চলতি বছরের ব্রিকস সম্মেলন নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছে গভীর সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেনা প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়েই। কিন্তু সেখানে ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ অনুপস্থিতি।
মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ ব্রিকসের ১১টি সদস্যদেশ এবং ১০টি সহযোগী দেশের অধিকাংশকেই প্রভাবিত করলেও জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া ঘোষণাপত্রে এটি সরাসরি স্পর্শ করা হয়নি। এমনকি এই সংঘাতের বস্তুনিষ্ঠ আগ্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রকে ভর্ৎসনাও করা হয়নি।
এ ধরনের কৌশলগত শব্দচয়ন সব সদস্যকে একই কূটনৈতিক ছাতার নিচে থাকার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তবে এতে এটিও প্রকাশ পেয়েছে যে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার প্রতি যৌথ অসন্তোষকে সমন্বিত ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপ রূপ দেওয়া ব্রিকসের জন্য কতটা কঠিন।
সম্মেলনের কয়েক মাস আগেই সমস্যাটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে কোনো সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বৈঠকের চূড়ান্ত ফলাফলে সদস্যদের মতপার্থক্যের কথা স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল—কারও নাম উল্লেখ করা এড়িয়ে যাওয়া হয়।
ইরান চেয়েছিল জোটটি যেন মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানায়। অন্যদিকে ইউএই এমন কোনো বক্তব্য প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল, যা ইরানি হামলা এবং তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করে। এই ব্যর্থতা নিছক কূটনৈতিক অস্বস্তি ছিল না; এটি ছিল ব্রিকস সম্প্রসারণের রাজনৈতিক মূল্যের এক স্পষ্ট ইঙ্গিত।
জোটটির পরিসর বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব বাড়ালেও এর ভেতরের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও আমদানি করেছে। ইরান ও ইউএই এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ। দুটোই ব্রিকস সদস্য হলেও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ একদম বিপরীতমুখী।
ব্রিকস যেন এক বহুকেন্দ্রিকতার ফাঁদে আটকে পড়েছে। এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বৈচিত্র্য। এ বৈচিত্র্যই জোটটিকে বিশ্বব্যাপী এমন সব অঞ্চলে গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে বিশ্ব শাসনের কাঠামোয় কোনো প্রভাব ফেলার সুযোগ পেত না। কিন্তু এই একই বৈচিত্র্য যৌথ ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করাকে কঠিন করে তোলে।
তাই একই সংগঠনে তাদের উপস্থিতি একটি অভ্যন্তরীণ সীমা তৈরি করে দেয়, যার বাইরে গিয়ে কোনো সংঘাতের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়া জোটের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সেপ্টেম্বরের সম্মেলন শেষে একটি ঘোষণাপত্র তো এসেছিল, তবে সমঝোতার ধরনটি ছিল বেশ অর্থবহ। কোনো স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার বদলে ব্রিকস কেবল নিজেদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সামাল দেওয়ার এক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয়, জোটটির প্রধান সমস্যা তাদের অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক শক্তির অভাব নয়; বরং সেই ক্ষমতাকে একটি একক ভূরাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপান্তর করার জটিলতাই তাদের মূল বাধা।
মার্কিন আধিপত্যশীল বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর তাগিদ থেকেই ব্রিকসের উত্থান হলেও ওয়াশিংটনের বিষয়ে এখনো কোনো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি জোটটি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিটি সদস্যের স্বার্থ ভিন্ন।
ভারত এ দ্বিধাদ্বন্দ্ব সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলে। নয়াদিল্লি ব্রিকসকে নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যম মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক জোট হিসেবে নয়। তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে, ‘কোয়াড’-এ অংশ নিচ্ছে এবং পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গে ব্যাপক প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। আবার একই সময়ে তারা রাশিয়া ও চীনের সঙ্গেও গভীর যোগসূত্র রাখছে।
ভারতের কাছে ব্রিকসের আসল মূল্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে নিজস্ব সুবিধাজনক অবস্থান বজায় রাখা। ব্রিকসকে একটি আমেরিকাবিরোধী জোটে রূপান্তর করলে ভারতের সেই কৌশলগত নমনীয়তাই নষ্ট হয়ে যাবে।
চীন ও রাশিয়ার জন্যও ব্রিকসকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের হাতিয়ার বানানোর সুযোগ কম। রাশিয়ার কাছে পশ্চিমা অর্থনৈতিক চাপ কমানোর জন্য ব্রিকস নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
তবে সামরিক জোটের মাধ্যমে আগ্রাসী নীতিতে হাঁটলে তা মস্কোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা তারা যেকোনো মূল্যে এড়াতে চায়।
চীনের জন্য হিসাবটি আরও জটিল। বেইজিং একটি বহুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী প্রভাব চায়। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, বাণিজ্য ও সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যে কাঠামোগত সুবিধা রয়েছে, চীন তা কমাতে আগ্রহী।
কিন্তু ব্রিকস সংক্রান্ত প্রতিটি বিবাদকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্বে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো কারণ চীনের নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার এখনো তাদের রপ্তানির বড় ভিত্তি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অপরিহার্য উপাদান।
অন্যদিকে ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়া এতে আরও এক ধাপ জটিলতা যোগ করে। ব্রাসিলিয়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় আরও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর দর–কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে চায়।
তবে ব্রিকসকে চীন বা রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক চাল চালার হাতিয়ার বানাতে তারা আগ্রহী নয়। একইভাবে জাকার্তা ব্রিকসকে নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বিকল্প বাড়ানোর পথ হিসেবে দেখে, কোনো একপক্ষ বেছে নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে নয়।

ব্রিকস যেন এক বহুকেন্দ্রিকতার ফাঁদে আটকে পড়েছে। এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বৈচিত্র্য। এ বৈচিত্র্যই জোটটিকে বিশ্বব্যাপী এমন সব অঞ্চলে গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে বিশ্ব শাসনের কাঠামোয় কোনো প্রভাব ফেলার সুযোগ পেত না।
কিন্তু এই একই বৈচিত্র্য যৌথ ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করাকে কঠিন করে তোলে। প্রতিটি নতুন সদস্য নতুন অর্থনৈতিক সম্পদ, কূটনৈতিক প্রভাব ও রাজনৈতিক বৈধতা যুক্ত করার পাশাপাশি নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকেও সঙ্গে নিয়ে আসে, যা সামাল দিতে হয়।
এটিই ব্যাখ্যা করে কেন ব্রিকস একটি সুসংগঠিত ভূরাজনৈতিক ব্লকের চেয়ে বরং দর–কষাকষির একটি শক্তিশালী জোট হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, দক্ষিণ-দক্ষিণ বাণিজ্য জোরদার, উন্নয়ন অর্থায়নের প্রসার এবং পশ্চিমা আর্থিক কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে জোটটির সদস্যরা একমত হতে পারে। এমনকি স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন, উন্নয়ন ঋণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো খাতেও তারা দারুণ সহযোগিতা করতে পারে।
কিন্তু কোনো বাস্তব ভূরাজনৈতিক সংঘাতের মুখে কোনো পক্ষ নেওয়ার প্রয়োজন হলেই ঐক্য ভেঙে পড়ে। ইরান যুদ্ধ এ বৈপরীত্যকে দারুণভাবে উন্মোচিত করেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ব্রিকস অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিষয়টি একেবারেই উল্টো। দৃশ্যমান নাটকীয় কিছু না করে একটি টেকসই উপায়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বব্যবস্থার দর–কষাকষির পরিবেশ বদলে দেওয়ার মাধ্যমেই ব্রিকসের প্রকৃত প্রভাব তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্রিকসকে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই। তারা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকে আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের জন্য চাপ দিতে পারে, বিকল্প উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারে, ডলারের বাইরে লেনদেন ব্যবস্থা বাড়াতে পারে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নতুন কূটনৈতিক সুযোগ এনে দিতে পারে। এটিই শেষ পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূমিকা হয়ে উঠতে পারে।
তাই বলা যায়, তাদের ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপের এ সীমাবদ্ধতাই শেষ পর্যন্ত একধরনের আশীর্বাদ হতে পারে। সরাসরি কঠোর সংঘাত এড়িয়ে যাওয়ার ফলেই হয়তো জোটটি ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনার এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানোর বাড়তি সুযোগ পাবে।
রনি পি সসমিতা ইন্দোনেশিয়া স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিকস অ্যাকশন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক। আল–জাজিরা থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রংপুরে আসছেন।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইংরেজি, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো....