পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বদলে যাচ্ছে মানুষের খাদ্যাভ্যাস। মাংসের দাম বেড়েছে, অনেক রেস্তোরাঁ তাদের মেনু থেকে গরুর মাংসের বিভিন্ন পদ বাদ দিয়েছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও লাইসেন্স নবায়নের জটিলতায় তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কলকাতার ট্যাংরা এলাকায় রাজ্যের একমাত্র গরু জবাইখানার চিত্রেই পরিস্থিতি স্পষ্ট। একসময় যেখানে ব্যস্ততা থাকত, এখন সেখানে নীরবতা। কলকাতা পৌরসভার পরিচালিত পুরোনো এই জবাইখানার বিশাল লোহার দরজা বন্ধ। ভেতরে স্কুলপড়ুয়ারা খেলছে।
জবাইখানার বিপরীতে থাকা একটি খাবারের দোকানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেহমুদ আলম বলেন, মে মাসে জবাইখানাটি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই শিশুরা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে খেলছে। তার আশঙ্কা, খুব শিগগির এটি আবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ঈদের আগে শুরু সংকট
মে মাসে ঈদের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গরু জবাই নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় ঘোষণার মাত্র চার দিন পর, ১৩ মে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
নির্দেশনায় পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়।
আইন অনুযায়ী, গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর ও নির্দিষ্ট কিছু মহিষ জবাই করতে হলে আগে সংশ্লিষ্ট প্রাণীর উপযুক্ততার সনদ নিতে হবে।
১৪ বছরের বেশি বয়স, কাজ বা প্রজননের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়া কিংবা বয়স, আঘাত, শারীরিক ত্রুটি বা নিরাময়-অযোগ্য রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম প্রাণীর ক্ষেত্রেই এই সনদ দেওয়া যেতে পারে। অনুমোদিত প্রাণী কেবল পৌরসভা বা নির্দিষ্ট জবাইখানায় জবাই করা যাবে। প্রকাশ্য স্থানে জবাই নিষিদ্ধ।
দাম বেড়েছে, বিক্রি কমেছে
নতুন নির্দেশনার পর কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংসের সংকট দেখা দেয়। ঈদ পার হওয়ার তিন মাসের বেশি সময় পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
ব্যবসায়ীদের সমস্যা শুধু জবাইয়ের অনুমতি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গরুর মাংস বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্স নবায়নও আটকে আছে।
কলকাতা পৌরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগ করার পর জুনে পৌরসভা ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আগামী ডিসেম্বরে কলকাতা নির্বাচন হওয়ার কথা।
গরুর মাংস সরবরাহকারী ব্যবসায়ী মুস্তাক বলেন, তার পরিবারের ছয় প্রজন্ম ধরে এই ব্যবসা। কিন্তু এর আগে কোনো সরকারের আমলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।
তার দাবি, লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ থাকায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে তিনি কোনো আয় করতে পারেননি।
এদিকে গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। আগে কলকাতায় এক কেজি গরুর মাংস ২০০ থেকে ২৫০ রুপিতে পাওয়া গেলেও এখন দাম বেড়ে ৩৫০ থেকে ৫০০ রুপি হয়েছে।
একটি খাবারের দোকানে গরুর মাংসের ভুনার দাম ১০০ রুপি থেকে বেড়ে ১২০ রুপি হয়েছে।
তবে দাম বাড়লেও বিক্রি কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। আলমের মতে, মাংসের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আবার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকাশ্যে গরুর মাংস খেতে দেখা যাওয়ার বিষয়েও অনেক ক্রেতা উদ্বিগ্ন।
বদলে যাচ্ছে পরিবারের খাবারের তালিকা
কলকাতার ওই খাবারের দোকানে আগে গরুর মাংসের ভুনার পাশাপাশি চাপ ও স্টুও তৈরি হতো। এখন ভালো মানের মাংসের অভাবে এসব পদ প্রায় বন্ধ।
আলম জানান, একসময় তার দোকানে নিয়মিত আসতেন একদল তরুণ, যাদের বেশির ভাগই হিন্দু। তারা গরুর মাংসের স্টু খেতেন। এখন তাদেরও আর দেখা যায় না।
শুধু দোকান নয়, অনেক পরিবারেও গরুর মাংস খাওয়া কমে গেছে। আলম বলেন, আগে তার পরিবার সপ্তাহে পাঁচ-ছয় দিন গরুর মাংস খেত। এখন তা কমে সপ্তাহে একদিনে দাঁড়িয়েছে। এর বদলে সবজি, কম দামের মাছ কিংবা মুরগি খেতে হচ্ছে। খাসির মাংস এখন তাদের নাগালের বাইরে।
গরুর মাংস খাওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস
পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংস খাওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার ১০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শহরের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার গরু বা মহিষের মাংস খায়।
রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ গরুর মাংস খান। খ্রিস্টান, কিছু দলিত এবং কয়েকটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও গরুর মাংস রয়েছে।
গরু জবাইয়ের ক্ষেত্রে যে আইন রয়েছে, সেটি নতুন নয়। তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আইনটি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।
রেস্তোরাঁর মেনু থেকেও বাদ গরুর মাংস
কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় গরুর মাংস বিক্রেতাদের ব্যবসাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মে মাসের পর তাদের ব্যবসায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে।
অনেক দোকান প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবার খুলেছে। কিন্তু সরবরাহ অনিয়মিত, দাম বেশি এবং মাংসের মানও আগের মতো নেই।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতার অন্তত এক ডজন রেস্তোরাঁ গত তিন মাসে তাদের মেনু থেকে গরুর মাংসের পদ বাদ দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় জামজাম রেস্তোরাঁ। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শাদমান ফাইজে বলেন, মানের সঙ্গে আপস করতে না চাওয়ায় কলকাতার তিনটি শাখা থেকেই গরুর মাংসের সব পদ সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে গ্রাহক কমেছে এবং প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে। কর্মীও ছাঁটাই করতে হয়েছে।
পার্ক স্ট্রিটের ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ওলিপাবও একই সমস্যায় পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গরুর মাংসের স্টেকের জন্য পরিচিত এই রেস্তোরাঁয় এখন নিয়মিত স্টেক পাওয়া যায় না। সরবরাহ থাকলেই কেবল তা পরিবেশন করা হচ্ছে।
কলকাতার বাইরেও সংকট
শুধু কলকাতা নয়, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য এলাকাতেও গরুর মাংসের সংকট দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে স্থানীয় বাজারে সকাল ১১টার মধ্যেই গরুর মাংস শেষ হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো দিন একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ সাইফুল্লাহ জানান, মে মাসের আগে তাদের পরিবার প্রায় প্রতিদিন গরুর মাংস খেত। এখন তা কমে সপ্তাহে এক-দুই দিনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে পরিবারের খাবারের খরচও বেড়েছে। আগে সপ্তাহে যেখানে প্রায় ৫ হাজার রুপি খরচ হতো, এখন তা বেড়ে ৭ হাজার রুপি হয়েছে। কিন্তু আয় একই হারে বাড়েনি।
উত্তর-পশ্চিমের মালদহ জেলাতেও গরুর মাংস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এক বাসিন্দা জানান, এখন পরিচিত কারও মাধ্যমে গোপনে গরুর মাংস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ রাতের অন্ধকারে গরু জবাই করে বাড়িতে মাংস পৌঁছে দিচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তার মতে, ধরা পড়ার ভয় থাকলেও দরিদ্র মুসলিম পরিবারের অনেকের পক্ষে গরুর মাংস পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া সহজ নয়। ফলে অনেকে ঝুঁকি নিয়েই নিজেদের দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংসের সরবরাহ, দাম ও ব্যবসা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর প্রভাব পড়ছে শুধু ব্যবসায়ীদের ওপর নয়, বহু পরিবারের খাবারের তালিকাতেও। দীর্ঘদিনের একটি খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি এখন বড় পরিবর্তনের মুখে পড়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের জীবনে যুক্ত হলো এক বিশেষ মুহূর্ত। পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালন করে আবেগাপ্লুত এই অভিনেত্রী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীর সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, সরকার-সমর্থকদের গালিগালাজ, গুজব ছড়ানো ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ সরকারের সমালোচনা করলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী কিংবা সাধারণ মানুষকে আইনের আওতায় আনার আশঙ্কা রয়েছে। এভাবে অস্পষ্ট আইনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরি করা হতে পারে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসের ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়ন্স। টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠান ক্যারিবীয় অধিনায়ক ক্রিস গেইল।