জাতীয়

ভাঙছে যুক্তরাজ্য! ওয়েলস-স্কটল্যান্ড-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চুক্তি

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ভাঙছে যুক্তরাজ্য! ওয়েলস-স্কটল্যান্ড-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চুক্তি
ভাঙছে যুক্তরাজ্য! ওয়েলস-স্কটল্যান্ড-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চুক্তি

ভাঙনের আরও কাছে পৌঁছে গেছে যুক্তরাজ্য! সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নেতারা একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন। চুক্তিতে তিন অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিতে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিন নেতার কথায়, ওয়েস্টমিনস্টারের সময় শেষের দিকে—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে এই সমঝোতা। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের অবস্থান বোঝাতে তারা ‘ওয়েস্টমিনস্টার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

আরও পড়ুন

ভেঙে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য? শিগগির আসছে বড় ঘোষণা

তিন অঞ্চলের নেতাদের বিরল ঐক্য

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই প্রথম তিন অঞ্চলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা স্বাধীনতা বা একীভূত হওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি স্বাধীনতার পক্ষে। ওয়েলসের রুন আপ আইওরওয়ার্থও স্বাধীনতাপন্থি।

অন্যদিকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণের পক্ষে।

আরও পড়ুন

জানুন ইতিহাস / যুক্তরাজ্য আর ব্রিটেন কিন্তু এক নয়

আয়ারল্যান্ড এক শতাব্দীরও বেশি আগে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। তবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবেই থেকে যায়।

এই তিন নেতার একসঙ্গে এমন অবস্থান যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

লন্ডনের সরকার বলছে, ঐক্য অটুট

তবে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকার এই উদ্যোগকে বড় কোনো হুমকি হিসেবে দেখছে না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মুখপাত্র টম ওয়েলস বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের ঐক্যের প্রতি দৃঢ়ভাবে আস্থাশীল।

তার মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোসহ মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধানেই সরকারের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, বিভাজনের বদলে অভিন্ন মূল্যবোধ ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মানুষ একসঙ্গে থাকলেই যুক্তরাজ্য সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।

আরও পড়ুন

যুক্তরাজ্যের ভাঙন ঠেকাতে পারবেন না বার্নহাম, বলল সিন ফেইন

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পাবলিক পলিসির পরিচালক নিকোলা ম্যাকইউয়েনও বলেছেন, তিন নেতার সম্মেলন প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কোনো আইনি প্রভাব নেই।

তার মতে, এই চুক্তির কারণে যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতার জন্য গতকালের তুলনায় আজ বড় কোনো হুমকি তৈরি হয়নি।

স্কটল্যান্ডে আবার স্বাধীনতার দাবি

স্কটল্যান্ড ২০১৪ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য গণভোট করেছিল। তখন ৫৫ শতাংশ ভোটার স্বাধীনতার বিপক্ষে এবং ৪৫ শতাংশ পক্ষে ভোট দেন।

তবে ব্রেক্সিটের পর স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার সমর্থন বেড়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

আরও পড়ুন

কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল সম্পর্ক

যুক্তরাজ্য ২০১৬ সালের গণভোটের পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যায়।

স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা জন সুইনি মনে করেন, এখন স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট হলে স্কটিশ ভোটাররা স্বাধীনতার পক্ষেই ভোট দেবেন।

তবে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে লন্ডনের সঙ্গে তার মতবিরোধ রয়েছে। বার্নহাম গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে বলেছিলেন, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার পক্ষে ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হলে তিনি গণভোটের অনুমতি দেবেন।

পরে অবশ্য সুইনিকে চিঠি দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে এমন গণভোটের অনুমতি দেওয়া হবে না।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে একীভূত আয়ারল্যান্ডের দাবি

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।

১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে তিন দশকের সাম্প্রদায়িক সংঘাতের অবসান হয়। এই সংঘাত ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত।

