রাত তখন ১১টা। ল্যাপটপ বন্ধ করতে গিয়েই ইমনের মনে পড়ল, কাল সকালের ফ্লাইটের জন্য এখনো পার্কিং স্পট বুক করা হয়নি। সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে আবার খুঁজতে ইচ্ছা করছিল না—একটার পর একটা ওয়েবসাইট খোলা, দাম তুলনা করা, ফরম পূরণ করা, তারপর পেমেন্ট। ওহ্! বিরক্ত হয়ে ব্রাউজারের পাশে থাকা এআই সাইড প্যানেলে শুধু লিখল, ‘কাল সকালের জন্য বিমানবন্দরের কাছে একটা পার্কিং স্পট বুক করে দাও।’ ব্যস, এটুকুই। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই কনফার্মেশন চলে এল ই–মেইলে। তারিখ, সময় ও স্লট নম্বর—সব ঠিকঠাক। ইমন নিজেও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারল না, কে আসলে কাজটা করল। সে নিজে, নাকি ল্যাপটপের ভেতরে বসে থাকা একটা অদৃশ্য ‘কর্মী’?
এটাই ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—এজেন্টিক এআই বা স্বয়ংক্রিয় কার্যসম্পাদনকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট। এত দিন আমরা চ্যাটবটকে প্রশ্ন করতাম, সে উত্তর দিত—ব্যস, এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিল সম্পর্ক। কিন্তু এজেন্ট একেবারে আলাদা। সে শুধু বলে না, সে করেও। ওয়েবসাইটে ঢোকে, ফরম পূরণ করে, একাধিক পেজ ঘুরে দাম তুলনা করে, বুকিং কনফার্ম করে, এমনকি প্রয়োজনে আপনার অনুমতি নিয়ে আপনার ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকাও খরচ করে ফেলে। গুগল ক্রোম ব্রাউজারে সম্প্রতি যোগ হওয়া ‘অটো–ব্রাউজ’ সুবিধার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। জেমিনাই–৩ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সুবিধা এখন ডেস্কটপ ও অ্যান্ড্রয়েড—দুই জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু গুগল নয়, ওপেনএআইয়ের অ্যাটলাস, পারপ্লেক্সিটির কমেট—সবাই একই দৌড়ে নেমেছে, ব্রাউজারকে বানিয়ে ফেলছে ‘কাজ করে দেওয়া’ এক সহকারীতে।
কীভাবে কাজ করছে এই প্রযুক্তি
চ্যাটবট ও এজেন্টের পার্থক্য মূলত ধৈর্য ও স্বাধীনতায়। চ্যাটবট একটা প্রশ্নের একটা উত্তর দিয়েই থেমে যায়, পরের পদক্ষেপটা আপনাকেই নিতে হয়। এজেন্ট এখানে অন্য রকম। সে একটা লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যায়, একের পর এক ধাপ নিজে থেকেই ঠিক করে, দরকার হলে আরেকটা ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখে, তথ্য যাচাই করে আবার ফিরে আসে, ফলাফল বিশ্লেষণ করে। ফ্লাইট খোঁজা, পুরোনো কেনা জিনিস আবার অর্ডার করা, একাধিক তারিখে হোটেলের দাম মিলিয়ে দেখা, এমনকি ক্যালেন্ডার–জিমেইল–ম্যাপস একসঙ্গে মিলিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক করা—এসব কাজ এখন কয়েক সেকেন্ডেই সেরে ফেলছে এআই, যেখানে মানুষের লাগত ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
ব্যাপারটা অনেকটা এমন, যেন আপনার একজন ব্যক্তিগত সহকারী আছে, যে কখনো ক্লান্ত হয় না, কখনো ছুটি চায় না, কখনো বেতন চায় না! শুনতে দারুণ লাগছে, তাই না?
কিন্তু ঝুঁকিটা ঠিক কোথায়
কিন্তু সুবিধার আড়ালেই লুকিয়ে আছে বিপদ। এজেন্ট যখন নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে, তখন ভুল সিদ্ধান্তও নিজে থেকেই নিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে। ভুল আকারে পণ্য অর্ডার, ভুল তারিখে বুকিং, এমনকি স্পর্শকাতর তথ্য অজান্তেই কোনো অপরিচিত সাইটে জমা করে দেওয়া। যেসব সাইট নকল বা প্রতারণামূলক, এজেন্ট সব সময় সেটা ধরতে পারে না। কারণ, সে–ও তো শেখে প্যাটার্ন দেখে, মানুষের মতো সন্দেহ করার অভ্যাস তার নেই।
আর সবচেয়ে বড় কথা, ‘মানুষের অনুমতি’ নেওয়ার ধাপটা যদি দুর্বল হয়, তাহলে টাকা খরচের সিদ্ধান্তও চলে যেতে পারে হাতের বাইরে। ভাবুন তো, একটা এজেন্ট যদি ভুল বোঝে যে আপনি ‘সবচেয়ে সস্তা টিকিট’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আর নিজে থেকেই একটা ভুল ফ্লাইট বুক করে ফেলে—টাকা ফেরত পাওয়া কি অতটাই সহজ হবে? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তাই বারবার সতর্ক করছেন, স্বয়ংক্রিয়তা যত বাড়বে, মানুষের তদারকির প্রয়োজনও ততই বাড়বে, কমবে না।
তাহলে ব্যবহার করবেন কীভাবে
১. প্রথমে ছোট ও কম ঝুঁকির কাজ দিয়ে শুরু করুন, যেমন দাম তুলনা বা তথ্য খোঁজা, সরাসরি টাকা লেনদেন কোনোভাবেই নয়।
২. প্রতিটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে এজেন্ট কী করতে যাচ্ছে, তা নিজে একবার চোখ বুলিয়ে দেখুন—‘কনফার্ম’ করার আগে দুই সেকেন্ড থামুন, ভাবুন, তারপর এগিয়ে যান।
৩. অ্যাকাউন্টের অনুমতি বা পারমিশন নিয়মিত চেক করুন, কোন সাইটে এজেন্ট ঢুকতে পারছে, সেটা সীমিত রাখুন।
৪. স্পর্শকাতর তথ্য বা পেমেন্ট–সংক্রান্ত কাজে এজেন্টকে পুরোপুরি স্বাধীনতা না দিয়ে ‘অনুমোদন চেয়ে নেওয়ার’ মোডেই রাখুন।
তো, ফিরে আসি গল্পে। পরদিন সকালে ইমন যখন পার্কিংয়ে গাড়ি রাখল, ঠিক সেই জায়গাতেই জায়গা খালি পেল যেটা এআই বলেছিল। ভালো লাগলেও একটা প্রশ্ন মনে খচখচ করছিল। আজ পার্কিং। কাল হয়তো টিকিট। পরশু হয়তো পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসটাই কি তাহলে আস্তে আস্তে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে?
আসলে প্রশ্নটা এজেন্টের নয়। প্রশ্নটা হলো, আমরা কতটুকু নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখছি, আর কতটুকু ছেড়ে দিচ্ছি একটা অদৃশ্য কোডের হাতে। এজেন্টিক এআই সহকারী হয়ে থাকবে, নাকি একসময় নিজেই চালকের আসনে বসে পড়বে—সেই সীমারেখা আসলে আমরাই টেনে দিচ্ছি, প্রতিদিন, প্রতিটা ‘অনুমতি দিন’ বাটনে চাপ দিয়ে।
লেখক: টেক ব্লগার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও কপিরাইটার
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী কংগ্রেসনাল নির্বাচনের আগে দেশটির ওপর আর কোনো হামলা চালানো হবে না। বৃহস্পতিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেছেন।
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ জোড়া ব্রিজ সংলগ্ন আবুল কাশেম মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে গার্মেন্ট পল্লীর মসজিদ মার্কেটসংলগ্ন ওই মার্কেটে আগুন লাগে।