জাতীয়

ফেডের নীতি সুদহার বাড়লে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে কীভাবে প্রভাব পড়ে

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
ফেডের নীতি সুদহার বাড়লে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে কীভাবে প্রভাব পড়ে
ফেডের নীতি সুদহার বাড়লে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে কীভাবে প্রভাব পড়ে

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তিন বছরেরও বেশি সময় পর নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। ফেডের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব এতই ব্যাপক যে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো তার প্রভাবমুক্ত থাকতে পারে না।

গতকাল বুধবার এক বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নীতি সুদ ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের পরিসর বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করা হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেড।

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ফেডের এই সিদ্ধান্তের কী প্রভাব পড়তে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক ব্যবস্থা বা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে অতটা সম্পৃক্ত নয়। এ ক্ষেত্রে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো দেশ কী করে, সেটা দেখার বিষয়।

সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই সুদহার বেড়ে যাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাহিদা সংকুচিত হয় কি না। সেটা হলে আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রভাব পড়তে পারে। সম্প্রতি রপ্তানিতে কিছুটা গতি আসলেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ভালো নয়। সেই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক নানা উত্তেজনা আছে। ইউরোপের বাজারে রপ্তানি কমেছে; এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও কমে গেলে বিপদ।

বিষয়টা হলো, ফেডের সিদ্ধান্তের প্রভাব থেকে সামগ্রিকভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলো মুক্ত থাকতে পারে না। দেখা যাক, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কী প্রভাবে পড়তে পারে।

ডলারে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়ে

ফেডের সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মুদ্রা, পুঁজিপ্রবাহ, ঋণ ও আমদানি ব্যয়ের ওপরও পড়ে। এর কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়লে ডলারে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়ে। ফেড সুদের হার বাড়ালে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড ও অন্যান্য ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে বেশি মুনাফা লাভের সুযোগ পান। ফলে উন্নয়নশীল দেশ থেকে বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। এ ঘটনায় এসব দেশের মুদ্রার মান কমে যেতে পারে।

আমদানি খরচ বাড়তে পারে

মুদ্রার মান কমলে আমদানির খরচ বেড়ে যায়। জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির মতো পণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপও তৈরি হয়। যেসব দেশ আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই চাপ আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ এখন জ্বালানি আমদানির ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ডলারের দাম আরও বেড়ে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

বিদেশি ঋণের খরচ বাড়ে

ফেডের নীতি সুদহার বেড়ে যাওয়ায় বাড়তে পারে বৈদেশিক ঋণের খরচ। উন্নয়নশীল দেশ ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একাংশ ডলারে ঋণ নেয়। ফেডের সুদহার বাড়লে নতুন ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়তে পারে। কোনো কোনো ঋণের সুদ পরিবর্তনশীল হলে পুরোনো ঋণের সুদ বেড়ে যেতে পারে। ডলারের দাম বাড়লে বিদেশি ঋণ পরিশোধে স্থানীয় মুদ্রায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। আবার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ তখন মার্কিন বন্ডের দিকে চলে যায়।

স্থানীয় ঋণ ব্যয়বহুল হতে পারে

মুদ্রার ওপর চাপ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদের হার বাড়াতে পারে। এ কারণে ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়। পরিণামে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমে যায়, কমে মানুষের ভোগের ব্যয়। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি হয়।

বাজেটের ওপর চাপ

সরকারের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। বিদেশি ঋণের সুদ ও পরিশোধ ব্যয় বাড়লে বাজেটে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ে। একই সঙ্গে স্থানীয় সুদহার বেশি হলে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের খরচও বাড়তে পারে।

তবে ফেডের সুদহার বেড়ে যাওয়া বিষয়টি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। কোনো দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে রপ্তানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক সস্তা হতে পারে। এতে রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু রপ্তানিকারকের উৎপাদনের জন্য যেসব কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি করে, সেগুলোর দাম বেশি হলে এই সুবিধা কমে যেতে পারে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয়

View more
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে, ঘোষণা আগামী সপ্তাহে
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে, ঘোষণা আগামী সপ্তাহে

বেসরকারি এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী সপ্তাহে নতুন দাম ঘোষণা করতে পারে কমিশন।

News অক্টোবর ৩০, ২০২৬ 0
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হরর সিরিজে বাজিমাত, ১১ দিনে ১৩০ কোটি মিনিট ভিউ

হরর সিরিজে বাজিমাত, ১১ দিনে ১৩০ কোটি মিনিট ভিউ

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ছেন ক্রিস্টিন লাগার্দ

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ছেন ক্রিস্টিন লাগার্দ

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের সময় বাড়াল জাতিসংঘ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের সময় বাড়াল জাতিসংঘ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়িয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের।

News অক্টোবর ৩০, ২০২৬ 0
শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক হাসনাত আবদুল্লাহর

শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক হাসনাত আবদুল্লাহর

বাবার পেশা মাছ ধরা, লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা

বাবার পেশা মাছ ধরা, লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে: ইসি সচিব

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে: ইসি সচিব

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুলকালাম, সংঘর্ষে আহত একাধিক আইনপ্রণেতা
আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুলকালাম, সংঘর্ষে আহত একাধিক আইনপ্রণেতা

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অধিবেশন চলাকালে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের সদস্যদের ঘুষি ও লাথি বিনিময় করতে দেখা যায়। পরে সংঘর্ষ সংসদকক্ষ ছাড়িয়ে করিডোরেও ছড়িয়ে পড়ে।

News অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0
নভেম্বর মাসেও অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের দাম

নভেম্বর মাসেও অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের দাম

সৌদি আরবে শ্রমিক নির্যাতন বন্ধে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপের দাবি

সৌদি আরবে শ্রমিক নির্যাতন বন্ধে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপের দাবি

জ্যেষ্ঠতাসহ দুদকের চাকরি ফিরে পাচ্ছেন আলোচিত শরীফ উদ্দিন

জ্যেষ্ঠতাসহ দুদকের চাকরি ফিরে পাচ্ছেন আলোচিত শরীফ উদ্দিন

0 Comments