চুক্তি অনুযায়ী, জনমত জরিপে যদি দেখা যায়, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব গণভোটে জিততে পারে, তাহলে গণভোট আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে যুক্তরাজ্য সরকার মনে করে, সেই পর্যায়ের জনসমর্থন এখনো তৈরি হয়নি।

এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য আয়ারল্যান্ডেও গণভোটে অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিলের চুক্তিতে সই নিয়েও রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে।

ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) উপপ্রধানমন্ত্রী এমা লিটল-পেংগেলি অভিযোগ করেছেন, ও’নিল ফার্স্ট মিনিস্টারের পদকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন।

জবাবে ও’নিল বলেন, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটছে।

ওয়েলসের অবস্থানও বদলাচ্ছে

ওয়েলসের নেতা রুন আপ আইওরওয়ার্থ স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিলেও কবে গণভোট আয়োজন করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেননি।

তবে তিন অঞ্চলের নেতাদের যৌথ উদ্যোগে ওয়েলসের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা সামনে এসেছে।

যুক্তরাজ্যে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে নিজস্ব পার্লামেন্ট ও কিছু নীতিনির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়।

তবে জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রযোজ্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ লন্ডনের হাতেই রয়েছে।

এই ক্ষমতার বিভাজন নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন মাত্রা

তিন অঞ্চলের নেতাদের চুক্তির মাত্র দুইদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের একীভূত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।

আইরিশ ওপেনের আয়োজক তার গলফ কোর্স পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে আবারও একীভূত হতে দেখতে চান।

তার এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

সূত্র: এপি
কেএএ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নতুন মায়েদের জন্য শুটিংয়ে ‘বাড়তি যত্ন’, জানালেন শ্রিয়া
নতুন মায়েদের জন্য শুটিংয়ে ‘বাড়তি যত্ন’, জানালেন শ্রিয়া

মা হওয়ার পর অভিনয়জীবনে সিনেমা বাছাইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে শ্রিয়া সরণের। তবে, এই পরিবর্তনের সময়ে ‘দৃশ্যম’ সিনেমার টিম যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটিই অভিনেত্রীর কাছে বিশেষ হয়ে আছে।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ এসোসিয়েশনের প্রশাসক হলেন আতিকুর রহমান

কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ এসোসিয়েশনের প্রশাসক হলেন আতিকুর রহমান

নেশার টাকার জন্য বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

নেশার টাকার জন্য বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

২২ বছর পর কারামুক্ত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন

২২ বছর পর কারামুক্ত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন

গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে ইসরায়েল : সিআই-এর প্রতিবেদন
গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে ইসরায়েল : সিআই-এর প্রতিবেদন

বিশেষ করে অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের— যাদের ‘হারেদি’ বলা হয়— সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির বিষয়টি ইসরায়েলি সমাজে বড় ধরনের ক্ষোভ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একদিকে দীর্ঘ সময় ধরে রিজার্ভ সেনাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে হারেদি পুরুষদের একটি বড় অংশ সামরিক সেবার বাইরে থাকায় ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন আরো তীব্র হচ্ছে।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

বিশ্ব বসতি দিবসের মেলায় টেকসই আবাসনের প্রযুক্তি দেখাচ্ছে ওয়ালটন

বিশ্ব বসতি দিবসের মেলায় টেকসই আবাসনের প্রযুক্তি দেখাচ্ছে ওয়ালটন

২৬টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার: বর্ষসেরা রিপোর্টের খোঁজে ডিআরইউ

২৬টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার: বর্ষসেরা রিপোর্টের খোঁজে ডিআরইউ

ঘুষ নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করা পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড
ঘুষ নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করা পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

ঘুষ নেওয়াকে যৌক্তিক দাবি করে মন্তব্য করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে ক্লোজড করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ছে লিফটের চাহিদা, উৎপাদনে জোর ওয়ালটনের

নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ছে লিফটের চাহিদা, উৎপাদনে জোর ওয়ালটনের

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড়

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড়

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ

0 Comments