জাতীয়

সারাদিন চ্যাট-কলে কথা, দেখা হলে কেন মুখে কথা আসে না

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সারাদিন চ্যাট-কলে কথা, দেখা হলে কেন মুখে কথা আসে না
সারাদিন চ্যাট-কলে কথা, দেখা হলে কেন মুখে কথা আসে না

ডেটিংয়ের শুরুটা কখনো কখনো রূপকথার মতো মনে হতে পারে। কয়েক সপ্তাহ ধরে কারো সঙ্গে নিয়মিত মেসেজ, দীর্ঘ ফোনালাপ, রাত জেগে গল্প আর ছোট ছোট বিষয়ে হাসিঠাট্টা-সব মিলিয়ে মনে হতে থাকে, অবশেষে হয়তো সেই কাঙ্ক্ষিত মানুষটির দেখা মিলেছে।

মেসেজে কথার যেন শেষই নেই। একে অন্যের রসিকতায় হাসি, পছন্দ-অপছন্দে মিল, কথার ধরনেও বোঝাপড়া। ফোনে কথা বললেও মনে হয়, দুজনের মধ্যে যেন বহুদিনের পরিচয়। স্বাভাবিকভাবেই এরপর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত-প্রথমবার সামনাসামনি দেখা।

কিন্তু দেখা হওয়ার পরই অনেকের মনে হতে পারে, এ মানুষটি কি সত্যিই সেই একই মানুষ, যার সঙ্গে অনলাইনে এত ভালো জমেছিল? সামনাসামনি বসার পর কথাই যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনলাইনে যে মানুষটি এত মজার, প্রাণবন্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, বাস্তবে তিনি হয়ে পড়েছেন বেশ চুপচাপ। কথোপকথনে বারবার বিরতি, অস্বস্তিকর নীরবতা-সব মিলিয়ে অনলাইনের সেই ‘কেমিস্ট্রি’ যেন হঠাৎ করেই উধাও।

অনলাইনের কেমিস্ট্রি বাস্তবে সবসময় একই রকম থাকে নাঅনলাইনের কেমিস্ট্রি বাস্তবে সবসময় একই রকম থাকে না

চ্যাটে সাবলীল হলে বাস্তবে অস্বস্তি হতে পারে

এর পেছনে বেশ কিছু স্বাভাবিক কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে যারা সামাজিক পরিস্থিতিতে কিছুটা বেশি চিন্তা করে কথা বলেন বা সামনাসামনি মিশতে সময় নেন, তাদের জন্য বিষয়টি আরও কঠিন হতে পারে।

মেসেজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো-উত্তর দেওয়ার আগে ভাবার সময় পাওয়া যায়। কী লিখবেন, কোন শব্দ ব্যবহার করবেন, কথাটা মজার করে বলা যায় কি না ভেবে নেওয়ার সুযোগ থাকে। কোনো উত্তর পছন্দ না হলে সেটি মুছে আবার লেখা যায়।

ফলে অনলাইনে একজন মানুষ নিজের ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিদীপ্ত কিংবা রসিক দিকটি তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু সামনাসামনি কথোপকথনে সেই সময়টুকু পাওয়া যায় না। প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। ফলে মাথায় থাকা সুন্দর কথাটিও অনেক সময় ঠিকমতো মুখে আসে না।

সামনে বসলে সবকিছুই বোঝা যায়

চ্যাটে কথার পাশাপাশি দেখা যায় মূলত লেখা, কখনো ছবি বা ইমোজি। কিন্তু সামনাসামনি দেখা হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।

কথার সঙ্গে যুক্ত হয় চোখের দৃষ্টি, মুখের অভিব্যক্তি, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা, শরীরী ভাষা এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। অন্য ব্যক্তি আপনার কথা শুনে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, সেটিও মুহূর্তেই বোঝা যায়।

মেসেজে কেউ হয়তো কোনো মজার কথার উত্তরে হাসির ইমোজি পাঠালেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি সত্যিই হাসলেন কি না, কথাটি তার ভালো লাগল কি না-তা মুখের অভিব্যক্তি থেকেই বোঝা যায়। তাই অনলাইনের যোগাযোগ অনেক সময় বাস্তব মিথস্ক্রিয়ার তুলনায় অসম্পূর্ণ ছবি দেয়।

অনলাইনের মানুষটি কি তাহলে ‘ভুল’?

অনলাইনে একজন মানুষ নিজের স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বই প্রকাশ করতে পারেন, আবার সামনাসামনি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত নার্ভাস হয়েও যেতে পারেন।
বিশেষ করে প্রথম দেখা করার আগে দুজনের মনেই যদি অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়ে যায়, তাহলে চাপ আরও বাড়তে পারে। ‘কথা যেন ভালো হয়’, ‘অন্যজন আমাকে পছন্দ করুক’, ‘কোনো ভুল যেন না হয়’-এমন চিন্তা স্বাভাবিক কথোপকথনকেও কঠিন করে তুলতে পারে।

ফলে প্রথম দেখাতেই অনলাইনের মতো স্বচ্ছন্দ হতে না পারা মানেই যে দুজনের মধ্যে কোনো সম্ভাবনা নেই, তা নয়।

প্রথম ডেট খারাপ হলেই কি সম্পর্ক শেষ

সবসময় নয়। প্রথম দেখা মূলত দুজন মানুষের জন্যই একটি নতুন পরিস্থিতি। অনলাইনে কয়েক সপ্তাহ কথা বলার পর হঠাৎ বাস্তবে দেখা হলে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তাই প্রথম সাক্ষাতে অস্বস্তি হলে একে অপরকে কিছুটা সময় দেওয়া যেতে পারে। দ্বিতীয়বার দেখা করার পর হয়তো কথাবার্তা অনেক বেশি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। ধীরে ধীরে কমতে পারে জড়তা, তৈরি হতে পারে স্বাচ্ছন্দ্য।

তবে সময় দেওয়ার অর্থ এই নয় যে অস্বস্তি বা অনাগ্রহকে জোর করে উপেক্ষা করতে হবে। কয়েকবার দেখা ও কথা বলার পরও যদি মনে হয় যোগাযোগে স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হচ্ছে না, তাহলে নিজের অনুভূতিকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন

সন্তান আসার পর বদলে গেছে দাম্পত্য, রোমান্স ফেরানোর সহজ উপায়

কারণ সত্যিকারের বোঝাপড়া শুধু চ্যাটের অসংখ্য মেসেজ বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনালাপে তৈরি হয় না। একজন মানুষ আপনার পাশে বাস্তবে কেমন অনুভূতি তৈরি করেন, কীভাবে কথা বলেন এবং দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হয় কি না, সেটিও সম্পর্ক বোঝার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুন

বিয়েতে বয়সের ব্যবধান কতটা গুরুত্বপূর্ণ, নাকি বোঝাপড়াই আসল?

তাই অনলাইনে দারুণ কেমিস্ট্রি থাকার পর প্রথম দেখায় যদি একটু অস্বস্তি হয়, সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুর ইতি টেনে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার শুধু অনলাইনের ভালো লাগার কারণে বাস্তবের অস্বস্তিকেও উপেক্ষা করা ঠিক নয়। দুজনকে একটু সময় দিন-তারপরই হয়তো পরিষ্কার হবে, এটি শুধু ভালো চ্যাটিংয়ের সম্পর্ক, নাকি সত্যিই আরও কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সূত্র: ভেরি ওয়েল মাইন্ড, আমেরিকান ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন

এসএকেওয়াই

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বিশ্ব অর্থনীতি শিগগিরই সহ্য ক্ষমতার পরীক্ষায় পড়তে পারে: আইএমএফ
বিশ্ব অর্থনীতি শিগগিরই সহ্য ক্ষমতার পরীক্ষায় পড়তে পারে: আইএমএফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জরুরি তেলের মজুদ কমে আসা এবং সরকারি বাজেটের ওপর অত্যধিক চাপের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ‘শিগগিরই তার সহনক্ষমতার সীমার পরীক্ষায় পড়তে পারে।’

News অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
দুই বিষয়ে ফেল করলে ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

দুই বিষয়ে ফেল করলে ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ভিডিও-ছবি থাকার পরও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ভিডিও-ছবি থাকার পরও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

কুষ্টিয়ায় সাহেব আলী হত্যায় ১২ জনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়ায় সাহেব আলী হত্যায় ১২ জনের যাবজ্জীবন

হুথিদের হামলার আগে জনসতর্কতা জারি বন্ধ করে দিয়েছিল সৌদি আরব
হুথিদের হামলার আগে জনসতর্কতা জারি বন্ধ করে দিয়েছিল সৌদি আরব

রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার কয়েক দিন আগেই সৌদি আরব আসন্ন সামরিক হামলার বিষয়ে জনসতর্কতা জারি করা বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। মঙ্গলবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

News অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু: ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গু: ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু

শহিদিকে ফিরিয়ে মিরাজের আঘাত, জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ৪ উইকেট

শহিদিকে ফিরিয়ে মিরাজের আঘাত, জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ৪ উইকেট

শরীরে মাদক শনাক্ত হওয়ায় পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

শরীরে মাদক শনাক্ত হওয়ায় পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

0 Comments