জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট আছে?

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট আছে?
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট আছে?

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর মাত্র ১৪ দিনের মতো জ্বালানি তেল অবশিষ্ট আছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন এক চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। খুব সহজ এক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে এই দাবিটি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এই দাবিটি কি আসলেই সত্যি? আসুন সত্যিটা জেনে নিই...

বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে (এসপিআর) প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ (২৮৬.৬ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। অন্যদিকে, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ (২০.৭ মিলিয়ন) ব্যারেল তেলের ব্যবহার হয়।

মোট মজুতকে দৈনিক ব্যবহারের পরিমাণ দিয়ে ভাগ করলেই ফল দাঁড়ায় প্রায় ‘১৪ দিন’। গত ১৬ আগস্ট মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত তেল মজুত চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বছরের শুরুতে যেখানে এসপিআর-এ ৪১ কোটি ৫০ লাখ (৪১৫ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল মজুত ছিল, সেখানে গত মাসের শুরুতে সেই পরিমাণ কমে ৩০ কোটি ব্যারেলে নেমে আসে। আপাত দৃষ্টিতে গাণিতিক হিসাবটি সঠিক মনে হলেও বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সামাজিক মাধ্যমের এই পোস্টটি একটি বিষয়কে সঠিকভাবে তুলে ধরেছে- যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত ঐতিহাসিকভাবেই সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই হিসাব মার্কিন অর্থনীতির সার্বিক ঝুঁকিকে চরমভাবে বাড়িয়ে ও ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।

কারণ হিসাবটিতে ভুলভাবে সরকারের জরুরি সুবিধার্থে সংরক্ষিত তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো তেল সরবরাহব্যবস্থা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। আসল বিষয়টি হলো, দুটি পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয় নির্দেশ করে।

এসপিআর-এ কেবল অপরিশোধিত খনিজ তেল (ক্রুড অয়েল) সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে, প্রতিদিন ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল ব্যবহারের যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, তা হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবহৃত মোট প্রক্রিয়াজাত তেল বা পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহার। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত উপাদান।

বিষয়টি এমন এক পরিবারের মতো- যেখানে জরুরী মুহূর্তের জন্য রান্নাঘরের আলমারিতে রাখা ড্রাই ফুডকে পুরো পরিবারের খাদ্য তালিকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অথচ বাড়ির ফ্রিজ, সুপারমার্কেট বা প্রতিদিন বাসায় আসা টাটকা খাবারকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল অর্থনীতি কেবল সরকারের এসপিআর-এর ওপর ভর করে চলে না। ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ (১৩.৯ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে।

এছাড়া মার্কিন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব গুদামে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ (৪২৪.৫ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। তাদের রিফাইনারিগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ (১৭.৫ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল প্রক্রিয়া করে চালনা করছে।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করে। সংসংক্ষেপে, এসপিআর হলো ব্যাকআপ জরুরি ব্যবস্থা, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জ্বালানি ট্যাংক নয়।

তবে বাস্তব উদ্বেগের বিষয় ভিন্ন জায়গায়। দেশের জ্বালানি সংকট দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘনিয়ে না আসলেও সরকারি নিয়ন্ত্রণের জরুরি তেলের ভাণ্ডার যে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে, তা সত্য।

এসপিআরকে আমরা ইন্স্যুরেন্স পলিসির সঙ্গে তুলনা করতে পারি। মানুষ দৈনন্দিন খরচের জন্য পলিসির ওপর নির্ভর না করলেও কোনো বড় ধরনের আন্তর্জাতিক যুদ্ধ, অবরোধ, ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় বা বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় ঘটলে এই সুরক্ষাই কাজে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেই সুরক্ষা নিশ্চিতের ভাণ্ডার এখন আগের চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র। ২০২০ সালের শেষেও এসপিআর-এ প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ (৬৩৮ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল সংরক্ষিত ছিল। তবে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট নাগাদ তা কমে ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন।

যুক্তরাষ্ট্রে দুটি ভিন্ন ধরনেরজরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে বাইডেন ও ট্রাম্প- উভয় প্রশাসনের আমলেই এই রিজার্ভ থেকে ব্যাপক পরিমাণে তেল উত্তোলন করা হয়েছে।

১৯৭৩-৭৪ সালের আরব তেল অবরোধের পর বৈশ্বিক কোনো সরবরাহ সংকটে যেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ধ্বংস না হয়ে যায়, সেই উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালে মার্কিন কংগ্রেস আইন পাসের মাধ্যমে এই এসপিআর গঠন করে।

মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের ভূগর্ভস্থ বিশাল লবণের গুহায় বা সল্ট ক্যাভার্নে এই তেল জমা রাখা হয়, যাতে শোধনাগার ও পাইপলাইন নেটওয়ার্কে সহজে তেল পৌঁছানো যায়। এর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ (৭১৪ মিলিয়ন) ব্যারেল।

বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বাজার সামলাতে জো বাইডেন ছয় মাসে ১৮ কোটি ব্যারেল জরুরি তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেন।

মার্কিন ট্রেজারির তথ্য মতে, এই পদক্ষেপে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১৭ থেকে ৪২ সেন্ট পর্যন্ত কমেছিল। তবে এতে রিজার্ভের বড় ক্ষতি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ তা সামলে ৪১ কোটি ৩০ লাখ (৪১৩ মিলিয়ন) ব্যারেলে উন্নীত করা হয়েছিল।

পরে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ-যোগাযোগ বিঘ্নিত হলে চরম সংকট তৈরি হয়। গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জরুরি মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এর অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন তাদের রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ (১৭২ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। ফলে ২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে এসপিআর-এর মজুত ৪১ কোটি ৩৩ লাখ থেকে দ্রুত কমে ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে।

অবশ্য বর্তমান এসপিআর তুলে নেওয়া নীতিটি সরাসরি বিক্রি না হয়ে একটি বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে চালিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলো রিজার্ভের তেল ব্যবহার করলেও পরবর্তী সময়ে বাড়তি ‘প্রিমিয়াম’ তেলসহ আবার সরকারকে সেই ক্রুড অয়েল ফিরিয়ে দিতে বাধ্য থাকবে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র রাত পেরোলেই তেলশূন্য হয়ে পড়বে না। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বাব আল-মান্দেব কিংবা হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলে আমেরিকার বাজারে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম অবশ্যই বাড়বে।

বর্তমানে এই রিজার্ভের তলানি থেকে তেল ছাড়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন শোধনাগারগুলোর চার শতাংশের কম চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে, যা বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রাখলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের বিকল্প নয়। জরুরি ভাণ্ডারে মজুতের এই সংকট যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে অনেকাংশে দুর্বল করে দিয়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

এসএএইচ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল
সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার।

News অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0
লালমনিরহাটে একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির 

লালমনিরহাটে একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির 

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের সাক্ষাৎ

জুলাই শহীদদের পুনর্বাসন থেকে অস্ত্র হাতে অভিযান, শেষ অধ্যায়ে পদত্যাগ

জুলাই শহীদদের পুনর্বাসন থেকে অস্ত্র হাতে অভিযান, শেষ অধ্যায়ে পদত্যাগ

বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বন্ধের দাবি শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের
বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বন্ধের দাবি শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য...

News অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0
বিএনপি সরকার সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাস করে না: শামা ওবায়েদ

বিএনপি সরকার সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাস করে না: শামা ওবায়েদ

লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ, শরণখোলায় আতঙ্ক

লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ, শরণখোলায় আতঙ্ক

‘কোনো সাধারণ মেয়ে হলে সুইসাইড করত’, বিকৃত সেই ভিডিও নিয়ে পরীমনি

‘কোনো সাধারণ মেয়ে হলে সুইসাইড করত’, বিকৃত সেই ভিডিও নিয়ে পরীমনি

সেদিকুল্লাহর সেঞ্চুরি, বড় সংগ্রহ গড়ে অলআউট হলো আফগানিস্তান
সেদিকুল্লাহর সেঞ্চুরি, বড় সংগ্রহ গড়ে অলআউট হলো আফগানিস্তান

ইব্রাহিম জাদরান সেঞ্চুরি মিস করলেন। তবে মিস করলেন না সেদিকুল্লাহ অটল। পুরো ৫০ ওভার খেলে শেষ বলে ২৯৪ রানে অলআউট হলো আফগানিস্তান। অর্থাৎ ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিততে হলে জিম্বাবুয়েকে করতে হবে ২৯৫...

News অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইশরাকের পদত্যাগপত্র, যে কোনো সময় প্রজ্ঞাপন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইশরাকের পদত্যাগপত্র, যে কোনো সময় প্রজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে যুবক নিহত

চট্টগ্রামে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে যুবক নিহত

টাঙ্গাইলে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুপারভাইজারসহ নিহত দুই

টাঙ্গাইলে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুপারভাইজারসহ নিহত দুই

0 Comments