জাতীয়

কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড: সাত আসামির কার কী অপরাধ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড: সাত আসামির কার কী অপরাধ
কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড: সাত আসামির কার কী অপরাধ

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় কয়েকটি অভিযোগে আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ড ও খালাসও দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উসকানি, নির্দেশনা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মৃত্যুদণ্ড, আমৃত্যু কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডাররা ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, কাদেরের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়।

আরও পড়ুন

মানবতাবিরোধী অপরাধ / ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মুঠোফোনে কথোপকথন হয়। আন্দোলন দমনের সরাসরি নির্দেশ দিয়ে কাদের তখন সাদ্দামকে বলেছিলেন, ‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন?’

অন্যদিকে ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা ও নাতিপুতি’ সম্বোধন করে বক্তব্য দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের উপস্থিত থেকে অপরাধ সংঘটনে সমর্থন ও প্ররোচনা দেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

১৫ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রুখে দিতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কাদের বলেন, ‘আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব দেবে ছাত্রলীগ।’ রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেন এবং হত্যার নির্দেশনা দেন।

কাদেরের বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এতে নারীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এবং সারাদেশে অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

১৬ জুলাই তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ফোন করে ইন্টারনেটের গতি ধীর করার নির্দেশ দেন কাদের। একই দিনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ফোন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রাম মহানগরের সব এলাকা দখলে রাখার নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এর পর চট্টগ্রামের চাঁন্দগাঁও থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় গুলি করে মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যা করা হয়। একই দিনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারাদেশে ছয়জন আন্দোলনকারী নিহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়।

১৭ জুলাই তেজগাঁওয়ের দলীয় কার্যালয়ে ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় আন্দোলন দমনে প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন কাদের।

১৮ জুলাই ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকে সরকারবিরোধী ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকদের রাজপথে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি।

১৯ জুলাই গণভবনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাদের বৈঠক শেষে কারফিউ জারি ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘এটা অবশ্যই কারফিউ, সেটা শুট অ্যাট সাইট হবে।’ রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, এর মাধ্যমে তিনি দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন

মানবতাবিরোধী অপরাধ / আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ তিন সংগঠনেরই সভাপতি-সেক্রেটারির ফাঁসির আদেশ

এ ছাড়া শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের ষড়যন্ত্র, অপহরণ, গুম, হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই মিরপুরে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনসহ তিনজন, ১৯ জুলাই আসিফ ইকবালসহ ৩০ জন এবং ২০ জুলাই সিফাত হোসেনসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।

৩ আগস্ট ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পাড়া-মহল্লায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন রুখে দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন কাদের।

এর পর ৪ আগস্ট মিরপুরে শাহরিয়ার হাসান আলভী, মিরাজ ফরাজি, মহিউদ্দিনসহ ১২ জন, ফেনীর মহিপালে ইশতিয়াক আহমেদসহ সাতজন এবং লক্ষ্মীপুর সদরে সাদ-আল আফনানসহ চারজনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

৫ আগস্ট মিরপুরে মাহফুজুল আলমসহ ২০ জন এবং রাজশাহী মহানগরে রায়হান আলী ও সাকিব আনজুমসহ সারাদেশে অসংখ্য আন্দোলনকারী নিহত হন বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় সারাদেশে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ১ হাজার ৪০০ এর বেশি নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর আহত করা হয়।

বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডারদের মাধ্যমে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটিত হয়।

১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

ছাত্রলীগের সাদ্দামকে কাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন, মারো?’

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্ররোচনার পর চট্টগ্রামে মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফয়সাল আহমেদ ও মো. ফারুককে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ। একই দিনে আবু সাঈদসহ সারাদেশে ছয়জন নিহত হন।

নিজ জেলা মাদারীপুরে আন্দোলন দমনে সাবেক মেয়র খালিদ হোসেনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকির অভিযোগও রয়েছে নাছিমের বিরুদ্ধে। সেখানে ১৮ জুলাই দীপ্ত দে এবং ১৯ জুলাই তৌহিদকে হত্যা এবং অসংখ্য আন্দোলনকারীকে আহত করার অভিযোগ করা হয়।

৪ আগস্ট বাংলামোটরে আবদুল গনি, বেলাল হোসেন ও নয়ন মিয়া এবং পল্টন নাইটিঙ্গেল মোড়ে ওবায়দুল হককে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়। ৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেলের সামনে রাকিব হোসেন, গুলিস্তানে রমজান মিয়া, বাংলামোটরে ইসমাইল হোসেন ও চাঁনখারপুলে ইমামুল হকসহ মোট ১৩ জন নিহত হন বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

অভিযোগে বলা হয়, ১৩ জুলাই তেজগাঁওয়ের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কোটা আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই—এমন বক্তব্যসহ বিভিন্ন উসকানিমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দেন তিনি।

১৪ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং পরিকল্পিতভাবে হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।

১৯ জুলাই প্রেস ব্রিফিংয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন আরাফাত। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচ বছর অস্ত্র-গুলি ব্যবহার করার মতো মজুত রয়েছে—এমন বক্তব্য দিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মহাখালী রেলক্রসিং ও চৌরাস্তা এলাকায় ১৯ জুলাই ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সার্বিক তত্ত্বাবধানের অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া ২০ জুলাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনালাপে টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলার অভিযোগ রয়েছে।

আন্দোলন দমনে সরকারের বলপ্রয়োগ ও সহিংসতার সংবাদ প্রচার করায় কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয় আরাফাতের বিরুদ্ধে।

শেখ ফজলে শামস পরশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলে শামস পরশ। অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর আক্রমণে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ছাত্র-জনতা নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, এসব হত্যা ও নির্যাতনের অন্যতম নির্দেশদাতা ও নেতা ছিলেন পরশ।

আরও পড়ুন

সভাপতি শেখ হাসিনার পর সাধারণ সম্পাদক কাদেরের মৃত্যুদণ্ডের রায়

১৮ জুলাই যুবলীগ ক্যাডারদের গুলিতে চট্টগ্রাম মহানগরে তানভীর ছিদ্দিকী, সায়মন মাহিন ও হৃদয় চন্দ্র তরুয়াকে হত্যা এবং ১৯ জুলাই মহাখালী এলাকায় শাহাজাহান, গণি মিয়া, আল আমিন রনি, জাহিদ হোসেন, ইমাম মেহেদী হাসান ও মামুন হোসেনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক বক্তব্যে পরশ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ‘আগ্রাসন ও ধ্বংসলীলা’ বলে আখ্যায়িত করেন। এ সময় জামায়াত নিষিদ্ধের পর আন্দোলনকারীরা ‘মরণ কামড়’ দিতে পারে বলে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

৪ আগস্ট লক্ষ্মীপুর শহরে যুবলীগ ক্যাডারদের গুলিতে সাদ-আল আফনান, ওসমান পাটোয়ারী, সাব্বির হোসেন ও কাওসার এবং ৫ আগস্ট রাজশাহী মহানগরে আলী রায়হান ও সাকিব আঞ্জুম নিহত হন বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ।

মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ১২ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি অনুষ্ঠানে আন্দোলনকারীদের কটাক্ষ করে আন্দোলন প্রতিহত করতে যুবলীগের নেতাকর্মী ও অনুসারীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

১৯ জুলাই ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ ও প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিখিল নিজে অস্ত্র হাতে মিরপুর এলাকায় মহড়া দেন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণসহ হামলা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সেদিন বিকেলে তার নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় মিরপুরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রুস্তম, আসিফ ইকবালসহ ২৬ জনকে হত্যা করা হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ।

এ ছাড়া তার উপস্থিতি ও তত্ত্বাবধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যুবলীগসহ অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডাররা ৪ আগস্ট মিরপুরে শাহরিয়ার হাসানসহ ১২ জন এবং ৫ আগস্ট মাহফুজুল আলমসহ ২০ জনকে হত্যা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

২০২ ৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন সাদ্দাম হোসেন।

অভিযোগে বলা হয়, ১১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ছাত্রলীগের এক জমায়েতে আন্দোলনকারীদের ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ বলে হুমকি ও উসকানি দেন তিনি।

ওবায়দুল কাদেরের ‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন’ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সারা দেশে ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীদের প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সাদ্দামের বিরুদ্ধে।

১৫ জুলাই তার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং ঢাকা কলেজের নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে।

‘আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব দেবে ছাত্রলীগ’—ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের পর সাদ্দাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মহানগর, জেলা ও উপজেলায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন ও তা তদারক করেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

১৬ জুলাই আন্দোলনকারীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সাদ্দামের বিরুদ্ধে। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ।

শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগ বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনা করেন, নির্দেশনা দেন এবং অর্থ গ্রহণ করেন।

১৩ জুলাই মধুর ক্যানটিনে হিংসাত্মক, বিদ্বেষপূর্ণ ও উসকানিমূলক বক্তব্য এবং আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার জন্য আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহত করার নির্দেশ দেন ইনান। তার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং ঢাকা কলেজের নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী, ‘এ রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি’

১৬ জুলাই রাজু ভাস্কর্যে সাদ্দাম হোসেন আন্দোলনকারীদের দেখে নেওয়ার যে হুমকি দেন, সেখানে উপস্থিত থেকে ইনান তা সমর্থন করেন বলে অভিযোগ করা হয়। ওই দিন সারাদেশে ছয়জন নিহত হন।

১৮ জুলাই ছাত্রলীগসহ অন্যদের হামলায় সারাদেশে ২৩ জন নিহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ইনানের প্ররোচনা, নির্দেশ ও তদারকিতে ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা সারাদেশে হামলা চালান। এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি আন্দোলনকারী আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড

এদিকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এই রায় ঘোষণা করা হয়।

এফএইচ/এমএমকে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
গাজীপুরে মহাসড়কে বিক্ষোভ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
গাজীপুরে মহাসড়কে বিক্ষোভ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সি স্টেজ (বিডি) লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
সমু চৌধুরীকে মারধর, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সমু চৌধুরীকে মারধর, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, উত্তেজনা তুঙ্গে

উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, উত্তেজনা তুঙ্গে

কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

বিহারের মহাথেরো উত্তম ভিক্ষু বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে বিহারের সীমানার মধ্যে একটি দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে বিহার কর্তৃপক্ষ। এ সময় স্থানীয় নাসির হাওলাদার ও সামসুল আলম বিহারের জমিতে নিজেদের মালিকানা দাবি করে সভাপতি মংলাচিনকে মারধর করেন। এ ঘটনায় গতকাল মংলাচিন মহিপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
নাটোরে গুলির পর ধাওয়া করে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম

নাটোরে গুলির পর ধাওয়া করে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম

বিগ ব্যাশে হোবার্ট হারিকেনস ধরে রেখেছেন রিশাদ হোসেনকে

বিগ ব্যাশে হোবার্ট হারিকেনস ধরে রেখেছেন রিশাদ হোসেনকে

উত্তরায় পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

উত্তরায় পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

0 Comments