জাতীয়

হোম লোন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, যেগুলো জানা জরুরি

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
হোম লোন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, যেগুলো জানা জরুরি
হোম লোন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, যেগুলো জানা জরুরি
বাস্তবে হোম লোন শুধু একটি ‘ঋণ’ নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার অংশ

নিজের একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করছেন। কয়েক বছর ধরে সঞ্চয় করেছেন, পছন্দের একটি প্রকল্পও হয়তো দেখে রেখেছেন। এবার ভাবছেন, বাকিটা হোম লোনে হয়ে যাবে। কিন্তু ব্যাংকে যাওয়ার আগেই চারপাশ থেকে আসতে শুরু করল নানা পরামর্শ। কেউ বললেন, ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতে না থাকলে হোম লোনের কথা ভাববেন না। কেউ বললেন, একবার ঋণ নিলে সারা জীবন কিস্তি দিতেই হবে। আবার কেউ মনে করিয়ে দিলেন—সিআইবি রিপোর্টে সামান্য সমস্যা থাকলেও ঋণ পাওয়া যায় না…ইত্যাদি।

এমন ধারণার কিছু কিছু সত্য হলেও বেশির ভাগই ভুল। ফলে অনেকেই প্রয়োজনের সময়ও হোম লোন নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যান, আবার কেউ কেউ পর্যাপ্ত তথ্য না জেনেই এমন আর্থিক দায় নেন, যা পরে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

বাস্তবে হোম লোন শুধু একটি ‘ঋণ’ নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার অংশ। তাই ইএমআই, ডাউন পেমেন্ট, এলটিভি, সিআইবি, সুদের হার কিংবা ঋণের মেয়াদ—এসব বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়।

ইএমআই: শুধু মাসিক কিস্তি নয়, মাসিক বাজেটেরও অংশ

হোম লোনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত শব্দগুলোর একটি হলো ইকুয়েটেড মান্থলি ইনস্টলমেন্ট বা ‘ইএমআই’। সহজভাবে বললে, ঋণের মূল অর্থ ও মুনাফা মিলিয়ে প্রতি মাসে যে নির্দিষ্ট কিস্তি পরিশোধ করা হয়, সেটিই ইএমআই।

অনেকেই মনে করেন, যত কম ইএমআই হবে, ততই ভালো। বিষয়টি সব সময় এতটা সরল নয়। মাসিক কিস্তি কমাতে ঋণের মেয়াদ দীর্ঘ করলে পুরো সময় শেষে মোট সুদের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। আবার ঋণের মেয়াদ কম হলে কিস্তির চাপ বাড়ে। তাই নিজের আয়, নিয়মিত ব্যয় এবং ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইএমআই নির্ধারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডাউন পেমেন্ট: সব সঞ্চয় একসঙ্গে খরচ করার প্রয়োজন নেই

হোম লোন নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো—বাড়ি কিনতে হলে সম্পত্তির অর্ধেক মূল্য আগে থেকেই হাতে থাকতে হবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গৃহঋণ নীতিমালায় ঋণ ও নিজস্ব অর্থের অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংক সাধারণভাবে সম্পত্তির মূল্যের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারে। বাকি অন্তত ৩০ শতাংশ অর্থ গ্রাহককে নিজস্ব উৎস থেকে দিতে হয়।

তবে এই ৩০ শতাংশ জোগাড় করতে গিয়ে নিজের সব সঞ্চয় ব্যয় করে ফেলাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ, বাড়ি কেনার পর নিবন্ধন, ফিট-আউট, স্থানান্তর কিংবা জরুরি প্রয়োজনের জন্যও কিছু অর্থ সংরক্ষণ করা জরুরি।

লোন টু ভ্যালু রেশিও (এলটিভি): ব্যাংক কতটা ঝুঁকি নেবে?

ধরুন, আপনি ৮০ লাখ টাকা দামের একটি ফ্ল্যাট কিনতে চান। অনেকের ধারণা, পুরো অর্থই ব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে। বাস্তবে ব্যাংক সম্পত্তির মূল্য, গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা বিবেচনা করে ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করে।

বর্তমান নীতিমালায় ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭০:৩০ ঋণ-ইকুইটি অনুপাত অনুসরণ করে। অর্থাৎ সম্পত্তির মূল্যের একটি অংশ গ্রাহকের নিজেরই বিনিয়োগ করতে হয়। এতে ঋণগ্রহীতার নিজস্ব অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং ঋণের ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কমে।

সিআইবি: ঋণ নেওয়া নয়, ঋণ পরিশোধের অভ্যাসটাই গুরুত্বপূর্ণ

সিআইবি নিয়ে অনেকের মধ্যে অকারণ ভয় কাজ করে। অনেকেই মনে করেন, আগে কোনো ব্যাংকঋণ নিলেই ভবিষ্যতে নতুন ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) একজন গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের ইতিহাস সংরক্ষণ করে। সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করলে সেটি ইতিবাচক রেকর্ড হিসেবেই বিবেচিত হয়। তবে ঋণখেলাপি হওয়া বা দীর্ঘদিন কিস্তি বকেয়া থাকলে নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সেটি প্রভাব ফেলতে পারে।

এসব বিষয়ে প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাজিম এ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নতুন গ্রাহকদের জন্য হোম লোনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের আয়, মাসিক কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা, সুদের হার, ঋণের মেয়াদ এবং মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। তিনি আরও বলেন, অনেকেই শুধু সুদের হার বা ঋণের পরিমাণ দেখেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মাসিক কিস্তি ও অন্যান্য খরচও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রাইম ব্যাংকের হোম লোনে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্ল্যাট কেনা বা বাড়ি নির্মাণের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণসুবিধা রয়েছে, যার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত।

এম নাজিম এ চৌধুরী বলেন, ‘হোম লোন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো এটি মানেই অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও জটিল প্রক্রিয়া। আমরা গ্রাহকদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের মাধ্যমে তাঁদের উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করি। প্রাইম ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের আর্থিক জ্ঞান বাড়িয়ে তাঁদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তোলা।’

হোম লোন দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার অংশ। তাই নিজের আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আগে থেকেই বুঝে নিতে পারলে হোম লোন নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা কমে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয়

View more
ভুটানে হিমবাহের হ্রদ উপচে বন্যার শঙ্কা
ভুটানে হিমবাহের হ্রদ উপচে বন্যার শঙ্কা

ভুটানে হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ উপচে মো চু (সঙ্কোশ) নদীব্যবস্থায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৩০, ২০২৬ 0
পাবনায় গুলিতে নিহত একজন শ্রমিক দল ও অন্যজন শ্রমিক লীগ নেতা

পাবনায় গুলিতে নিহত একজন শ্রমিক দল ও অন্যজন শ্রমিক লীগ নেতা

আলোচিত পাঁচ সিনেমার প্রস্তাব ফেরান রামায়ণের সাই পল্লবী

আলোচিত পাঁচ সিনেমার প্রস্তাব ফেরান রামায়ণের সাই পল্লবী

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে, ঘোষণা আগামী সপ্তাহে

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে, ঘোষণা আগামী সপ্তাহে

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চার দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

News অক্টোবর ৩০, ২০২৬ 0
হরর সিরিজে বাজিমাত, ১১ দিনে ১৩০ কোটি মিনিট ভিউ

হরর সিরিজে বাজিমাত, ১১ দিনে ১৩০ কোটি মিনিট ভিউ

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ছেন ক্রিস্টিন লাগার্দ

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ছেন ক্রিস্টিন লাগার্দ

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের সময় বাড়াল জাতিসংঘ

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের সময় বাড়াল জাতিসংঘ

শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক হাসনাত আবদুল্লাহর
শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক হাসনাত আবদুল্লাহর

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, জননিরাপত্তাহীনতা, হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

News অক্টোবর ৩০, ২০২৬ 0
বাবার পেশা মাছ ধরা, লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা

বাবার পেশা মাছ ধরা, লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে: ইসি সচিব

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে: ইসি সচিব

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুলকালাম, সংঘর্ষে আহত একাধিক আইনপ্রণেতা

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুলকালাম, সংঘর্ষে আহত একাধিক আইনপ্রণেতা

0 Comments