ভারত সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জের দূরত্ব বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষক সেখানে যেতে চান না। কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলেও চেষ্টা-তদবির করে বদলি হয়ে চলে আসেন।
<p>আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে দুটি পদে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য <a href="https://erecruitment.bb.org.bd/career/20261005_bscs_321_1791188486.pdf" target="_blank" rel="nofollow">নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ</a> করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়। পদ দুটি হলো ‘সিস্টেম ম্যানেজার’ এবং ‘প্রিন্সিপাল অফিসার’। আগ্রহী প্রার্থীরা ২৫ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।</p><p>দুটি পদের মধ্যে সিস্টেম ম্যানেজার পদে একজন এবং প্রিন্সিপাল অফিসার পদে ৬১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে।</p><h3>কোন পদে কত বেতন—</h3><p>সিস্টেম ম্যানেজার পদটি তৃতীয় গ্রেডের। এ পদে বেতন স্কেল ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। প্রিন্সিপাল অফিসার পদটি ষষ্ঠ গ্রেডের। এ পদে বেতন স্কেল ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। উভয় পদের বেতনের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা পাবেন কেউ চাকরি পেলে।</p><h3>সিস্টেম ম্যানেজার পদে আবেদনে যোগ্যতা—</h3><p>স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।</p><p>এ ছাড়া সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট অথবা সিনিয়র রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবে অন্তত চার বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রি বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে অন্তত দুটি প্রকাশনা থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-suggestion/xq8op4yi3l">দুই মাসে ক্যাডার হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়</a></aside><h3>প্রিন্সিপাল অফিসার পদে যোগ্যতা—</h3><p>স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার পদে অন্তত দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। শিক্ষাজীবনে অন্তত একটি প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে হবে। কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।</p><p><strong>বয়সসীমা</strong></p><p>২০২৬ সালের ১ জুন তারিখে সিস্টেম ম্যানেজার পদের প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছর হতে হবে। প্রিন্সিপাল অফিসার পদের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৩৫ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/7yol1g4gfb">বিটিভিতে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে আবেদন, বাংলা ও ইংরেজি সংবাদ পাঠের সুযোগ </a></aside><h3>আবেদন যেভাবে—</h3><p>আগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ২০০ টাকা। ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।</p><p>নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন করতে <a href="https://erecruitment.bb.org.bd/" target="_blank" rel="nofollow">বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইটে</a> যেতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/fbgg20k59q">নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা: ২৪টি যোগ্যতা থাকলেই পাবেন পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা </a></aside>
<p>কুয়াশার চাদর সরিয়ে রাঙামাটির পাহাড়ে ফুটে ওঠে নতুন দিনের আলো। কেউ ছুটছেন বিদ্যালয়ের পথে, কেউ কৃষিকাজে। ধানখেত, লেক আর পাহাড়ি পথজুড়ে ভোর থেকেই শুরু হয় মানুষের কর্মব্যস্ততা। মৌনঘর, শিমুজ্জেছড়া ও ভূতের টিলার বিভিন্ন দৃশ্যে ধরা পড়েছে সেই সকাল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/gqqg9smw/1.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>ভোরের কুয়াশায় ঢাকা রাঙামাটির পাহাড়। ধীরে ধীরে ফুটছে সকালের আলো </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/stfconfu/2.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>সকালে স্কুলের পোশাকে ব্যাগ কাঁধে বিদ্যালয়ের পথে চার শিক্ষার্থী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/i5o6h3kq/3.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption> কাজে চলেছেন পাহাড়ি নারীরা। পাশ দিয়ে বিদ্যালয়ের পথে শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/uer50yzr/4.