একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‘প্রকৃতির ঝাড়ুদার’ বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ বছরে শুধু হবিগঞ্জেই শকুনের সংখ্যা কমে অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে সারাদেশে ছিল ২০০ শকুন। এর মধ্যে হবিগঞ্জেই ছিল শতাধিক। বর্তমানে সরকারি হিসেবে আছে মাত্র ৬০টি। তবে বাস্তবে ৪০টির বেশি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাণীর শরীরে বিষাক্ত ওষুধের প্রয়োগই শকুন কমার একমাত্র কারণ।
একটা সময় কী গ্রাম, কী শহর; সবখানেই শকুনের অবাধ বিচরণ ছিল। কোনো মরা প্রাণীর সন্ধান পেলেই আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াতো পাখিটি। আর আকাশে শকুন দেখেই মানুষ অনুমান করতো, এখানে কোনো মরা প্রাণী রয়েছে। প্রকৃতিতে ভারসাম্য রক্ষায় এ পাখিটির অবদান অপরিসীম।
‘সরকারি রেজিস্টার অনুযায়ী হবিগঞ্জের রেমা কালেঙ্গা বনাঞ্চলে বর্তমানে ৬০টি শকুন আছে। ২০২৪ সালে শতাধিক শকুন ছিল। এর মধ্যে এবছরই ৪০-৪৫টি শকুন মৌলভীবাজারের একটি পাহাড়ে যায়। সেখানে একটি ছাগল মারা যায়। এটি খায় একটি শিয়াল ও একটি কুকুর। পরে এগুলোও বিষক্রিয়ায় মারা যায়। সেখানে এ মরা প্রাণী দুটি খেয়ে শকুনগুলোও মারা যায়। এরপর থেকে শকুন আর তেমন বাড়েনি’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাখিটি হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হতে চলেছে প্রকৃতির ভারসাম্য। শকুন রক্ষায় সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও তেমন কোনো ফল আসছে না বলে জানা গেছে।

তবে সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই এর সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছে শকুন রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) দায়িত্বরতরা।
সংগঠনটির প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুলতান আহমেদ। শকুনের ‘ফিল্ড অ্যাক্টিভিটি’ দেখার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এজন্য তাদের চারজনের একটি টিম রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, দেশের দুটি স্থানেই বর্তমানে শকুন রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরবনে প্রায় ২০০টি এবং হবিগঞ্জের রেমা কালেঙ্গা বনাঞ্চলে আছে ৫০টি।
‘শকুন কখনো দ্বিতীয়বার সঙ্গী গ্রহণ করে না। যদি কখনো পুরুষ বা নারী শকুনের একটি মারা যায়, তবে তারা আর কোনো সঙ্গী গ্রহণ করে না। ফলে তাদের বংশবৃদ্ধি থেমে যায়। মৌলভীবাজারে গিয়ে যেহেতু বেশকিছু শকুন মারা গেছে, তাই বংশবৃদ্ধি কমে গেছে’

সুলতান আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও রেমা কালেঙ্গায় ১০০টির মতো শকুন ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে বেশ কিছু শকুন মৌলভীবাজারে চলে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানে শকুনগুলো খাবারে বিষক্রিয়ায় মারা যায়। এখন সরকারের পক্ষ থেকে এগুলোকে নিরাপদ খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। তাদের জন্য আলাদা বাজেট করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে শকুনের সংখ্যা বাড়তে পারে।’
রেমা কালেঙ্গায় শকুনের দেখভালের দায়িত্বে থাকা গ্রামপুলিশ সাজেন মুন্ডা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা ২৫ জন আছি। আমাদের কাজ শকুনগুলোর দেখাশোনা করা।’
তিনি জানান, সরকারি রেজিস্টার অনুযায়ী এখানে বর্তমানে ৬০টি শকুন আছে। ২০২৪ সালে শতাধিক শকুন ছিল। এর মধ্যে এবছরই ৪০-৪৫টি শকুন মৌলভীবাজারের একটি পাহাড়ে যায়। সেখানে একটি ছাগল মারা যায়। এটি খায় একটি শিয়াল ও একটি কুকুর। পরে এগুলোও বিষক্রিয়ায় মারা যায়। সেখানে এ মরা প্রাণী দুটি খেয়ে শকুনগুলোও মারা যায়। এরপর থেকে শকুন আর তেমন বাড়েনি।

গ্রামপুলিশ সাজেন মুন্ডা বলেন, ‘আমাদের এখানে সরকারি উদ্যোগে মাসে দুটি গরু শকুনের খাবার হিসেবে দেওয়া হয়। আমরা সেগুলো জবাই করে দিয়ে আসি। সুন্দরবনেও একইভাবে শকুন সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগে খাবার দেওয়া হচ্ছে।’

সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সহিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে গাছে গাছে শকুনের ঝাঁক দেখা যেত। এখন শকুন তেমন দেখা যায় না। এখন শকুন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এগুলো বাঁচিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
একমাত্র পশুতে বিষ প্রয়োগের ফলে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে মনে করেন এই ইউপি সদস্য। তিনি বলেন, রেমা কালেঙ্গায় বর্তমানে ৫০টির বেশি শকুন হবে না। তারা ঠিকমতো খাবার পায় না। খাবারের অভাবে শকুন দিন দিন কমছে।
আইইউসিএনের তথ্য বলছে, ২০২৩-২০২৪ সালে শকুনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২৪৬টি। কিন্তু ২০২৪ সালে অন্তত ৪০টি শকুন মৌলভীবাজারের একটি পাহাড়ে চলে যায়। সেখানে ১০টি স্ত্রী শকুন ছিল। সেখানে বিষক্রিয়ায় শকুন মারা যাওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ছাগলে বিষাক্ত ওষুধ কিটোপ্রোফেন ও ডাইক্লোফেনাক প্রয়োগ।
তবে আশার কথা হলো ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর থেকে শকুনের জন্য সরকারিভাবে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। শকুন সংরক্ষণের জন্যও বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে সময়ের সঙ্গে শকুন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে শিয়াল মারার জন্য অনেক স্থানেই কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিয়াল মারায় কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আইইউসিএনের প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুলতান আহমেদ বলেন, ‘শকুন কখনো দ্বিতীয়বার সঙ্গী গ্রহণ করে না। যদি কখনো পুরুষ বা নারী শকুনের একটি মারা যায়, তবে তারা আর কোনো সঙ্গী গ্রহণ করে না। ফলে তাদের বংশবৃদ্ধি থেমে যায়। মৌলভীবাজারে গিয়ে যেহেতু বেশকিছু শকুন মারা গেছে, তাই বংশবৃদ্ধি কমে গেছে।’
হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের শিক্ষক ডা. সালাউদ্দীন ইউসুফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি শকুন নিয়ে এখানে আইইউসিএন এবং বনবিভাগ কাজ করছে। তবে আরও বেশি হয়তো কাজ করার সুযোগ আছে। অনেকেই অভিযোগ দিচ্ছেন, সেখানে (রেমা কালেঙ্গা) সংরক্ষণের যে ব্যবস্থা সেটি ভালোভাবে হচ্ছে না। এখানে যদি তাদের ক্যাপটিভ ব্রিডিং করা হয় এবং রিলিজ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া যায় অথবা বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় তাদের ইনব্রিডিং করিয়ে ক্যাপটিভ ব্রিডিং করিয়ে তাদের পরিবেশে রিলিজ করা যেতে পারে।’
শকুন সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শকুন নিয়ে আরও বেশি গবেষণা করা যেতে পারে। শকুনের আবাসন প্রকল্পও করা যেতে পারে। তাদের খাদ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান করা যেতে পারে। মৃত পশুগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখলে সেখানে ধীরে ধীরে শকুনের আনাগোনা বাড়বে। এভাবে করতে পারলে একসময় আশা করা যায়, আমাদের দেশে প্রকৃতিতে শকুনের আবার আগের মতো ফিরে আসবে।’
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম জাগো নিউজকে বলেন, “শকুন ‘প্রকৃতির ঝাড়ুদার’। মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ খেয়ে এটি পরিবেশ পরিষ্কার রাখে এবং অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তার রোধে সহায়তা করে। তাই আমাদের প্রয়োজনেই শকুন বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।’
এ বিষয়ে আইইউসিএনের প্রকল্প সহকারী শাকিব আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘শকুন জীবন বাঁচায়। তাই শকুনকে বাঁচাতে হবে। শকুন বাঁচলে প্রকৃতি সুস্থ থাকবে।’
ইআরকে/এসআর/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
নজরুল ও সুইটির বিচার চলাকালে তাদের জন্য দোভাষী বা আইনজীবীর ব্যবস্থা ছিল কি না, সে বিষয়ে নথিতে কোনো তথ্য নেই। নথিতে বলা হয়েছে, সৌদি আদালতে দোভাষীর সহায়তা দেওয়া হয়। তবে বিবাদীরা নিজেদের পছন্দমতো দোভাষী নির্বাচন করতে পারেন না।
দ্বিতীয় মেয়ের নাম প্রকাশ করেছেন বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। তাদের ছোট মেয়ের নাম দেবী পাড়ুকোন সিং।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ডাকঘরের ১৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুককে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট...