জাতীয়

হরমুজ বন্ধ, তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০৮ ডলার, বাংলাদেশে প্রভাব কতটা

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
হরমুজ বন্ধ, তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০৮ ডলার, বাংলাদেশে প্রভাব কতটা
হরমুজ বন্ধ, তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০৮ ডলার, বাংলাদেশে প্রভাব কতটা

আজ সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলার ২১ সেন্ট বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০৭ ডলার ৮২ সেন্টে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩ ডলার ১৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলার ২২ সেন্ট হয়েছে।

সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হুতিরা নতুন হামলা করেছে। উপসাগরের জাহাজে ইরান হামলা করেছে। এসব ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হুতিদের হামলার জেরে সৌদি আরবের এক তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ব্যয় বেড়ে যাবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে পরিবহন ব্যয়— প্রায় সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। তাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়।

ঢাকা চেম্বারের এক হিসাবে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় ৭ থেকে ৮ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে সারা বছর এই ১০ ডলার বাড়তি দামে তেল কিনতে হলে বছরে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার বাড়তি ব্যয় হবে সরকারের।

এদিকে বাজার-বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বেড়ে যাওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা করা হয়েছে। তবে হামলায় এ পাইপলাইন কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কত দিন তা বন্ধ থাকবে, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার পর ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ পাইপলাইন দিয়ে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানি করত। ফলে পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাবে। সংবাদে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকিতে পড়েছে।

সৌদি আরবের তেল রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, পাইপলাইন বন্ধ থাকলে ইয়ানবু বন্দরে যে মজুত আছে, তা দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানি চাহিদা মেটানো সম্ভব।

এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতকাল রোববার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে হুতিদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বাড়ি ও একটি মসজিদের ভিডিও প্রকাশ করেছে। হুতিরা জানিয়েছে, তারা পাশের একটি প্রদেশে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে যে জাহাজে হামলা করা হয়েছে, তাতে আগুন ধরে গেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, এতে জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নিতে হয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, দেশটির উপকূলের কাছে এক ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত ও চারজন নাবিক আহত হয়েছেন।

ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতিরা গত শুক্রবার পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ এ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে।

সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। ফলে গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আলোচনার জন্য আজ ওমানে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর জুন মাসে অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। তা ভেঙে যাওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধে আর কোনো শান্তি আলোচনা শুরু হয়নি।

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব

বাংরাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকায় (১ ডলার= ১২৩ টাকা) উঠেছে। রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত হারে বৃদ্ধি না পাওয়ায় এমনিতেই সরকারের ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। এর ওপর জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়া অনেকটা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।

এর মধ্যে জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়ানো হচ্ছে, সেই চালান আসতেও শুরু করেছে। তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বাড়তি আমদানি। ২০ সেপ্টেম্বরের পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়বে। ওই সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে।

বিষয়টা হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও আমদানি ব্যয়ে। বেশি দামে জ্বালানি কিনলে পরিবহন থেকে শুরু করে কৃষি ও শিল্প—সব খাতেই উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। সেই সঙ্গে জাহাজভাড়াসহ আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়। গত চার বছর ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়তি। ফলে বাড়তি দামে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা হলে সরকার যেমন চাপে পড়বে, তেমনি মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জাতীয়

View more
বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের ঘোষণা
বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের ঘোষণা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন জাপানি বিনিয়োগ এবং এর ফলে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে এ বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
‘ডি‌জিটাল খা‌তে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের’ 

‘ডি‌জিটাল খা‌তে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের’ 

ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত, স্বামীকে বাঁচাতে কিডনি দিলেন স্ত্রী

ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত, স্বামীকে বাঁচাতে কিডনি দিলেন স্ত্রী

মাদুশঙ্কার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

মাদুশঙ্কার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫-এর চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই
এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫-এর চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন, যাতায়াতের সময় কমানো এবং আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ, ৫ জেলে ও অস্ত্র উদ্ধার 

সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ, ৫ জেলে ও অস্ত্র উদ্ধার 

কুড়িগ্রামে ৪ খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

কুড়িগ্রামে ৪ খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

পর্নোগ্রাফির মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজন কারাগারে 

পর্নোগ্রাফির মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজন কারাগারে 

পদ্মায় নদীপথের দখল নিয়ে কাকন-কালু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ, আতঙ্কে জেলে ও স্থানীয়রা
পদ্মায় নদীপথের দখল নিয়ে কাকন-কালু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ, আতঙ্কে জেলে ও স্থানীয়রা

কুষ্টিয়ায় পদ্মায় নদীপথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় নদীতে থাকা জেলে ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
হামলা বন্ধে হুথিদের ১ বিলিয়ন ডলার দিতে চেয়েছে সৌদি আরব

হামলা বন্ধে হুথিদের ১ বিলিয়ন ডলার দিতে চেয়েছে সৌদি আরব

ইসরায়েলের নির্বাচনে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি

ইসরায়েলের নির্বাচনে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি

ময়মনসিংহে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ময়মনসিংহে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

0 Comments