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>ধানের শিষ পরীক্ষা করছেন প্রবীণ এক কৃষক। হাতে কাস্তে </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/q5wyuwpc/5.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>কুয়াশাঢাকা লেকে নৌকায় জাল ফেলতে যাচ্ছেন জেলেরা </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/d1yqq0xl/6.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>ধানখেতের সরু আলপথ ধরে হেঁটে চলেছেন এক প্রবীণ পাহাড়ি নারী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/1vwwlkg8/7.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>কাঁধে দা নিয়ে কর্মস্থলের পথে এক পাহাড়ি কৃষক </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/0sw67mrg/8.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>বাঁশের বেড়াঘেরা খেতে আগাছা পরিষ্কার করছেন এক পাহাড়ি নারী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/ayfrc3f7/9.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption> ধানখেতের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছেন এক প্রবীণ কৃষক </figcaption></figure>
২০ বছরের বেশি সময় ধরে দুই পায়ে ল্যাপটপ চালানো ও লেখালেখির কাজ করছেন রাশিদুল আজম নামের এক ব্যক্তি
<p> কূটনৈতিক একঘরে দশা, অর্থনৈতিক অবরোধ আর সামরিক আক্রমণের ধাক্কা সামলে অবশেষে ইরান তার সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন—ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা সেই যুদ্ধে টিকে গেছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে এখন তেহরানের দিনগুলো বেশ ভালোই যাচ্ছে বলা যায়। </p><p>ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস এবং সরকার পতনের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বোমাবর্ষণ করলেও তা মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়। উল্টো, যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে তেহরান এখন আরও শক্তিশালী। তারা হরমুজ প্রণালি দখল করে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এখন আকাশচুম্বী।</p><p>প্রচণ্ড বোমাবর্ষণের মধ্যেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন কমছে এবং ওয়াশিংটনের ওপর আন্তর্জাতিক ক্ষোভ বাড়ছে। তাই বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান আগামী বছরজুড়ে এই একই কৌশল ধরে রাখবে।</p><p>ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে টিকে থাকায় ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে সাফল্য ও বিজয়ের বড়াই করলেও ভেতরে ভেতরে তাঁরা উদ্বিগ্ন। কারণ তাঁরা জানেন, ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর মতো অনেক পথ ও অস্ত্র এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়ে গেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/ig3vm8h24n"> ইরান যেভাবে যুদ্ধরীতির ধরন বদলে দিল</a></aside><p>যুক্তরাষ্ট্র ভাবতে পারে যে ইরানের ভয়কে কাজে লাগিয়ে চাপ দিয়ে তাদের নতি স্বীকার করানো যাবে। কিন্তু এতে তেহরানের আসল মনোভাব ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।</p><p>যুদ্ধে স্বজন ও সহকর্মীদের হারিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন আরও কঠোর। শত্রুকে চিরতরে পরাস্ত করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।</p><p>তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান এখন প্রতিনিয়ত সংঘাত বাড়ানো এবং আক্রমণাত্মক থাকার কৌশল নিয়েছে। তেহরান কোনো সমঝোতায় তো যাবেই না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থনীতি ধ্বংস ও জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। </p><p>সেই সঙ্গে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা বাড়ানো, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যার চেষ্টা চালানো, এমনকি প্রতিবেশীদের ওপর পদাতিক হামলা চালিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি দখলের চেষ্টাও তাদের কৌশলে রয়েছে। </p><p>দুটি পক্ষই যদি সাময়িক চুক্তিতে পৌঁছায়, তবু সেই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ তেহরানের বিশ্বাস, ওয়াশিংটন সময় নিয়ে শক্তি গুছিয়ে আবার আক্রমণ করবে। তাই মার্কিন উসকানির জবাব দিতে বা উসকানি ছাড়াই হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত।</p><p>সহজ কথায়, তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে টিকে থাকাকে ওয়াশিংটনের জন্য এতটাই যন্ত্রণাদায়ক করা, যাতে তারা সৈন্য প্রত্যাহার করতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে এবং তেহরানকে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/v19cvyac/V6WT4HXMV5MYPJYMO6CVMS3QTE.avif"><figcaption>বাহরাইনের মানামায় বিকট বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে</figcaption></figure><h3>ভয় ও ঘৃণা</h3><p>হামলা শুরুর সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সর্বোচ্চ নেতা খামেনির বাসভবনে বৈঠকে ছিলেন। আরাগচি যখন পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের আশঙ্কার কথা জানিয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ব্রিফ করছিলেন, ঠিক তখনই ওপর থেকে বোমাবর্ষণ শুরু হয়।</p><p>প্রথম দফাতেই খামেনির বাসভবনে হামলায় সর্বোচ্চ নেতাসহ বহু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। তবে আরাগচি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। ধূলিমলিন অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে তিনি একটি চলন্ত গাড়িতে উঠে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান। সেখানে গিয়েই তিনি সামরিক কমান্ডার ও বিদেশি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং বেঁচে থাকা অন্য কর্মকর্তারাও দ্রুত তাঁর সঙ্গে যোগ দেন।</p><p>শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হতে পারে—এমন পরিস্থিতির প্রস্তুতি তেহরানের আগেই ছিল। সরকার আগের বছর থেকেই প্রশাসনিক ও সামরিক বিকেন্দ্রীকরণ করে রেখেছিল, যাতে কেন্দ্র ছাড়াই গভর্নর ও কমান্ডাররা কাজ চালাতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিটি জ্যেষ্ঠ পদের জন্য অন্তত দুজন করে উত্তরসূরি ঠিক করা ছিল, যাতে কোনো নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি না হয়।</p><blockquote>ইসলামিক রিপাবলিকের নেতৃত্বের বিশ্বাস, ট্রাম্প প্রশাসনের কথাবার্তা ও পদক্ষেপই ইরানের জনগণকে সরকারের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তাদের দাবি, অনেক বিদেশি সরকার গোপনে ইরানি কর্মকর্তাদের জানিয়েছে যে মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ইরানের এই প্রতিরোধকে তারা শ্রদ্ধা করে।</blockquote><p>বিদ্যুৎ ও পরিবহনের মতো বেসামরিক অবকাঠামোয় মার্কিন হামলা ইরানি অভিজাতদের ক্ষিপ্ত করে তোলে, যা তাদের শত্রুভাবাপন্নতা আরও বাড়িয়ে দেয়। তারা নিশ্চিত হয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেবল তাদের সরকার ধ্বংস করতে চায় না, বরং পুরো ইরান রাষ্ট্রটিকেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়।</p><p>ফলে তেহরান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক রূপ নেয়। মোজতবা খামেনি নিহত ব্যক্তিদের স্থলে কঠোরপন্থী সামরিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে আক্রমণাত্মক অভিযানের নির্দেশ দেন। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব মহসেন রেজাই ঘোষণা করেন, মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি তারা এবার মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পদ ও তেল কোম্পানিতেও আঘাত হানবেন।</p><p>শাসনগোষ্ঠীর এই নতুন কৌশলের উদ্দেশ্য কেবল মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ গড়া নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়া। এ জন্য ইরানের কৌশল হচ্ছে, বড় সংঘাতের মধ্যবর্তী সময়ে সীমিত হামলার মাধ্যমে শত্রুর শক্তি কমানো হয়। তেহরানের আশা, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র একসময় নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়ে অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/9jfs084q/SRA2WT6LN5FXPIVLHMVN6F3SVY.avif"><figcaption>ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানের শারান তেল ডিপোতে বিস্ফোরণের ফলে আগুন ও ধোঁয়া উড়ছে; পাশে উড়ছে ইরানের জাতীয় পতাকা। </figcaption></figure><h3>সুযোগের সদ্ব্যবহার</h3><p>ইরানের নেতারা নিজেদের কৌশলের ফলাফলে বেশ সন্তুষ্ট। তাঁদের বিশ্বাস, অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ব্যাপক বাড়িয়ে দেওয়ার কারণেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা সীমিত করেছে এবং সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমাতে বাধ্য হয়েছে।</p><p>তবে ইরানি অভিজাতরা নিজেদের চূড়ান্ত বিজয়ী মনে করেন না। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইসলামিক রিপাবলিকের পতন আসন্ন বলে দাবি করে আসছেন। সামরিক শক্তিমত্তা দেখানোর পরও তাঁরা ইরানকে দুর্বল হিসেবেই তুলে ধরছেন। </p><p>তেহরানের দৃষ্টিতে বাস্তবতার সঙ্গে শত্রুদের এই ভুল ধারণার ফারাক অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইরানি কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, ওয়াশিংটন যদি মনে করে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হামলা বা অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভেই তাদের পতন হবে, তবে তারা চাপ দেওয়া থামাবে না।</p><p>অতীতে কিছু ইরানি নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আশা করলেও, এখন শাসকগোষ্ঠীর কেউই তা আর বিশ্বাস করে না। তারা নিশ্চিত যে ওয়াশিংটন কখনোই সততার সঙ্গে চুক্তি মানবে না। </p><p>এর প্রমাণ হিসেবে তারা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বেরিয়ে যাওয়াকে দেখে। এমনকি ২০২৫ সালের জুন ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি—দুইবারই আলোচনার টেবিলে বসা অবস্থাতেই মার্কিন হামলার শিকার হয় ইরান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/09pdufpxmy">ইরান নিয়ে যে চিঠি পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীদের মুখোশ আবারও খুলে দিল</a></aside><p>ইরানি শাসকগোষ্ঠী এটাও আশঙ্কা করছে যে তাদের এই সুবিধাজনক অবস্থান চিরস্থায়ী হবে না। পর্যাপ্ত সময় পেলে বিশ্ব অর্থনীতি পারস্য উপসাগরের বিকল্প রুট খুঁজে নিতে পারে, ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের যে অর্থনৈতিক সুযোগ ইরানের হাতে আছে, তা কার্যকারিতা হারাবে।</p><p>অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের অবস্থান দিন দিন আরও শক্তিশালী হতে পারে। ইরানি নেতাদের মতে, সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় রিপাবলিকানদের জয়ের স্বার্থে এবং যুদ্ধ মার্কিন জনমতে অপ্রিয় হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন সংযত আছেন। তবে নির্বাচন পার হয়ে গেলে তাঁকে আর জনমত নিয়ে ভাবতে হবে না।</p><p>তেহরান ২০২৮ সালে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের আশা করলেও তাতে লাভ দেখছে না। একজন নরমপন্থী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারেন; কারণ তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নত করে বিশ্বজুড়ে ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলতে বেশি সক্ষম হবেন।</p><p>তাই ইরানি শাসনগোষ্ঠী হাত গুটিয়ে বসে না থেকে এখনই ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করবে।</p><p>প্রথমত, সরকার পারস্য উপসাগর থেকে গ্যাস ও তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের পদক্ষেপ নিতে পারে। তেহরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বাণিজ্যের একটি বড় অংশ অচল করলেও কিছু উপসাগরীয় দেশ এখনো ভারত মহাসাগর বা লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পাঠাতে পারছে।</p><blockquote>তেহরান সেই চূড়ান্ত পদক্ষেপটি নিতে পারে, যা আমেরিকা ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছেন এবং ঠেকানোর চেষ্টা করছেন: পারমাণবিক বোমা তৈরি। নেতারা যদি মনে করেন মার্কিন হামলা ঠেকানোর এটিই একমাত্র পথ, তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তটিকেই তারা সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে বেছে নিতে পারেন।</blockquote><p>এই রুটগুলো পুরোপুরি অচল করতে ইরান তাদের তেল উৎপাদন কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দরে সরাসরি হামলা চালাতে পারে। পাশাপাশি, তারা ইয়েমেনের হুতি মিত্রদের সঙ্গে মিলে লোহিত সাগরে জাহাজে আক্রমণের হুমকি দিয়ে সেই পথও বন্ধ করে দিতে পারে। </p><p>দ্বিতীয়ত, ইরান তার প্রত্যক্ষ শত্রুদের ওপর আক্রমণ আরও তীব্র করতে পারে। এর অর্থ হতে পারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো কিংবা মার্কিন বেসামরিক অবকাঠামোয় সাইবার হামলা করা।</p><p>পুনরায় আক্রমণ হলে, ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সুপেয় পানি শোধনকেন্দ্রগুলোর মতো বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকেই বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে।</p><p>সর্বশেষ, তেহরান মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যার পুরোনো কৌশলে ফিরে যেতে পারে। ১৯৮০-এর দশকে ইসলামিক রিপাবলিক ও তাদের লেবানিজ শিয়া মিত্ররা ইউরোপে ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যা এবং বোমা হামলায় শত শত মার্কিন ও ফরাসি সেনাকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল। </p><p>অবশ্য, শীর্ষ মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের হত্যা করা ইরানের জন্য সহজ হবে না। কারণ, ইসরায়েল বা ওয়াশিংটনের মতো ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান বা অত উন্নত গোয়েন্দা ব্যবস্থা নেই। তবে তেহরানের হাতে অন্যান্য বিকল্প পথ খোলা আছে।</p><p>তারা ছদ্মবেশে গুপ্ত অভিযান চালিয়ে বা আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে। শীর্ষ নেতা না পেলেও তারা তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মীদের নিশানা করতে পারে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/nx5zv1iz/2A6ARY6LVZLTHMTKPNZIO46DDQ.avif"><figcaption>ইরানের তেহরানের একটি রাস্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি সংবলিত ব্যানারের পাশে প্রদর্শিত হচ্ছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র</figcaption></figure><h3>সংঘাতের তীব্রতা</h3><p>ইরান হয়তো মনে করতে পারে যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো একই পথ অবলম্বন করে তারা শত্রুকে নিরস্ত করতে পারবে। তবে এতে কাজ না হলে নতুন কৌশল ব্যবহারে ইরানি কর্মকর্তারা পিছপা হবেন না। উদাহরণস্বরূপ, তারা বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পথ বেছে নিতে পারে।</p><p>হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পরিকাঠামো—বিশেষ করে ইউরোপের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়াকে যুক্ত করা সমুদ্র তলদেশের ইন্টারনেট কেব্লগুলো বিস্তৃত। ইরানি নৌবাহিনী এই কেব্লগুলো কেটে দিতে পারে।</p><p>আরও বড় পদক্ষেপ হিসেবে ইরান পার্শ্ববর্তী ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করতে পারে। ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েল নিরাপত্তার অজুহাতে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় জমি দখল করায়, ইরানি বিশ্লেষকদের মতে ইরানেরও নিজস্ব ‘নিরাপত্তাবলয়’ গড়ে তোলা উচিত।</p><p>আমেরিকা স্থল হামলার প্রস্তুতি নিলে ইরান আগেই পদক্ষেপ নিতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের মূল তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের ইঙ্গিত দেওয়ার পর, দেশটির কিছু বিশ্লেষক ও কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি দখলের প্রস্তাব দেন। তেহরান এসব পদক্ষেপকে আগ্রাসন নয়, বরং আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/4ixajwiemx">ইরান যেভাবে নতুন মধ্যপ্রাচ্যের কল্পনা করছে</a></aside><p>উত্তরাঞ্চলেও তেহরান একই যুক্তি প্রয়োগ করতে পারে। আজারবাইজান ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের। কিছু আজারবাইজানি মনে করে ইরানের আজেরি-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলো ‘বৃহত্তর আজারবাইজানের’ অংশ; আর অনেক ইরানি মনে করে বর্তমান আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র হলো ‘বৃহত্তর ইরানের’ অংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে।</p><p>আজারবাইজান ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা রয়েছে। শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আজারবাইজান তাদের ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দিচ্ছে। তেহরান আজারবাইজানের বিচ্ছিন্ন ছিটমহল ‘নাখচিভান’ দখল করার উসকানি পেতে পারে; আর তা না করলেও অন্তত সেখানকার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ চালাতে পারে।</p><p>একইভাবে, বিরোধীদের ঘাঁটি মনে করায় ইরান ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করতে পারে। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন কর্মকর্তারা কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে স্থল হামলার কথা ভেবেছিলেন। ফলে তেহরান যদি মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল থেকে ইরান পর্যন্ত কুর্দিস্তানের ওপর দিয়ে স্থলপথ তৈরি করতে চায়, তবে তারা আগেই সেখানে হামলা চালাতে পারে।</p><p>সবশেষে, তেহরান সেই চূড়ান্ত পদক্ষেপটি নিতে পারে, যা আমেরিকা ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছেন এবং ঠেকানোর চেষ্টা করছেন: পারমাণবিক বোমা তৈরি। নেতারা যদি মনে করেন মার্কিন হামলা ঠেকানোর এটিই একমাত্র পথ, তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তটিকেই তারা সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে বেছে নিতে পারেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/vy9llein/https___archive_images_prod_global_a201836_reutersmedia_net_2015_12_14_2015_12_14T154011Z_20256_GF10.jfif"><figcaption>তেহরানে ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনির চিত্রকর্মের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী, ২০১৫। </figcaption></figure><h3>ধ্বংসাত্মক মনোভাব</h3><p>ইরান পারমাণবিক বোমার দিকে না গেলেও, তাদের উসকানির জবাবে ইসরায়েল ও আমেরিকা আরও ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে। তবে এক বিশাল ও ব্যয়বহুল পূর্ণাঙ্গ পদাতিক আক্রমণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল অতিরিক্ত আর কী অর্জন করতে পারবে, তা অস্পষ্ট।</p><p>ইরানি শাসনগোষ্ঠী প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সিদ্ধহস্ত, এবং তারা এটিকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেই দেখছে। তেহরান নিশ্চয়ই তাদের সব কৌশল বা অস্ত্র একবারে ব্যবহার করবে না।<br>ওয়াশিংটন এই বাস্তবতা অনুধাবন করলে, ইরানের নতুন উসকানির জবাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত স্থগিত করার চেষ্টা করতে পারে।</p><p>তবে দীর্ঘ মেয়াদে এই কৌশল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইসলামিক রিপাবলিক তাদের দাবিতে স্পষ্ট—তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সৈন্যের প্রত্যাহার চায় এবং এই লক্ষ্য অর্জনে তারা অনির্দিষ্টকাল লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/7wfm6izmyr">খামেনির জানাজা: পশ্চিমা মিডিয়ার দ্বিচারিতা এবং ইরান যখন অচেনা জগৎ</a></aside><p>অবশ্য এমন বড় আক্রমণ চালানো বা সংঘাত বাড়ানো ইরানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইরান বেশি দূর এগোলে উল্টো সেই মার্কিন পদক্ষেপকেই ডেকে আনবে, যা তারা এড়াতে চায়—যেমন মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল মার্কিন সেনার আগমন ও পূর্ণাঙ্গ পদাতিক আক্রমণ।</p><p>ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা এই ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন। তাই তাঁরা বারবার জোর দিয়ে বলছেন, যেকোনো সামরিক সিদ্ধান্তের পেছনে অন্তত কিছু অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সমর্থন থাকতে হবে।</p><p>তবে ইসলামিক রিপাবলিকের নেতৃত্বের বিশ্বাস, ট্রাম্প প্রশাসনের কথাবার্তা ও পদক্ষেপই ইরানের জনগণকে সরকারের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তাদের দাবি, অনেক বিদেশি সরকার গোপনে ইরানি কর্মকর্তাদের জানিয়েছে যে মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ইরানের এই প্রতিরোধকে তারা শ্রদ্ধা করে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/lvwk6qod/https___archive_images_prod_global_a201836_reutersmedia_net_2015_12_14_2015_12_14T154011Z_20256_GM1E.jfif"><figcaption>তেহরানে অবস্থিত সাবেক মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে একটি আমেরিকা-বিরোধী দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি, ২০১১</figcaption></figure><h3>সর্বাত্মক বাজি</h3><p>এক অর্থে, ইরান এই পরিস্থিতির মুখোমুখি আগেও হয়েছে। ইসলামিক রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার পরপরই দেশটি ইরাকের আক্রমণ ও সশস্ত্র বিরোধী দলের মুখে পড়েছিল। ১৯৮১ সালে বোমা হামলায় শাসকদলের প্রায় পুরো নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে, বেঁচে যাওয়া নেতারা সিদ্ধান্ত নেন যে টিকে থাকতে হলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শত্রুর ওপর এমন ভয়াবহ প্রতিশোধ নিতে হবে, যাতে তারা আর কখনো চ্যালেঞ্জ করার সাহস না পায়।</p><p>মোজতবা খামেনি ছাড়া ইরানের বর্তমান নতুন নেতাদের প্রায় সবাই সেই বিপ্লবকালীন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন। তাঁরা এই শিক্ষাটি খুব ভালোভাবেই মনে রেখেছেন। মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণ থামাতে হলে শক্তি জাহির করতে যা করা দরকার তা-ই করতে হবে। </p><p>সংঘাত বাড়ানো নিঃসন্দেহে এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ খেলা। ইরান অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করলে তা বিপুল মার্কিন বাহিনীকে এই অঞ্চলে টেনে আনবে, আর যুদ্ধক্লান্ত সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসতে পারে। </p><p>তবে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের দৃঢ় বিশ্বাস, তারা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ সামলে নিতে পারবে, আর এই আত্মবিশ্বাস থেকেই তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চাইছে। তারা মনে করছে ওয়াশিংটনকে চিরতরে পরাস্ত করার এটাই তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সুযোগ।</p><ul><li><p><strong>মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহি তাবার</strong> টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক। </p><p><em>ফরেন অ্যাফেয়ার্স</em> থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।</p></li></ul>
<p>বর্তমানের তুলনায় সহজে কেনাকাটার সুযোগ দিতে এআই শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ওয়ান–ক্লিক চেকআউটের সুবিধা চালু করেছে টিকটক। নতুন সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীরা ভিডিও দেখার সময়ই টিকটক অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকে সরাসরি পছন্দের পণ্য ও পোশাক কিনতে পারবেন।</p><p>টিকটকের তথ্যমতে, নতুন শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট মূলত কথোপকথনমূলক এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারীদের অনলাইনে পছন্দের পণ্য খুঁজে পেতে ও কিনতে সাহায্য করবে। কেনাকাটার নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি পণ্যের বিবরণ, পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়, আকার, সহজলভ্যতার তথ্য জানানোসহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেনাকাটা সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট।</p><p>টিকটক জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা তাঁদের ‘ফর ইউ ফিড’ থেকে এক ক্লিকেই জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকে সরাসরি পণ্য কিনতে পারবেন। ফলে ব্যবহারকারীরা ঘরে বসেই সহজে পছন্দের পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। টিকটকের নিজস্ব মার্কেটপ্লেস ‘টিকটক শপ’–এর বাইরে অনলাইন কেনাকাটার সুযোগ দিতেই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।</p><p>টিকটকের তথ্যমতে, এআই শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ওয়ান–ক্লিক চেকআউটের সুবিধা চালুর জন্য ইতিমধ্যে সেলসফোর্স, শপিফাই, শপলাজা ও স্ট্রাইপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করা হয়েছে। ফলে নতুন এই সুবিধা টিকটক শপের তুলনায় কেনাকাটায় বাড়তি সুবিধা দেবে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিরা এ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।</p>
<p>এত দিন ব্যাটারিচালিত রিকশার জীবন ছিল অনেকটা স্বাধীন শিল্পীর মতো—যেখানে ইচ্ছা, সেখানে যাত্রা। এখন তাদের জীবনেও আসছে নিয়মকানুন। অঞ্চলভেদে চলাচল, আলাদা রং, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ—সব মিলিয়ে রিকশার জীবনেও শৃঙ্খলা আসার কথা। নতুন নীতিমালা হাতে নিয়ে তাই এক ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ডেকে নেওয়া হলো চাকরির ইন্টারভিউতে। ইন্টারভিউ বোর্ডে ছিলেন মাহমুদুল হাসান।</p><p><strong>আপনার নাম?</strong></p><p>ব্যাটারিচালিত রিকশা।<br></p><p><strong>অভিজ্ঞতা?</strong></p><p>ঢাকা শহরের অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সব জায়গায় কাজ করেছি।<br></p><p><strong>আপনার কোনো নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র ছিল?</strong></p><p>ছিল না। এটাই আমার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।<br></p><p><strong>কিন্তু নতুন নীতিমালায় নির্দিষ্ট এলাকায় চলতে হতে পারে।</strong></p><p>তাই নাকি! এত দিন পর বুঝলাম, আমারও অফিসের ঠিকানা হবে।<br></p><p><strong>ঢাকাকে কয়েকটি জোনে ভাগ করা হলে আপনার অসুবিধা হবে না?</strong></p><p>না। শুধু একটা অনুরোধ—জোন যেন এত ছোট না হয় যে এক যাত্রী তুলেই জোন শেষ হয়ে যায়।<br></p><p><strong>আপনার গায়ে আলাদা রং করা হবে। কেমন লাগছে?</strong></p><p>ভালোই। এত দিন মানুষ আমাকে দেখে শুধু ‘রিকশা’ বলত। এখন অন্তত রং দেখে বুঝবে, আমি কোন এলাকার নাগরিক।</p> <p><strong>জিপিএস বা জিও-ফেন্সিং সম্পর্কে কী জানেন?</strong></p><p>এত দিন যাত্রী আমাকে খুঁজত। এখন শুনছি সরকারও আমাকে খুঁজবে। চালকদের প্রশিক্ষণ ও ফিটনেসের কথাও আছে। এটা ভালো। তবে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগে যাত্রীদেরও একটু প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/951r7izjz8">সিঙ্গেল দিবসে জানলাম, আমি প্রেমে ‘জসিম’, বন্ধু অয়ন ‘বাপ্পারাজ’</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/816oy38o23">আহসান হাবীবের প্রিয় ৪ কৌতুক</a></aside><p><strong>কী প্রশিক্ষণ?</strong></p><p>‘ভাই, একটু দ্রুত যান’ বলার আগে রাস্তার অবস্থা দেখা।<br></p><p><strong>আপনার সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?</strong></p><p>মানুষ আমাকে একদিকে চায়, আবার অন্যদিকে চায় না। বাহন হিসেবে সবাই ভালোবাসে, যানজটের কারণ হিসেবে কেউই পছন্দ করে না।<br></p><p><strong>নতুন নীতিমালা হলে আপনি কি বদলে যাবেন?</strong></p><p>অবশ্যই। এত দিন ছিলাম ‘যেদিকে রাস্তা, সেদিকেই যাত্রা’। এখন হব— 'যেদিকে নীতিমালা, সেদিকে যাত্রা।’</p> <p><strong>শেষ প্রশ্ন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?</strong></p><p>আগে ঠিকানা ঠিক করব, তারপর ফিটনেস করাব, তারপর রং করাব। এরপর যাত্রী নিয়ে বের হব।</p> <p><strong>আর যদি যাত্রী বলে, ‘ভাই, একটু শর্টকাটে যান’?</strong></p><p>বলব, 'স্যার, শর্টকাটের যুগ শেষ, এখন আমারও নীতিমালা আছে!’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l5t09bsso2">আর কী করলে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6mnf89p9wn">গোলাপি এখন ঢাকার রাজপথে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/fwdnjtnd6a">তেলের সুপ্ত প্রভাব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hfgieb5c91">ককটেল সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d0e3kp2eyp">আমাদের ছোট ফ্যান</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/25g8h60wg6">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/4p0vp8tu3g">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/t9unyivsek">ছাগল–কাণ্ড</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/rkjokt18ey">বাংলা নাটকে বিসিএস ক্যাডার</a></aside>
<p>নায়ক মানেই শক্ত, কর্তৃত্বপরায়ণ পুরুষ—পাকিস্তানি ধারাবাহিকে এমন চরিত্রের দেখা মেলে নিয়মিত। তবে আনাস ছিল ব্যতিক্রম। স্ত্রীকে ভালোবাসে, তার পোশাক ইস্ত্রি করে, নাশতা বানিয়ে দেয়। স্ত্রীর স্বপ্ন ও সিদ্ধান্তকেও সমান গুরুত্ব দেয়। এই আনাসই এবার বিদায় নিল দর্শকদের কাছ থেকে।</p><p>সম্প্রতি শেষ হয়েছে পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘বাস তেরা সাথ হো’। এআরওয়াই ডিজিটালের এই ধারাবাহিকে আনাস চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারহান সাঈদ। </p><p>তাঁর বিপরীতে ছিলেন সানা জাভেদ। ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর আনাসকে বিদায় জানিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন ফারহান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/szk8zm9w/farhansaeed17912089854001272436836603758652432257.jpg"><figcaption>‘বাস তেরা সাথ হো’ ধারাবাহিকে আনাস চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারহান সাঈদ</figcaption></figure><p>সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অভিনেতা লিখেছেন, ‘আজ আমি আনাসকে বিদায় জানাচ্ছি। কোনোভাবে এই বিদায়টা আমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভারী লাগছে।’</p><p>আনাসের জীবন শুরু থেকেই কঠিন। অসহায় এই তরুণ নিয়মিত মানসিক, মৌখিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন চাচা, চাচি ও তাঁদের দুই সন্তানের কাছে।</p><p> সংসারের প্রায় সব কাজও তাঁকে করতে হয়েছে। এতে ব্যাহত হয়েছে পড়াশোনা। পাশাপাশি অসুস্থ দাদার দেখাশোনার দায়িত্বও ছিল তাঁর ওপর।</p><p>এ কারণেই বড় হয়ে আনাস হয়ে ওঠে ভীতু ও চুপচাপ। নিজের ওপর অন্যায় হলেও প্রতিবাদ করতে পারে না। পরে আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়চেতা আনসার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে আনাসও।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/4sijbp0d/farhansaeed17906074993996224230163572216652432257.jpg"><figcaption>ফারহান সাঈদ</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/tv/i5jd6u30p4">জারিয়াবকে ছেড়ে আরেক নারীকে বিয়ে, জামিলকে ‘ভণ্ড’ বলছেন দর্শকেরা</a></aside><p>গল্পের এই পরিবর্তনই দর্শকদের কাছে চরিত্রটিকে আলাদা করে তোলে। নায়ক হওয়ার জন্য যে সব সময় কর্তৃত্ব দেখাতে হয় না, আনাস যেন তারই উদাহরণ। বরং সংবেদনশীলতা, সততা ও আত্মমর্যাদাও একজন পুরুষের শক্তি হতে পারে—চরিত্রটির মধ্য দিয়ে সেটিই দেখানো হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/d8edmr8g/farhansaeed17912089854001272435712644018652432257.jpg"><figcaption>শুটিংয়ে ফারহান সাঈদ</figcaption></figure><p>ফারহানের কাছেও আনাস শুধু একটি চরিত্র হয়ে থাকেনি। বিদায়ী পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আনাস আমাকে শিখিয়েছে, কখনো কখনো শক্তি পাল্টা লড়াইয়ে নয়, টিকে থাকার মধ্যে। আর কখনো কখনো নিজের জন্য নিজেকেই বেছে নেওয়াই সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত।’</p><p>পরিচালক কাসিম আলী মুরিদসহ ধারাবাহিকের পুরো দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ফারহান। শেষে আনাসের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘বিদায়, আনাস। তোমাকে মিস করব।’</p><p> <sup>ডন অবলম্বনে</sup></p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন