জাতীয়

কথা না বলেই শুটিং শেষ! ৪০ বছর পর জানা গেল নায়ক–নায়িকার অদ্ভুত আচরণের কারণ

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
কথা না বলেই শুটিং শেষ! ৪০ বছর পর জানা গেল নায়ক–নায়িকার অদ্ভুত আচরণের কারণ
কথা না বলেই শুটিং শেষ! ৪০ বছর পর জানা গেল নায়ক–নায়িকার অদ্ভুত আচরণের কারণ

পর্দায় তাঁরা নায়ক–নায়িকা। একসঙ্গে প্রেমের দৃশ্য করেছেন, আবেগঘন মুহূর্তে অভিনয় করেছেন। দর্শক দেখেছেন তাঁদের রসায়ন। কিন্তু ক্যামেরার পেছনে সম্পর্ক ছিল একেবারেই অন্য রকম। একই ছবিতে অভিনয় করেও একে অপরের সঙ্গে কথা বলতেন না কমল হাসান ও রতি অগ্নিহোত্রী। এমনকি ‘হাই’ বা ‘হ্যালো’ বলেও সৌজন্য বিনিময় করেননি তাঁরা।

প্রায় চার দশক পর সেই অদ্ভুত ঘটনার কথা আবার সামনে এসেছে। সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কাননের অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘দেখা পেয়ার তুমহারা’–এর লেখক রণবীর পুষ্প জানিয়েছেন, ১৯৮৫ সালের ওই ছবির শুটিংজুড়ে কমল ও রতি একে অপরের সঙ্গে কথা বলেননি। অথচ ক্যামেরা চালু হলে পেশাদার অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেদের কাজ ঠিকই করেছেন।

ঘটনার শুরু ছবিটির অভিনয়শিল্পী নির্বাচন নিয়ে। রণবীর পুষ্পর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘দেখা পেয়ার তুমহারা’–তে কমল হাসানের বিপরীতে কাকে নেওয়া হবে, তা নিয়ে অভিনেতার নিজের একটি পছন্দ ছিল। তিনি চেয়েছিলেন পুনম ধিলনকে নায়িকা হিসেবে নিতে। কিন্তু রণবীর পুষ্পর পছন্দ ছিল রতি অগ্নিহোত্রী।

শেষ পর্যন্ত রণবীরের পছন্দই চূড়ান্ত হয়। রতির বাবা তখন মেয়ের ক্যারিয়ার পরিচালনার পাশাপাশি তাঁর সচিবের দায়িত্বও পালন করতেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে রতিকে ছবিতে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন রণবীর। কিন্তু নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি—এ বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি কমল।

‘দেখা পেয়ার তুমহারা’র দৃশ্য। আইএমডিবি

রণবীরের স্মৃতিচারণা অনুযায়ী, কিছুদিন পর তাঁরা বুঝতে পারেন কমল ও রতি একে অপরের সঙ্গে কথা বলছেন না। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে কীভাবে ছবির কাজ শেষ হবে, সেই চিন্তা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ঝামেলা ছাড়াই দুজন শুটিং চালিয়ে যান।

শুটিংয়ের পুরো সময় কমল ও রতির মধ্যে সেই নীরবতা বজায় ছিল। তাঁরা একবারের জন্যও একে অপরকে ‘হাই’ বা ‘হ্যালো’ বলেননি। অথচ ক্যামেরার সামনে এমন কোনো লক্ষণও দেখা যায়নি যে দুই অভিনেতার মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ চলছে। দৃশ্য অনুযায়ী সংলাপ বলেছেন, আবেগ প্রকাশ করেছেন, পরস্পরের সঙ্গে অভিনয় করেছেন।

এ ঘটনাটিই আরও চমকপ্রদ হয়ে ওঠে ‘এক দুজে কে লিয়ে’–এর পুরোনো অধ্যায় মনে করলে। ১৯৮১ সালের সেই ছবিতে কমল হাসান ও রতি অগ্নিহোত্রী ছিলেন আলোচিত জুটি। ছবিতে তাঁদের প্রেমের গল্প দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু শুটিংয়ের সময় দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা টানাপোড়েনের কথাও পরে সামনে আসে।
কমল তখন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন। রতি ছিলেন ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে থাকা তরুণ অভিনেত্রী। ফলে দুজনের ব্যক্তিত্ব ও কাজের ধরন নিয়েও সেটে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

‘দেখা পেয়ার তুমহারা’র দৃশ্য। আইএমডিবি

এর মধ্যেই কমলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা আলোচনা চলছিল। তিনি তখন বাণী গণপতিকে বিয়ে করেছেন। একই সময়ে অভিনেত্রী সারিকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের খবরও সংবাদমাধ্যমে আসতে থাকে। পরবর্তী সময়ে সারিকা অন্তঃসত্ত্বা হন। সেই সময় কমলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল।

আর এ সময়েই রতির একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারের বক্তব্যও দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল। রতি দাবি করেছিলেন, ‘এক দুজে কে লিয়ে’–এর শুটিংয়ের সময় এক রাতে কমলের ঘরে অন্য এক নারী ছিলেন। এমনকি ভোর চারটার দিকে এক নারীকে কমলের ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেছিলেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। ঘটনাটি নিয়ে তখন নানা জল্পনা তৈরি হয়।

‘দেখা পেয়ার তুমহারা’র দৃশ্য। আইএমডিবি

পরে সিনেব্লিৎজ–এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কমল ওই মন্তব্যের জবাবও দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সে সময় স্ত্রী বাণী ছাড়া অন্য কোনো নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল না।
পুরোনো এই বিতর্কের সত্যতা নিয়ে নানা মত থাকলেও কমল ও রতির সম্পর্ক যে খুব একটা উষ্ণ ছিল না, পরবর্তী ঘটনাগুলো তার ইঙ্গিত দেয়। আর ‘দেখা পেয়ার তুমহারা’র সেটে সেই দূরত্ব যেন চূড়ান্ত রূপ নেয়।

কমল ও রতির গল্পে আরেকটি কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায় রয়েছে। পরবর্তী প্রজন্মেও তাঁদের দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। কমল হাসান ও সারিকার মেয়ে অক্ষরা হাসানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন রতি অগ্নিহোত্রীর ছেলে তনুজ বিরওয়ানি। প্রায় চার বছর তাঁদের সম্পর্ক ছিল।

পরে তনুজও সিদ্ধার্থ কাননের সঙ্গে আলাপচারিতায় সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সম্পর্কে সঙ্গীর প্রতি সম্মান হারিয়ে গেলে এবং প্রয়োজনের সময় তাঁর পাশে দাঁড়ানো না হলে সেই ক্ষত সহজে মুছে যায় না। ক্ষমা করা সম্ভব হলেও কিছু বিষয় মানুষ ভুলে যায় না। শেষ পর্যন্ত দুজনই নিজেদের জীবনে আলাদা পথে এগিয়ে গেছেন।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, যুবক আটক
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, যুবক আটক

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় আব্দুর রহমান ওরফে সম্রাট নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে র‍্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ

মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে র‍্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ

পূজায় মদ খেয়ে নাচানাচি করলে ঘাড় ধরে নিয়ে আসব: পুলিশ সুপার

পূজায় মদ খেয়ে নাচানাচি করলে ঘাড় ধরে নিয়ে আসব: পুলিশ সুপার

মানিকগঞ্জে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মা ইলিশ রক্ষায় ২৮ হাজার ৯২৯ জেলেকে ৭২৩ মেট্রিক টন চাল
মা ইলিশ রক্ষায় ২৮ হাজার ৯২৯ জেলেকে ৭২৩ মেট্রিক টন চাল

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পদ্মা-মেঘনা নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা একটি জেলা। এই জেলার নদীগুলোতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। চলতি মৌসুমে ইলিশের প্রধান প্রজনন মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে মাছ ধরার ওপর আজ (৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে আগামী (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত পর্যন্ত মোট ২২ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জেলার মোট চারটি উপজেলা— জাজিরা, নড়িয়া, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জে এ সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা হিসেবে সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে বিজেপি

‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে বিজেপি

সেই সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন

সেই সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন

বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ

বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ

0 Comments