<p>বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে আজ শুক্রবার। মহাষষ্ঠীর পুণ্যতিথিতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনসহ দেশের মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর পূজা শুরু হলো। এবার মহামায়ার আগমন ঘটেছে ঘোটকে (ঘোড়ায়) আর বিদায় নেবেন নৌকায়। কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে বাপের বাড়ি মর্ত্যলোকে আসা দেবী দুর্গার চরণে আজ ভক্তরা অঞ্জলি দিচ্ছেন পৃথিবীর সব আসুরিক শক্তির বিরুদ্ধে বিজয় এবং মানুষের কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রার্থনায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/m11vn00h/Durga-PujaDipu16102601.jpg"><figcaption>ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বাহারি ফুল আর ধর্মীয় নানা উপাচারে সাজিয়ে তোলা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/69nqqrk0/Durga-PujaDipu16102602.jpg"><figcaption>মহাষষ্ঠীর পুণ্যলগ্নে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিশেষ ধর্মীয় আচার ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন পুরোহিতেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/fi96wkzu/Durga-PujaDipu16102603.jpg"><figcaption>দুই হাত জোড় করে প্রার্থনা করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/4hwamysq/Durga-PujaDipu16102604.jpg"><figcaption>দুর্গাপূজার মূল আকর্ষণ ঢাকের আওয়াজ; ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ঢাকের চেনা বোলে উৎসবের আমেজ।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/ubmxxj2k/Durga-PujaDipu16102605.jpg"><figcaption>দেবীর দর্শনে ও প্রার্থনায় মগ্ন হতে মহাষষ্ঠীর দিন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সমবেত হয়েছেন নানা বয়সী মানুষ। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/6tt3wkvi/Durga-PujaDipu16102606.jpg"><figcaption>চারপাশে সমবেত ভক্তদের উপস্থিতিতে ধূপ-ধুনো আর প্রদীপ জ্বেলে দেবীর আরতি ও শাস্ত্রীয় আচার সম্পন্ন করছেন পুরোহিত। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/7njqn8ys/Durga-PujaDipu16102607.jpg"><figcaption>দেবীর বোধন শেষে মহামায়ার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ও নিখিল বিশ্বের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/797pwnvq/Durga-PujaDipu16102608.jpg"><figcaption>দুর্গোৎসবের অন্যতম পবিত্র অনুষঙ্গ চণ্ডীপাঠ; মহাষষ্ঠী উপলক্ষে চণ্ডীপাঠে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/35277cbq/Durga-PujaDipu16102609.jpg"><figcaption>দুই হাত জোড় করে দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এক নারী। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/j2ra9jrk/Durga-PujaDipu16102610.jpg"><figcaption>পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়ে প্রদীপ জ্বালাচ্ছেন ভক্তরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/8agv9t74/Durga-PujaDipu16102611.jpg"><figcaption>ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/xqzl01k4/Durga-PujaDipu16102612.jpg"><figcaption>ঢাক, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সূচনা হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের। </figcaption></figure>
গাইবান্ধায় বিয়ের আগের রাতে অসুস্থ হয়ে বরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা বিয়ের কথা থাকলেও সেই সময়ই তাঁর দাফন হবে। শোকাহত স্বজনেরা।
ভারত ছাড়ার নির্দেশ পাওয়ার পর ইমরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পরিচালক কিরণ রাও ও অভিনেত্রী সাবা আজাদ।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/wib3kzne/1.jpg"><figcaption>হেমন্ত আসতে আর দেরি নেই। সকালের সূর্যের স্বর্ণালি আলো যেন ছড়িয়ে দিচ্ছে সেই বার্তা। বাংলাবাজার, পাবনা, ১৬ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/5iejof2f/2.JPG"><figcaption> ধানখেতের পানিতে মাছের আনাগোনা। তাই সকালেই বড়শি ফেলেছেন একজন। চিলারঝার, রংপুর, ১৬ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/m3fhu0h7/3.jpg"><figcaption>রুবি ডাঙ্গা বিলে পেতে রাখা হয়েছে মাছ ধরার ফাঁদ। সকালেই সেখান থেকে মাছ তুলতে এসেছেন এই ব্যক্তি। সোন্দাবাড়ী গ্রাম, গাবতলী উপজেলা, বগুড়া, ১৬ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/0dv3dcwf/4.JPG"><figcaption> বাঁশ দিয়ে নিজেই মাছ ধরার ফাঁদ ‘চারো’ তৈরি করেন এই ব্যক্তি। ধরা পড়া মাছ সাইকেলে করে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়ক এলাকা, খুলনা, ১৬ অক্টোবর </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/rn50a7eu/5.JPG"><figcaption>ঘাসের মধ্যে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি খঞ্জনা পাখি। রায়েরমহল, খুলনা, ১৬ অক্টোবর সকালে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/cx7p6cig/6.jpg"><figcaption> লাল আর সাদা শাপলাই দেখা যায় বেশি। চোখ আটকে যায় এমন নীল শাপলায়। মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ এলাকা, কুমিল্লা, ১৬ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/g8xvq4ak/7.jpg"><figcaption>নিজের তৈরি ডালা-খালোই পাইকারি দরে বিক্রির জন্য ভাঙ্গা বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন একজন। সুন্দরদি এলাকা, মুকসুদপুর উপজেলা, গোপালগঞ্জ, ১৬ অক্টোবর</figcaption></figure>
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিজেই নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ক্লড এআই মডেলের নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক।
<p>বেলা আড়াইটার দিকে অফিস থেকে বের হয়েই আমি ফোন অফ করে দিলাম। বুঝতে পারছি যে মাস দুয়েকের মধ্যেই আমার চাকরি চলে যাবে। যাওয়ারই কথা। কাউকে পাগল সন্দেহ করতে শুরু করলে কোনো অফিসই তাকে আর রাখে না।</p><p>প্রতি সপ্তাহের সোমবার আর বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটা পার হলেই, আমার অফিস থেকে বের হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়াটা আমার সিনিয়ররা প্রথম প্রথম অগ্রাহ্য করলেও, পরে নড়েচড়ে বসেছে। শুরুতে তারা মনে করেছে, আমি কোনো গোপন অপরাধ বা মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়েছি। এখন তাদের অনুমান, আমার মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।</p><p>আমার স্ত্রীর সন্দেহ অবশ্য অন্য কিছু।</p><p>শেষ নভেম্বরে, মানে অগ্রহায়ণের এই পড়ন্ত দুপুরে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে এসে একাই দুই সিটের টিকিট কেটে জামালপুরের বাসে উঠে বসলাম। জানালার পাশের সিটে বসেছি। হাইওয়ের পাশে নবান্নের শেষে পড়ে থাকা শূন্য ধানখেত, হেমন্তের বিকেল এবং কুয়াশার–দূরবর্তী চিহ্ন পেরিয়ে বাস যখন হামিদপুরের দিকে ছুটছে, তখন প্রথমবার তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা ভাবছিলাম। </p><p>‘আপনি বলছেন আপনি ময়রা না?’ </p><p>‘নাহ্। মিষ্টি বানাইতে পারি না</p><p>তো আমি।’</p><p>‘আপনার পেশা কী তাহলে? কী করেন?’ </p><p>‘ছুতার বোঝেন?’ </p><p>‘কাঠমিস্ত্রি?’</p><p>‘হুঁ। কাঠের কাজ পারি আমি। অর্ডারে মানুষের জন্য কাঠের জিনিস বানাই।’</p><p>‘আচ্ছা। আমাকে বলা হয়েছিল আপনি মিষ্টি বিক্রেতা। সে কারণেই আসা এখানে, আপনার কাছে। ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে আমাকে?’</p><p>‘নাহ্। তথ্যে ভুল নাই।’</p><p>‘তাহলে?’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/azmucnt57i">হে-ই, কাম অন আ-উট!</a></aside><blockquote>হাইওয়ের পাশে নবান্নের শেষে পড়ে থাকা শূন্য ধানখেত, হেমন্তের বিকেল এবং কুয়াশার–দূরবর্তী চিহ্ন পেরিয়ে বাস যখন হামিদপুরের দিকে ছুটছে, তখন প্রথমবার তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা ভাবছিলাম।</blockquote><p>উনি কিছু একটা বলতে গিয়েও থামলেন। চোখ ছোট হয়ে এল তাঁর, যেন কিছু চিন্তা করছেন বা হয়তো কোনো গোপন দ্বিধা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছেন। বারান্দায় বসেছিলাম আমরা। সন্ধ্যার অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসায় তাঁর মুখের অভিব্যক্তি ভালো করে তখন আর পড়তেও পারছি না। ঘরের ভেতরে থালাবাসন নাড়াচাড়ার শব্দ আসছিল। আমি কিছুক্ষণ ধৈর্য্য ধরে থাকার পরে তিনি ধীরে ধীরে বললেন—</p><p>‘শুধু সন্দেশ বিক্রি করি আমি। তা–ও সপ্তাহে দুই দিন। সোমবার আর বৃহস্পতিবার, হামিদপুর হাটে। ময়রা বলা যাবে না, ওনারা আলাদা। আমি খুব ভালো পারিও না।’</p><p>‘আপনার সন্দেশ তো শেষ হয়ে যায়। চাহিদা অনেক শুনেছি।’</p><p>‘হাটে যেসব জিনিস ওঠে, কিছুই থাকে না, সবই বেচা হয়। আমারটা একটু আগে শেষ হয়।’</p><p>‘আপনার সন্দেশে বিশেষ কিছু নাই বলছেন?’</p><p>উনি গলা থেকে লাল রঙের হরতন ইশকাপনের মাফলার খুলে কোলের ওপর রাখলেন। বাঁ হাতের তর্জনীর আংটিটি দুইবার আলগা করে আবার শক্ত করে আঙুলে পরলেন। আমি বুঝলাম, উনি ভেতরে–ভেতরে অস্থিরতাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। অন্ধকারে বুঝতে পারলাম না আংটির পাথরটা কী। খেয়াল করলাম, তাঁর হাতে আরও দুটি আংটি। একটিতে পাথর আছে, অন্যটি সাধারণ তামার।</p><p>‘দেখেন, কোনো একটা জিনিসের স্বাদ সবার কাছে তো এক রকম হয় না। একেকজনের অভিজ্ঞতা একেক রকম। ১০ জনে কোনো একটা ঘটনা ঘটতে দেখলে, আপনি জিগাবেন তো ১০ জন ১০ রকমভাবে বলবে।’</p><p>‘তা ঠিক। চাইলেই আপনার বানানো সন্দেশ খাওয়ার তো কোনো সুযোগ নাই, যা বুঝলাম।’</p><p>‘সময়মতো আসতে হবে, হাটের দিন।’</p><p>‘হুঁ। চাইলে কি কেউ সব সন্দেশ কিনে নিতে পারবে? আমি যদি চাই।’</p><p>‘নাহ্। একজনরে একটার বেশি দিই না।’</p><p>শেষের কথাটা খুব কঠিন স্বরে বললেন উনি। বুঝলাম আর বেশি কিছু বলতে চান না। কথা এগোনোর ব্যাপারে আর আগ্রহ নেই তাঁর। সাবধানী হয়ে গেছেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/qi1lq06816">শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল</a></aside><blockquote>উনি গলা থেকে লাল রঙের হরতন ইশকাপনের মাফলার খুলে কোলের ওপর রাখলেন। বাঁ হাতের তর্জনীর আংটিটি দুইবার আলগা করে আবার শক্ত করে আঙুলে পরলেন।</blockquote><p>ঠিক ওই মুহূর্তে বাড়ির পেছনের দিকের কোথাও থেকে এমন এক গা হিম করা আওয়াজ এল হঠাৎ করে, আমার অস্বস্তি লাগতে শুরু করল। তীব্র ধাতব বিষণ্ন আওয়াজ। টক…। এরপর একটু বিরতি দিয়ে একটানা আবার। টক…টক। মনে হচ্ছিল কোনো একটা প্রাণী; প্রচণ্ড ভয় এবং যন্ত্রণায়, গলা দিয়ে নয়, তার পাকস্থলীর গহিন থেকে উঠে আসছে এই আওয়াজ। আমার মনে পড়ল, কয়েক বছর আগে একবার এই ডাক শুনেছিলাম। এক রাতে সুন্দরবনের গহিনে, লোকালয় থেকে ৭০-৮০ কিলোমিটার দূরে আমাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছিল। বুড়িগোয়ালিনী, আড়পাংগাশিয়া আর শিবসার মোহনা থেকে একটু দূরে। ভয়ানক সেই রাতে, যখন কুয়াশা, আকাশ আর নদীর পানি মিলে সব দিক এক অলৌকিক সাদা রঙে আচ্ছন্ন, মনে হচ্ছিল অসীম মহাশূন্যের কোথাও আমাদের নৌকা স্থির হয়ে আছে। দুপুররাতে, জঙ্গলের কোথাও থেকে তিনবার ভেসে এসেছিল এই ডাক।</p><p>তবে তখন এত ভয় লাগেনি, যেমন এখন লাগল। মনে হচ্ছিল, এই জগৎ নয়, পরকালের কোথাও থেকে ভেসে এল এই আওয়াজ। আমাকে অন্যমনস্ক হতে দেখে উনি বললেন—</p><p>‘পাখি। আতস পাখি।’</p><p>‘রাতচরার ডাক। আতস বলেন আপনারা?’</p><p>‘হুঁ।’</p><p>বুঝলাম, যে কাজে এসেছিলাম, সেটা হওয়ার আর আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই। যা বলার উনি বলেছেন। যত জিজ্ঞাসাই করি, এর বেশি কিছু আর জানাবেন না। আর কেনই–বা সেটা করবেন! কোনো কারণ নেই।</p><p>আমি উঠতে চাইলাম। বললাম—</p><p>‘আমি উঠি। সম্ভব হলে এর মধ্যে কোনো এক হাটের দিন চলে আসব। সেদিনই আমার দরকারটা আপনাকে জানাব।’</p><p>‘পাকশাকের কথা জানাইছিলাম ভেতরে। আমার ঘর আছে আলাদা, কষ্ট হইলেও থাকতে পারবেন রাইতে।’</p><p>‘এখন গেলে রাত দেড়-দুইটার মধ্যে ঢাকায় থাকতে পারব। হাটের দিন দেখে আসব এরপর।’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/bvzg7a1tgm">মিরা</a></aside><blockquote>বুঝলাম, যে কাজে এসেছিলাম, সেটা হওয়ার আর আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই। যা বলার উনি বলেছেন। যত জিজ্ঞাসাই করি, এর বেশি কিছু আর জানাবেন না। আর কেনই–বা সেটা করবেন!</blockquote><p>উনি আর কিছু বললেন না। বোঝা যায়, কোনো কিছু নিয়ে অনুরোধ করা বা দ্বিতীয়বার বলা ওনার স্বভাবে নাই। আমি উঠে পড়লাম। মনে মনে আশা করেছিলাম, উনি আমাকে বাড়ির বাইরে পর্যন্ত এগিয়ে দিতে আসবেন। কিন্তু বসে রইলেন ওভাবেই। পেছন থেকে শুধু বললেন—</p><p>‘সামনে ভ্যান পাওয়া যাবে। হামিদপুর বাজারে ঢাকার বাস পাবেন। কিন্তু সেখানে যাইতে টাইম বেশি লাগবে। আর এই দিকে পেছনের দিকে ব্রাহ্মণ শাসন বাজার থিকাও পাবেন বাস। ভ্যানওয়ালারে ব্রাহ্মণ শাসন বাজারে নিয়ে যাইতে বলবেন।’</p><p>তাঁর কোনো কথাই আমার অবিশ্বাস করার মতো মনে হয়নি। মনে হয়নি কোনো ধরনের বুজরুকি তার ভেতরে আছে। তবে বুঝতে পারছিলাম, সন্দেশ বিক্রি করা নিছক শখের ব্যাপার নয় তাঁর। শুধু সন্দেশ বিক্রি করার জন্য সন্দেশ বিক্রি করেন না তিনি। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। শুধু আমি যেটা অনুমান করছিলাম, তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছিলাম না।</p><p>বাস থেকে যখন হামিদপুর হাটে নামলাম, তখন প্রায় সন্ধ্যা।</p><p>হাটের ভেতর প্রথম প্রথম তাঁর সন্দেশের দোকান খুঁজে পেতে সময় লাগত। এখন খুঁজতে হয় না, চোখ বন্ধ করেও বের করতে পারব। হাটের যেদিকটায় মসলার হাট, সেদিকটাতে একটা জিলাপির দোকানের পাশে তিনি বসেন। ওদিকটাতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেশিনে ভাঙানো মসলার তীব্র ঘ্রাণ নাকে এসে লাগে।</p><p>তাঁর সামনে মুখ কাটা এক পুরোনো টিনের ভেতরে থাকে সন্দেশ। আমি জানি, এর মধ্যে একটা বা একাধিক অলৌকিক সন্দেশ আছে। তাঁর নিজে নিজেই এক মহাজাগতিক খেলা খেলার উপাদান।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/3keei9hpsk">সময়</a></aside><blockquote>মনে হয়নি কোনো ধরনের বুজরুকি তার ভেতরে আছে। তবে বুঝতে পারছিলাম, সন্দেশ বিক্রি করা নিছক শখের ব্যাপার নয় তাঁর। শুধু সন্দেশ বিক্রি করার জন্য সন্দেশ বিক্রি করেন না তিনি।</blockquote><p>আমি সামনে দাঁড়ানোমাত্রই টিনের ভেতর থেকে একটা সন্দেশ বের করে কাগজে মুড়ে আমার দিকে বাড়িয়ে ধরলেন উনি। আমি হাতে নিয়ে ৩০ টাকা দিলাম তাঁকে।</p><p>আমি থাকা অবস্থায়ই আরও দু-তিনজন ক্রেতা এসে সন্দেশ নিল।</p><p>এই সন্দেশ দেখতে নিতান্তই সাধারণ। গ্রামের কোনো নবিশ কারিগরের হাতে তৈরি হলে যেমন হওয়ার কথা, ঠিক তেমনই। চ্যাপটা আকৃতির। বোঝা যায়, বানানোর সময় হাতের আঙুল ব্যবহার করা হয়েছে।</p><p>আমি কোনা ভেঙে সন্দেশ মুখে দিলাম। প্রতিবারের মতো ওই একই স্বাদ, যে রকম হওয়ার কথা। অবশ্যই আহামরি কিছু নয়, খুবই আটপৌরে ধরনের স্বাদ।</p><p>তবে সেদিনের মতো কিছু ঘটবে, এ রকম আশা আমার খুব একটা ছিল না।</p><p>মাঝেমধ্যে আমার সন্দেহ হয়েছে যে সেদিনের ওই ঘটনা নিশ্চয়ই হ্যালুসিনেশন ছিল। সেদিন আমার এক কলিগের গ্রামের বাড়িতে রাতে খাওয়া শেষে আমাকে দেওয়া সন্দেশ মুখে দেওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে যা ঘটল, সেটা হয়তো হ্যালুসিনেশনই। কিন্তু আমার এই জীবনের এত দিনে কেন হয়নি সেটা! এ রকম স্মৃতি আমার আসলে নাই। আমার জীবনে এ রকম কিছু ঘটেইনি! তাহলে একবারও কেন ওই স্মৃতি মনে আসেনি, সেদিন যেভাবে এল! এবং হ্যালুসিনেশনে কেন আমি ওই ঘটনাটিই দেখলাম! দেখলাম যে ৯ বছরের আমি জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে আছি, আমার দৃষ্টি জানালার ভেতরে। ভয়ে আর তীব্র আতঙ্কে আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।</p><p>আমি যদি ওই দিন ওই সন্দেশ পুরো খেয়ে ফেলতাম, তাহলে কী ঘটত! আবার যদি ওই দিনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে এই হ্যালুসিনেশন কি আমার স্মৃতির অন্ধকারের সেই একই জায়গায় ল্যান্ড করবে! একই ঘটনাই দেখব? নাকি এটা হ্যালুসিনেশনের চেয়ে বেশি কিছু ছিল!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/uzajhdphpo">বাগানবিলাস</a></aside><blockquote>সেদিন আমার এক কলিগের গ্রামের বাড়িতে রাতে খাওয়া শেষে আমাকে দেওয়া সন্দেশ মুখে দেওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে যা ঘটল, সেটা হয়তো হ্যালুসিনেশনই।</blockquote><p>হ্যালুসিনেশন নিয়ে আমার কিছু উপলব্ধি ঘটেছে এর মধ্যে। আমাদের অভিজ্ঞতার পুরোটাই আসলে হ্যালুসিনেশন। স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের যে চেতনা, সেটা পুরোপুরি স্বচ্ছ একটা জিনিস। তবে সেই চেতনা বা কনশাসনেস হলো বাস্তবতাকে দেখার একটা জানালা শুধু, সেই চেতনা দিয়ে সম্পূর্ণ বাস্তবতাকে দেখা যায় না। স্বাভাবিক চেতনা দিয়ে বাস্তবতা সম্পর্কে আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়, সেটা নিয়ন্ত্রিত হ্যালুসিনেশন। চেতনা মুক্ত বা স্বাধীন হয়ে গেলে যে হ্যালুসিনেশন হয়, সেটা আরও বড় বাস্তবতা।</p><p>প্রতিবার এখান থেকে সন্দেশ খেয়ে যাওয়ার পরে সারা রাত আমার উদ্ভ্রান্ত কাটে। সব রাত আমি পায়চারি করে কাটাই। প্রথম প্রথম আমার স্ত্রী ব্যাপারটা মানতে পারত না, চিৎকার করত। এখন সে ব্যাপারটার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে যে প্রতি সোমবার আর বৃহস্পতিবারে আমি ফোন বন্ধ করে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার পরে, মাঝরাতের আগে আগে ঘরে ফিরব এবং সারা রাত না ঘুমিয়ে কী যেন চিন্তা করব। এবং একসময় আমার চোখ লাল হয়ে যাবে। কিছু জিজ্ঞাসা করলে আমি উত্তর দিতে পারব না এবং আমাকে দেখে মনে হবে আমি আসলে কিছুই শুনিনি।</p><p>এখন সে আর কিছু বলে না। মাঝেমধ্যে ঘুম থেকে উঠে আমাকে অন্ধকারে পায়চারি করতে দেখে প্রচণ্ড গ্লানি আর হতাশা নিয়ে আমার দিকে তাকায় এবং কিছুক্ষণ পরে ফিরে যায়।</p><p>অফিসেও আমাকে প্রায় একঘরে করে দেওয়া হয়েছে। মাস তিনেক হলো আমাকে আর নতুন কাজ দেওয়া হচ্ছে না। অফিসের সবাই আমার সঙ্গে কাজের ব্যাপারে ইন্টারঅ্যাকশন কমিয়ে দিয়েছে। বসও আমাকে এখন এড়িয়ে চলতে চান।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/3l7r1kr9jt">উড়োহুমকি</a></aside><blockquote>প্রতিবার এখান থেকে সন্দেশ খেয়ে যাওয়ার পরে সারা রাত আমার উদ্ভ্রান্ত কাটে। সব রাত আমি পায়চারি করে কাটাই। প্রথম প্রথম আমার স্ত্রী ব্যাপারটা মানতে পারত না, চিৎকার করত।</blockquote><p>এর মধ্যে আমি ভাবি, সামান্য এক সন্দেশ কীভাবে আমার সব চিন্তাভাবনা দখল করে ফেলল। কীভাবে একটা সন্দেশ ও তার বিক্রেতা আমার বাস্তবতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল! র্যান্ডম সিলেকশনে কোনো এক বিশেষ সন্দেশ খাওয়ার মাধ্যমে আমার কনশাসনেসের কোনো এক প্রান্তের এক অন্ধকার ঘরের দরজা খুলে একটা ঘটনার স্মৃতি উদ্ধার ছাড়া আমার চিন্তায় এখন আর কিছুই কাজ করে না।</p><p>গত এক বছরে সপ্তাহে দুই দিন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার, ঢাকা শহর থেকে দূরে এক মফস্সলের হাটের এক সন্দেশ বিক্রেতার কাছে থেকে, যে সন্দেশ বিক্রেতার উদ্দেশ্য অজ্ঞাত কিছু মানুষকে তাদের অস্তিত্বের ভেতরের কোনো এক গোপন বাস্তবতার মুখোমুখি করিয়ে দিয়ে মজা দেখা, শুধু একটি সন্দেশ খাওয়ার জন্য ছুটে যাওয়া ছাড়া আমার জীবনে আর কিছুই ঘটেনি বলতে গেলে। আমি এই লুপে আটকা পড়ে গেছি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/sagzifd04s">০৪.০৪.৩০০৪</a></aside><blockquote>এর মধ্যে আমি ভাবি, সামান্য এক সন্দেশ কীভাবে আমার সব চিন্তাভাবনা দখল করে ফেলল। কীভাবে একটা সন্দেশ ও তার বিক্রেতা আমার বাস্তবতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল!</blockquote><p>আমি দূর থেকে তাঁর দিকে নজর রাখছিলাম। বিক্রিবাট্টা শেষ করে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমি কথা বলার জন্য তাঁর দিকে এগিয়ে গেলাম। উনি জিজ্ঞাসা করলেন—</p><p>‘সন্দেশ ভালো ছিল আজ?’</p><p>‘ভালো ছিল। মানে অন্যান্য দিনের মতোই।’</p><p>‘আচ্ছা।’</p><p>‘একটা প্রশ্ন করি আপনাকে। এই প্রশ্নের উত্তর অন্তত দিয়েন।’</p><p>হাসলেন উনি আমার দিকে তাকিয়ে। বললেন—</p><p>‘চেষ্টা করি। কী জিজ্ঞাসা আপনার?’</p><p>‘আপনি প্রথম কবে এই হাটে সন্দেশ বিক্রি করা শুরু করলেন?’</p><p>‘বছর চারের মতো।’</p><p>‘এর আগে ফুলটাইম শুধু ছুতারের কাজই করতেন? কাঠের কাজ?’</p><p>‘মাঝখানে ঢাকায় ছিলাম কয় বছর। ফিরে আসার পরে শুরু করছি।’</p><p>আমি বেশ অবাক হলাম। এই তথ্য জানতাম না।</p><p>‘ঢাকায় ছিলেন? কী করতেন সেখানে?’</p><p>‘এক বয়স্ক লোকের দেখাশোনা করতাম। ওনার ছেলেমেয়েরা সব বিদেশে থাকত।’</p><p>আমি আচমকা জিজ্ঞাসা করে বসলাম—</p><p>‘উনি কি কেমিস্ট বা ফার্মাসিস্ট ছিলেন?’</p><p>যেন অসাবধানে এক বিশাল ভুল করে বসেছেন, এমনভাবে আমার দিকে তাকালেন।</p><p>‘তা বলতে পারি না।’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/rg1ouxo5ab">নীল রঙের সেই বোতল</a></aside><blockquote>‘সেটা আমি আপনারে বলব না। সেদিন তো বললাম আপনাকে যে একেকজনের অভিজ্ঞতা একেক রকম। তবে যে পায়, তার ওপরে দুই দিন কাজ করে জিনিসটা।’</blockquote><p>আমি ভেতরে ভেতরে মরিয়া হয়ে উঠছি তখন। বিষয়টি সম্ভবত উনি টের পাচ্ছেন। জিজ্ঞাসা করলাম—</p><p>‘প্রতি হাটবারে যে আপনি এক শ পিস সন্দেশ বানান, এর মধ্যে ওই ধরনের সন্দেশ কয়টা থাকে? সত্য কথা বলবেন।’</p><p>আমি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি তাঁর দিকে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে তিনি উত্তর দিলেন—</p><p>‘সাতটা’</p><p>‘আপনি কি আলাদাভাবে বুঝতে পারেন, কোন সাতটা?’</p><p>‘নাহ্। চিহ্ন রাখা হয় না কোনো।’</p><p>‘কখনো কেউ এসে আপনাকে বলেছে কি না যে সন্দেশ খাওয়ার পর অন্য রকম কিছু ঘটেছে তাদের?’</p><p>‘কী বলবে!’</p><p>‘অস্বাভাবিক কোনো কিছুর কথা!’</p><p>‘বলছে। কেউ কেউ আসে।’</p><p>‘কেমন ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলে? কী দেখতে</p><p>পায় তারা?’</p><p>‘সেটা আমি আপনারে বলব না। সেদিন তো বললাম আপনাকে যে একেকজনের অভিজ্ঞতা একেক রকম। তবে যে পায়, তার ওপরে দুই দিন কাজ করে জিনিসটা।’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/v64ehj8r61">ক্রাইম অন মার্স</a></aside><blockquote>‘তারপর আর কিছু দেখিনি। ওই বাড়ির কথা বলি। ওই বাড়িতে আমার বয়সী ছেলেটার সঙ্গে খেলতে যেতাম। ওর বাবা বিদেশে না অন্য কোথাও থাকত। ওর একটা সৎভাই ছিল ১০-১২ বছর বয়সের।'</blockquote><p>হাটের ভেতর দিয়ে আমার পাশাপাশি হাঁটছিলেন উনি। হঠাৎ করে থেমে গিয়ে আমার মুখের দিকে তাকালেন। অন্ধকারের মধ্যেও আমি টের পেলাম, তীব্র ব্যাকুলতা তাঁর চোখে। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন?</p><p>‘আপনি কী দেখছেন?’</p><p>‘একটা বাড়িতে, জানালার বাইরে আমি দাঁড়ানো। ৯ বছর বয়সের আমি।’</p><p>‘তারপর?’</p><p>‘তারপর আর কিছু দেখিনি। ওই বাড়ির কথা বলি। ওই বাড়িতে আমার বয়সী ছেলেটার সঙ্গে খেলতে যেতাম। ওর বাবা বিদেশে না অন্য কোথাও থাকত। ওর একটা সৎভাই ছিল ১০-১২ বছর বয়সের। আমাদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে খেলতে চাইত। আমাকে আদর করত। আর ওর এক মামা না কে জানি থাকত ওই বাড়িতে। টিনশেড বাড়ি, বারান্দা আছে। সামনে বিশাল উঠান, উঠানে একটা গন্ধরাজগাছ। আমার ধারণা, ওই বাড়িতে ওই দিন ভয়ংকর কিছু একটা হয়েছিল। আমার সামনে ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু আমার কিছু মনে নেই।’</p><p>আমি অন্ধকারের মধ্যেই টের পেলাম, ওনার চেহারায় তৃপ্তির ছাপ ফুটে উঠল। তার এই চেহারা দেখে আমি মরিয়া হয়ে উঠলাম। বললাম—</p><p>‘সেদিন ওই বাড়িতে এই সন্দেশ মুখে দেওয়ার ঘণ্টাখানেক পর আমার ওই স্মৃতি প্রায় ফিরে আসে। আমি ওই ঘটনার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। জানালার শিক ধরে দাঁড়ানো আমি। ভয়ে আর আতঙ্কে আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। ওই দিনের পর থেকে আমি আসলে আর স্বাভাবিক নই, আমি ওই ঘটনার সুরাহা করতে চাই, কী হয়েছিল আমার সামনে। আপনি কি আমার জন্য একটা সন্দেশ আলাদা করে রাখতে পারেন না?’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/oom91r0w22">মৃত গ্রহ</a></aside><blockquote>‘সেদিন ওই বাড়িতে এই সন্দেশ মুখে দেওয়ার ঘণ্টাখানেক পর আমার ওই স্মৃতি প্রায় ফিরে আসে। আমি ওই ঘটনার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। জানালার শিক ধরে দাঁড়ানো আমি।'</blockquote><p>হাঁটতে হাঁটতে ততক্ষণে আমরা হাটের বাইরে চলে এসেছি, রাস্তার কাছে।</p><p>‘নাহ্।’</p><p>‘কোনোভাবে?’</p><p>উনি খুব শান্ত ও ঠান্ডা স্বরে উত্তর দিলেন—</p><p>‘আপনি কি সেই ঘটনা পাল্টাইতে পারবেন?’</p><p>এই প্রশ্ন আশা করিনি আমি। বললাম—</p><p>‘না!’</p><p>আমাকে পেছনে রেখে উনি সামনে এগিয়ে গেলেন। পেছনের দিকে ঘাড় না ঘুরিয়েই বললেন—</p><p>‘তাইলে নিয়মের বাইরে যাব না আমি।’</p><p>আমি রাস্তা পার হয়ে বাসের জন্য দাঁড়ালাম। সোমবারে আমাকে আবার আসতে হবে এখানে, একটা সন্দেশের জন্য।</p><h4>*লেখাটি ২০২৫ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় জুন সংখ্যায় প্রকাশিত</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/hdss9hwack">উদ্ভাবনপটু দেশপ্রেমী</a></aside>
সৈকতের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশাল ‘দানব’ আকৃতির ভাস্কর্য। এর পুরোটাই তৈরি করা হয়েছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে। এটি দেখতে ভিড় করেছেন পর্যটকেরা।
কুমিল্লায় আবার কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ১১ অক্টোবর সপ্তম দফার অভিযানে ৩৫৩ জন এবং ৮ অক্টোবর ষষ্ঠ দফার অভিযানে ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছিল।
ফাইভআর বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সার ডে ২০২৬: দ্য ফিউচার অব ফ্রিল্যান্সিং’ শীর্ষক বিশেষ এ আয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৭০ জন ফ্রিল্যান্সার এবং পেশাজীবী অংশ নেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন