফের স্ফটিক তৈরি হয়ে গেলে তার চারপাশে আরও পানির অণু যুক্ত হতে থাকে। ফলে বরফ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।</p><h4>সূত্র: সায়েন্স এবিসি</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/dghw2208z7">০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালেই পানি জমে যায় না কেন</a></aside>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
চাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেন
চাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেন

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/o5bkkqsm/Untitled-1-075.jpg"></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/9o3lzd67p4">আপত্তিকারী</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kdnfiunl2l">চাঁদাবাজের বর্ণ পরিচয়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hiksaptred">গ্যাঞ্জাম of সায়েন্সল্যাব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/816oy38o23">আহসান হাবীবের প্রিয় ৪ কৌতুক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছিলেন যিনি
ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছিলেন যিনি

<p>নবীজি (সা.) মদিনায় এসেছেন প্রায় তিন বছর। একটু একটু করে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ইসলামের বিস্তৃতি বাড়ছে। প্রায়ই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে ইসলাম গ্রহণ করছে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধও সংঘটিত হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।</p><p>বদর যুদ্ধে মুসলিমরা নিরঙ্কুশ জয় লাভ করলেও ওহুদে কিছুটা বিপর্যয় ঘটে। কয়েকজন সাহাবির কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে জয়ের দ্বারপ্রান্তে এসেও পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়।</p><p>এই ঘটনায় কাফেরদের মনোবল ফিরে আসে। মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে তারা। তারই অংশ হিসেবে খালিদ ইবনে সুফিয়ান নামের এক ব্যক্তি নবীজিকে ঘায়েল করতে রণবাহিনী প্রস্তুত করতে থাকে।</p><p>মদিনা থেকে প্রায় সাড়ে চার শ কিলোমিটার দূরে উরানাহ ও নাখলা নামক উপত্যকার কাছে মদিনায় অতর্কিত হামলার ফন্দি আঁটে তারা। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৭৬০)</p><h3>ষড়যন্ত্র নস্যাৎ </h3><p>কিন্তু ঘটনা গোপন রইল না; নবীজির কানে সংবাদ পৌঁছে গেল। তৎক্ষণাৎ তিনি সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসকে নির্দেশ দিলেন, যেন তিনি শত্রুকে প্রতিহত করার উদ্যোগ নেন। নির্দেশ অনুসারে তিনি ছদ্মবেশে নাখলায় উপস্থিত হলেন। নিজের পরিচয় গোপন রেখে খালিদকে বললেন, ‘তোমার বাহিনীতে যোগ দিতে চাই।’</p><p>পরে রাতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে খালিদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ চাইলেন আব্দুল্লাহ। খালিদ তাঁবুর বাইরে এলে কথার ছলে কিছুটা নির্জনে নিয়ে তাঁকে অতর্কিত আঘাত হানেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৭৬০)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/oz1u9zbdrt">বিশ্বস্ত সাহাবি সেনাপতি আবু উবাইদা</a></aside><p><strong>প্রতিশোধের কূটকৌশল</strong></p><p>এ ঘটনায় খালিদের গোত্র বনু লাহিয়ান মুসলিমদের ওপর প্রতিশোধের আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। কিন্তু সম্মুখযুদ্ধের শক্তি বা সাহস—কোনোটাই না থাকায় তারা প্রতারণার আশ্রয় নেয়। পার্শ্ববর্তী আজাল ও কারাহ গোত্রের কিছু লোককে ঘুষ দিয়ে মদিনায় পাঠায়, যেন তারা নবীজির কাছ থেকে কোরআন শেখার অজুহাত দেখিয়ে কিছু সাহাবিকে ডেকে নিয়ে আসতে পারে।</p><p>নবীজি (সা.) সরল মনেই তাঁদের প্রস্তাবে রাজি হলেন এবং আসিম ইবনে সাবিতের নেতৃত্বে দশজন সাহাবিকে তাঁদের সঙ্গে পাঠালেন। এঁদেরই একজন ছিলেন খুবাইব ইবনে আদি (রা.)। সম্মতি পাওয়ামাত্রই গুপ্তচর মারফত তারা তাদের ফেরার পথ ও পদ্ধতি জানিয়ে সংবাদ পাঠিয়ে দিল বনু লাহিয়ানের কাছে। ফলে তারা আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৮৯)</p><p><strong>অতর্কিত আক্রমণ</strong></p><p>জায়গাটি ছিল মক্কা ও উসফানের মধ্যবর্তী ‘রাজি’ নামক একটি জলাশয়ের পাড়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সাহাবিরা ইতিমধ্যেই ক্লান্ত। একটু বিশ্রাম ও পানি পানের আশায় তাঁরা এখানে যাত্রাবিরতি নিলেন। হঠাৎ করেই দুই শ অস্ত্রধারী লোক এসে ঘিরে ফেলল নিরস্ত্র সাহাবিদের। তবে তারা পিছু হটলেন না। শুরু হলো এক অসম যুদ্ধ।</p><p>আক্রমণকারীদের এক শ জন ছিল দক্ষ তীরন্দাজ। তীব্র মোকাবিলার একপর্যায়ে আসিম বিন সাবিত (রা.) সহ সাতজন সাহাবি শাহাদাত বরণ করেন। (ইবনে হিশাম, <em>আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা</em>, ৩/১৬৯-১৭৯, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বৈরুত, ২০০১)</p><p><strong>প্রতারণার শুরু</strong></p><p>কাফেররা তখন বাকি তিনজনকে শপথ করে ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দেয় ও আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। এই তিনজন হলেন খুবাইব ইবনে আদি, জায়েদ ইবনে দাসিনাহ এবং আবদুল্লাহ ইবনে তারিক (রা.)। চোখের সামনে ভাইদের এমন নির্মম শাহাদাত দেখে তাঁরা এটাকে নিরাপদ মনে করলেন। কিন্তু আত্মসমর্পণের সঙ্গে সঙ্গেই কাফেররা প্রতিশ্রুতি ভেঙে তাঁদের ধনুকের ছিলা বা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং মক্কার দিকে নিয়ে চলতে শুরু করে।</p><p>এই বিশ্বাসঘাতকতা দেখে আবদুল্লাহ ইবনে তারিক (রা.) প্রতিবাদ করেন এবং নিজের বাঁধন ছিঁড়ে কাফেরদের ওপর চড়াও হন। তিনি বললেন, ‘গাদ্দারদের সঙ্গে যাওয়ার চেয়ে আমার জন্য শাহাদাতই উত্তম।’ পাথরের নিষ্ঠুর আঘাতে তখন শহীদ করে দেওয়া হলো তাঁকে। আর খুবাইব ও জায়েদকে নিয়ে যাওয়া হলো মক্কায় এবং পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বিক্রি করে দেওয়া হলো দাস হিসেবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৮৯)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/vig92k6497">কেমন ছিলেন সাহাবি যুগের নারীরা</a></aside><p><strong>শত্রুর সঙ্গেও মানবতা</strong></p><p>খুবাইবকে কিনে নিলেন হারিস ইবনে আমিরের ছেলেরা, বদর যুদ্ধে যিনি নিহত হয়েছিলেন খুবাইবের হাতেই। আর জায়েদকে কিনলেন সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া, বদর যুদ্ধে যাঁর বাবা নিহত হয়েছিলেন আলী (রা.)-এর হাতে। সময়টা ছিল জিলকদ বা জিলহজ মাস—রক্তপাত নিষিদ্ধের সময়। তাই সিদ্ধান্ত হলো, পবিত্র মাস শেষ হলে তাঁদের হারাম শরিফের বাইরে নিয়ে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। ততদিন তাঁরা যার যার বাড়িতে লোহার শেকলে বন্দি থাকবেন।</p><p>খুবাইব (রা.) এই পুরো সময়টায় ছিলেন একদম ধীরস্থির ও শান্ত। মক্কার কোথাও যখন আঙুরের নামগন্ধও নেই, তখন একদিন দেখা গেল, আস্ত থোকা থেকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে আঙুর খাচ্ছেন তিনি, অথচ তাঁর হাত-পা শেকলে বাঁধা।</p><p>ফাঁসির আগের দিন তিনি হারিসের এক মেয়ের কাছে ক্ষুর চাইলেন; উদ্দেশ্য নিজেকে পরিপাটি করা। মেয়েটি তা এনে দিল। কিছু সময় পর এসে দেখল, তার শিশুপুত্র হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে বসে আছে খুবাইবের কোলে, আর খুবাইবের হাতে সেই ধারালো ক্ষুর। এই দৃশ্য দেখে মেয়েটি আঁতকে উঠল।</p><p>খুবাইব তার চোখের ভাষা ধরতে পেরে বললেন, ‘ভয় পেয়ো না, আমি বিশ্বাসঘাতক নই। আমার ধর্ম কোনো নিরপরাধ শিশুকে হত্যার অনুমতি দেয় না।’ এই বলে তিনি শিশুটিকে আলতো করে সরিয়ে দিলেন। সেই নারী পরে বলেছিলেন যে খুবাইবের মতো উত্তম বন্দি তিনি জীবনে দেখেননি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৮৯)</p><p><strong>শেষ ইচ্ছা</strong></p><p>ফাঁসির দিন খুবাইবকে পবিত্র হারাম সীমানার বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো। চারপাশে ভিড় করেছে মক্কার সব মানুষ, শাস্তির দৃশ্য দেখতে এসেছে তারা। খুবাইবকে যখন ফাঁসির কাষ্ঠে আনা হলো, তখন তিনি এক অদ্ভুত ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন। বললেন, ‘তোমরা সুযোগ দিলে আমি দুই রাকাত নামাজ পড়তে চাই।’</p><p>কাফেররা ভারী অবাক হলো। এ-ও কি কারও শেষ ইচ্ছা হতে পারে? তারা সম্মতি জানাল। খুবাইব (রা.) অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে, পরম একাগ্রতার সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। নামাজ শেষে বললেন, ‘আল্লাহর শপথ, তোমরা যদি না ভাবতে যে আমি মৃত্যুভয়ে নামাজকে লম্বা করছি, তাহলে আরও দীর্ঘ সময় নিয়ে আমি নামাজ পড়তাম।’</p><p><strong>ফাঁসির কাষ্ঠে দরুদ ও দোয়া</strong></p><p>এরপর কাফেররা তাঁকে কাঠের ক্রুশে বা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দেয় এবং চারদিক থেকে বর্শা দিয়ে খোঁচাতে শুরু করে। তীব্র আঘাত আর মৃত্যুযন্ত্রণার মধ্যেও খুবাইব (রা.) আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করলেন, আল্লাহুম্মা ইন্নি লাসতু আরা ইল্লা ওয়াজহা আদুওয়্যিন, আল্লাহুম্মা আবলিগ রাসুলকা মিন্নিস সালাম। (হে আল্লাহ, এখানে শত্রু ছাড়া আমার আর কেউ নেই; আপনি আপনার রাসুলের কাছে আমার এই শেষ সালামটি পৌঁছে দিন।’ (আল-ওয়াকিদি, <em>কিতাবুল মাগাজি</em>, ১/৩৫৭, দারুল মাআরিফা, বৈরুত, ১৯৮৯)</p><p>অলৌকিক ব্যাপার হলো, সুদূর মদিনায় বসেই রাসুল (সা.) এই সালাম শুনতে পান এবং সাহাবিদের বলেন, ‘তোমাদের ভাই খুবাইবের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, কোরাইশরা তাঁকে শহীদ করে দিয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০৪৫)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/7jvsrk3yfh">৪ ধনী সাহাবি যেভাবে বদলে দেন মদিনার অর্থনীতি</a></aside>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
প্রাচ্যবাদ: অন্যকে সংজ্ঞায়িত করার রাজনীতি
প্রাচ্যবাদ: অন্যকে সংজ্ঞায়িত করার রাজনীতি

এডওয়ার্ড সাঈদের প্রাচ্যবাদ তত্ত্বে দেখানো হয়েছে, পশ্চিমা সমাজ প্রাচ্যকে নিয়ে কীভাবে বায়াসড ধারণা তৈরি করে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করে। সাঈদ তত্ত্বে জ্ঞানকাঠামোর এবং অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহার ও বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন