ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আসার সবকিছু যখন চূড়ান্ত ঠিক সেই মুহূর্তে আমি জানতে পারি, এবারের ৮৩তম আসরে ওরিৎজন্তি (হরাইজন) বিভাগে স্থান পেয়েছে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। যাকে বলে মণিকাঞ্চন যোগ হওয়া, সেটাই হলো। ভেনিসে এলাম, প্রথমবারের মতো সঙ্গে এল বাংলাদেশের একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। আমারও ভেনিসের উৎসবে প্রথমবার আসা। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখে আমি ভেনিসের মার্কো পোলো বিমানবন্দরে পা রাখি।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো উৎসব, তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ইউরোপ, এরপর আমেরিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসব শুধু চলচ্চিত্র দেখানোই নয়, এর ভূরাজনৈতিক দিকও রয়েছে। আর সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গেছে। উৎসবের পরিচালক আলবার্তো বারবারা এমন সব ছবি এবার বাছাই করেছেন, যেগুলো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য ধারণ করে। পাশাপাশি তিনি অতর চলচ্চিত্রকারদের এককাট্টা করেছেন। বলা যেতে পারে, একটি সফল উৎসব করার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। সাড়ে চার হাজারের ওপর জমা পড়া ছবি থেকে ৮৮টি ছবি বাছাই করা চাট্টিখানি কথা নয়! তাদের নিরলস পরিশ্রম আর বিচক্ষণতার ফল হিসেবে আমরা দেখলাম, উৎসবের সাফল্যকে। গোল্ডেন লায়ন পেল এমন একটি ছবি, মে এল-তুখি পরিচালিত ‘উইম্যান আননোন’, যা ইউরোপে নাৎসিবাদের কথা বলে, আবার নাৎসিবাদকে প্রতিহত করতে গিয়ে কেউ কেউ যে ফ্যাসিবাদের খপ্পরে পড়ে গিয়েছিল, সেই কথাও বলে। নারীকেন্দ্রিক ছবিটি ভেনিসে প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকেই প্রশংসিত হচ্ছিল।
তথ্যচিত্র ‘নাজা’র কথা আর কী বলব! দখলকৃত গাজায় কতটা নির্মমভাবে, উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেলাচ্ছলে ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি আরবদের মারছে, ছবিটি সেই স্বীকারোক্তির দলিল হাজির করে। এই দলিল সাক্ষ্য দেয় ইসরায়েলিরা গণহত্যা চালাচ্ছে। ছবিটি স্পেশাল জুরি পুরস্কার পায়। এর কদিন আগে ছবিটি প্রদর্শিত হলে উপস্থিত দর্শকেরা দুই পরিচালক ইয়ুভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরকে অভিনন্দন জানায় তুমুল করতালির মাধ্যমে, টানা প্রায় ২৫ মিনিট। আমিও যখন ছবিটির ভিন্ন শো দেখি, তখন আমিও প্রচণ্ড ঝাঁকি খাই, সত্য জানার জন্য নয়, শয়তানের মুখ থেকে সত্য শুনছি সে জন্য।
বলা যেতে পারে ‘নাজা’ একাই ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের সব আলো কেড়ে নিয়েছে। ‘নাজা’র মতো এমন সাহসী ছবি কিউরেট করলে যেকোনো চলচ্চিত্র উৎসবই বিশ্বের নজরে চলে আসে। আর এতে বিশ্বরাজনীতিতে কিছুটা হলেও অস্বস্তি উৎপাদন হয়। কারণ, ছবিগুলো নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়। জনমত গড়ে ওঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কাজেই চলচ্চিত্র উৎসব “শুধু যাওয়া আসা, শুধু স্রোতে ভাসা” নয়। এটি কোমল কূটনীতির অংশও বটে। সেই বিবেচনায় ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে যখন ‘নাজা’র মতো ছবি পুরস্কার পায় তখন এত দিন ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের পক্ষে যে বৈধতা উৎপাদন করা হচ্ছিল সেটি প্রশ্নবদ্ধ হয়।
শুধু রাজনৈতিক ছবি নয়, মানবিক ও দার্শনিক ধারণা-সংবলিত চমৎকার সব ছবির প্রিমিয়ার দেখতে পারাটাও তো অনেক আনন্দের। বাড়তি আনন্দের কথা তো আগেই বলেছিলাম, বাংলাদেশের ছবি স্থান পাওয়ার কথা। তো এবারের আসরে আমার আরও একটি প্রাপ্তি হলো বিশ্বখ্যাত অতর নির্মাতা, যাকে বলা হয় নিউ জার্মান সিনেমার একজন পুরোধা ব্যক্তি, সেই ভিম ভেন্ডার্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া এবং দুটো বাক্য বিনিময় করা। এবং একই ছাদের নিচে বসে তার অসাধারণ ত্রিমাত্রিক প্রামাণ্যচিত্র “ফ্রম ইনসাইড আউট: দ্য আর্কিটেকচার অব পিটার জুমথর” দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করা। মজার বিষয় গত বছর বার্লিনের পর এবারও ভারতের অত্যন্ত সুপরিচিত চলচ্চিত্র পরিচালক অনুরাগ কশ্যপের সঙ্গে সকাল-বিকেল বহুবার দেখা হয়েছে, টুকরো টুকরো আলাপও হয়েছে। এটাও কম প্রাপ্তি নয়।
আসলে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে পেয়েছি আরও অনেক কিছু। রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে আমার আগে পরিচয় ছিল না, ওনার সঙ্গে পরিচিত হওয়া, এরপর নানা বিষয়ে মতামত ভাগাভাগি করা। ছবির অভিনয়শিল্পীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো ২৩টি বাছাইকৃত ছবি দেখা। কোনোটি মূল প্রতিযোগিতায় ছিল, কোনোটি প্রতিযোগিতার বাইরে। কোনোটি আবার ‘হরাইজন’ বিভাগের নিরীক্ষাধর্মী ছবি। সবগুলোরই প্রিমিয়ার হয়েছে এই ভেনিসে।
ভেনিস শহরটাকে দেখাও তো পরমানন্দের ব্যাপার। যে শহরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গিয়েছিলেন ১৯২৫ সালে। ভেনিসকে বলেছিলেন অ্যাড্রিয়াটিকের রানি। দেশটির সৌন্দর্যের টানে ও অসমাপ্ত কিছু কাজ সম্পন্ন করতে ১৯২৬ সালে দ্বিতীয় ও শেষবার ইতালিতে গিয়েছিলেন তিনি, সেবার অবশ্য ভেনিসে আর যাননি। তাঁর ইতালি সফরের ১০০ বছর পর ভেনিসে এসে আমি যেন রবীন্দ্রনাথের ইতালি সফরের দিনগুলোকেই উদ্যাপন করলাম।
উৎসব চলাকালে আমি পাগলের মতো একদিকে লিখে গেছি, অন্যদিকে ফাঁক পেলেই ঘুরে বেড়িয়েছি ভেনিসের ওলিগলি। বোঝার চেষ্টা করেছি তাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। বিখ্যাত সব চার্চ ও ব্যাসিলিকায় গিয়েছি। মুগ্ধ হয়ে রেনেসাঁ ও তার পরবর্তী যুগের বিখ্যাত সব চিত্রশিল্পীর কাজ দেখেছি মুগ্ধ হয়ে। সমসাময়িক শিল্পকর্ম দেখারও সুযোগ করে দিয়েছিল আমাকে বিয়েন্নালে কর্তৃপক্ষ। আমি সেসব কাজ দেখেও বিমোহিত হয়েছি। ভেবেছি মানুষের সৃজনক্ষমতা যখন শিল্পকে জড়িয়ে নিয়ে নিজেকে প্রকাশ করে, তখন তার সীমা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? অসীমে।

ভেনিসের এই বিয়েন্নালে সম্পর্কে বলা যায় ‘সীমার মাঝে, অসীম, তুমি বাজাও আপন সুর’। সেই সুরের সবটা আমার শোনা হয়নি। মানে আমি শুধু চলচ্চিত্র আর শিল্পকর্ম প্রদর্শনী দেখেছি। সব মিলিয়ে ভেনিসে থেকেছি ১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর—১৪ দিন। শুনেছি মঞ্চনাটক চলছিল, সামনে সংগীতায়োজন আছে। তো তাদের এই বিপুল বিশাল শিল্প উদ্যাপন দেখতে হলে গোটা একটা বছরই থেকে যেতে হবে এখানে। সেটা তো আর সম্ভব নয়। তাই যতটুকু দেখা হলো, সেটুকু দিয়েই আন্দাজ করে নেওয়া যায় শিল্পচর্চার সীমা তারা নির্ধারণ করছে এক আকাশসমান। অথচ বাংলাদেশে শিল্পচর্চার গণ্ডি ছোট হতে হতে এখন ঘরের ভেতরেও কেউ গান গাইলে, অনুভূতিপ্রবণরা ছুটে এসে সেটাও বন্ধ করে দেয়। কবিগান বন্ধ, নাটক করা যাবে না, চলচ্চিত্র দেখা হারাম ইত্যাদি ইত্যাদি। কুয়োর ব্যাঙের পক্ষে আসলে মহাবিশ্বের সৌন্দর্য আর বিশালত্ব বোঝা অসম্ভব ব্যাপার। বোঝানোর চেষ্টা করাটাও বোকামি!
দুনিয়ার প্রতিটি উন্নত জাতি যেখানে সর্বজনের শিল্পকে উদ্যাপনের পাশাপাশি নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে, সেখানে আমরা স্বাধীনতার রূপকার, অবিসংবাদিত নেতাদের ছবি সরিয়ে সেখানে রাখছি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শত্রুর ছবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব ঘটছে। অথচ ভেনিসের এই বিয়েন্নালেতে দেখলাম অন্য জাতিরাষ্ট্রের ভিড়ে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরার কী চমৎকার প্রচেষ্টা ইতালির। চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিটি শাখায় তারা মানসম্পন্ন ইতালীয় ছবিকে স্থান দিয়েছে। শিল্পকর্মের প্রদর্শনীতেও তা-ই। উন্নত জাতি এভাবেই মীমাংসিত বিষয় নিয়ে ফাতরামো না করে, নিজেদের ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে থাকে। আর বর্বর-অসভ্য জাতি নিজেরাই নিজেদের মুখে আলকাতরা মেখে নর্দমায় ডুবে যেতে থাকে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাই শুধু লিখে রেখে যাচ্ছি, সাক্ষ্য হিসেবে, পৃথিবী কোথায় কোন দিকে কত গতিতে চলছিল, তার তুলনায় আমার দেশ গভীর থেকে গভীরতর অন্ধকারে কত দূর তলিয়ে যাচ্ছিল। ধর্মান্ধতা, অশিক্ষা, দুর্নীতি আর লোভ-লালসার কারণে গোটা জাতি কেমন করে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়, সেটাই আমি দেখাতে চেষ্টা করছি অন্যদের অগ্রগতি সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে। এটা অনেকটা একটি খর্বকায় ভোঁতা পেনসিলের পাশে, চোখা লম্বা পেনসিল আলগোছে রেখে দেওয়ার মতো।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইংল্যান্ডের জার্সিতে রেকর্ডের পাতায় আরো একবার নিজের নাম লিখিয়েছেন হ্যারি কেইন। চেকিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের পূর্ণ নাগরিক ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু শিশুদের নয়, বর্তমান প্রজন্মের বয়স্কদেরও।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার।