জাতীয়

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ২৮ বছর ধরে সেতু পড়ে আছে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ২৮ বছর ধরে সেতু পড়ে আছে
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ২৮ বছর ধরে সেতু পড়ে আছে

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের বাকশিমুল গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঘুংঘুর নদ। এই নদের ওপর ২৮ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি সেতু। কিন্তু এত বছরেও সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি।

সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ ফুট এবং প্রস্থ ১০ ফুট। বছর পাঁচেক আগে স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে সেতুর এক পাশে ৯টি সিঁড়ি নির্মাণ করেছেন। অন্য পাশে কোনো সিঁড়ি নেই। সেখানে ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠতে ও নামতে হয়। সমতল থেকে সেতুটির অবস্থান অনেকটা খাড়া হওয়ায় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সমস্যায় পড়তে হয়।

পূর্ব পাশে সেতুর গোড়ায় ৯টি সিঁড়ি আছে। ওই সিঁড়ি বেয়ে স্থানীয় লোকজন সেতুতে উঠে নদ পার হন। পশ্চিম পাশে সেতুতে ওঠানামার জন্য কয়েকটি মাটি ও বালুর বস্তা দেওয়া হয়েছে। পূর্ব পাশে সেতুসংলগ্ন জায়গায় পাকা সড়ক আছে। পশ্চিম পাশেও প্রায় ২০ ফুট দূরে একটি পাকা সড়ক আছে। দুই পাশের সড়কের সঙ্গে সেতুটির সংযোগ স্থাপন করা গেলে এটি আবার ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাকশিমুল গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, বাকশিমুল ইউনিয়নের মধ্যে বাকশিমুল গ্রামটি বেশ বড়। সংযোগ সড়ক থাকলে এই সেতু দিয়ে বাকশিমুল ছাড়াও ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ২০ হাজার মানুষের চলাচলে সুবিধা পেত।

বাকশিমুল গ্রামের বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘এই ব্রিজ দিয়া গাড়ি না চলার কারণে আমরারে অনেক পথ ঘুইরা আসা-যাওয়া করতে হয়। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নিলে আমরা অনেক আগেই এই ব্রিজ দিয়া চলাচল করতে পারতাম। এহনকার সময়ে এই রকম একটা ব্রিজ বানাইতে কোটি টাকার বেশি খরচ হইবো। আমরা চাইতাছি, ব্রিজের দুই পাশের রাস্তাডা নির্মাণ হোক। এরপর সংস্কার কইরা ব্রিজডারে ব্যবহার করনের ব্যবস্থা করুক কর্তৃপক্ষ।’

সেতুটি কার, তা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা

স্থানীয় লোকজন জানান, সেতুটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় ধরে এর রক্ষণাবেক্ষণ বা সংযোগ সড়ক নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এমনকি কোন সরকারি দপ্তর সেতুটি নির্মাণ করেছে, তা নিয়েও অনেক বাসিন্দা নিশ্চিত ছিলেন না।

বাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, সেতুটি ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর ধারণা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

আবদুল করিম বলেন, ‘যে জায়গায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কিন্তু বর্তমানে সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচলের কোনো পরিবেশ নেই। দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা গেলে সেতুটি এখনো ব্যবহার করা সম্ভব।’

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল গ্রামে ২৮ বছর আগে সেতুটি নির্মিত হয়। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারে না

বুড়িচং উপজেলার এলজিইডির সদ্য সাবেক প্রকৌশলী আলিফ আহমেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেতুটি এলজিইডির মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বলা হয়েছিল। পরে ওই জায়গার একাংশ নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে মামলা হয়। মামলা চলমান থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে বুড়িচং উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সম্প্রতি বুড়িচংয়ে যোগ দিয়েছেন। সেতুটির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানেন না। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এমন হয়ে থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত খোঁজখবর নেব। এরপর কীভাবে সেতুটিকে মানুষের চলাচলের উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে চেষ্টা করা হবে।’

সেতু দিয়ে ওঠানামার সময় বিভিন্ন সময়ে অনেক মানুষ হোঁচট খেয়ে আহত হয়েছেন বলে জানান বাকশিমুল গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বড় ব্রিজ হইলেও এইডা দিয়া পায়ে হাঁটা ছাড়া কোনো গাড়ি চলে নাই। একসময় মানুষ নৌকায় এই নদ পার হইত। ব্রিজ হওয়ার পর আমরা ভাবছিলাম জীবনযাত্রা সহজ হইবো। কিন্তু ব্রিজটা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াইছে।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আইপিএলে নতুন দায়িত্বে সৌরভ গাঙ্গুলি
আইপিএলে নতুন দায়িত্বে সৌরভ গাঙ্গুলি

এর আগেও দিল্লি ক্যাপিটালসের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে সৌরভের। দলটির উপদেষ্টা ও ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই অভিজ্ঞ সাবেক অধিনায়ক।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
না হলো যাওয়া আর কাশবনে: পরীমণি

না হলো যাওয়া আর কাশবনে: পরীমণি

হাম উপসর্গে আরো ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৯৩

হাম উপসর্গে আরো ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৯৩

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

লালমনিরহাটে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
লালমনিরহাটে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
চুরির অভিযোগে দুই ভাইকে গণপিটুনি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে

চুরির অভিযোগে দুই ভাইকে গণপিটুনি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে

নওগাঁর দুই সীমান্ত এলাকায় ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করেছে বিজিবি 

নওগাঁর দুই সীমান্ত এলাকায় ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করেছে বিজিবি 

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি চায় কুবি প্রশাসন

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি চায় কুবি প্রশাসন

0 Comments