জাতীয়

একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন, ছবিও তুলেছেন, ফিরলেন লাশ হয়ে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন, ছবিও তুলেছেন, ফিরলেন লাশ হয়ে
একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন, ছবিও তুলেছেন, ফিরলেন লাশ হয়ে

বিয়ের আসরে সবাই মিলে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন, ছবি তুলেছেন, খাওয়াদাওয়া করেছেন। সময়টা কেটেছিল হাসি-আনন্দে। অনুষ্ঠান শেষে আনন্দের রেশ নিয়েই বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন তাঁরা। কথা ছিল একসঙ্গে যাবেন, একসঙ্গেই ফিরবেন বাড়িতে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই বদলে গেল সেই ফেরার গল্প। যে যাত্রা শুরু হয়েছিল বিয়ের আনন্দ নিয়ে, শেষ হলো চারজনের নিথর শরীর আর স্বজনদের আহাজারিতে।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে কনের মা–বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনেরা কক্সবাজারের গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন একটি মাইক্রোবাসে করে। চট্টগ্রাম নগর থেকে ফেরার পথে সে মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয় কাভার্ড ভ্যান। দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় মাইক্রোবাসে থাকা চারজনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনই কনের ভাই, বোন ও মামা। অন্যজন মাইক্রোবাসের চালক। আহত হয়েছেন মা-বাবাসহ চারজন। তাঁদের সবার অবস্থা গুরুতর।

অনুষ্ঠান শেষে মধ্যরাতে বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নেন কনেপক্ষের লোকজন। কয়েক ঘণ্টা আগেও যাঁরা বিয়ের আনন্দে একসঙ্গে ছিলেন, তাঁরাই এবার ফিরছিলেন একই গাড়িতে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভোরের দিকে বাড়িতে পৌঁছানোর কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই বদলে গেল সবকিছু। দিবাগত রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলীর শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় তাঁদের মাইক্রোবাস।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন মোরশেদ নেওয়াজ মেহেদী (২৬), তাঁর বোন কলেজছাত্রী জাছিয়া ইসমে মিমতা (২০), মামা ফেরদৌস আলম (৫৫) এবং মাইক্রোবাসের চালক হাছান মোহাম্মদ মুন্না (৪২)। আহত ব্যক্তিরা হলেন মোরশেদ-মিমতার বাবা মনজুর আলম ও মা নীলুফা ইয়াছমিন, স্বজন আবুল কালাম ও আরফা বেগম। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের সবার বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায়।

গুরুতর আহত মনজুর আলম ও নীলুফা আখতার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আবুল কালামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আরফা বেগমকে ভর্তি করা হয়েছে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তাঁদের সবার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

বিয়ের আসর থেকে ফেরার পথে মাইক্রোবাসকে কাভার্ডভ্যান চাপা দিলে চারজন নিহত হন। এদের মধ্যে ছিলেন কনের মামা ব্যবসায়ী ফেরদৌস আলম(বামে) ও মাইক্রোবাস চালক হাছান মোহাম্মদ মুন্না

বিষাদের যাত্রা

মনজুর আলম ও নীলুফা ইয়াছমিনের বড় মেয়ে তাম্মিন ফায়েছা ফাহিমের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে একটি রেস্তোরাঁয়। এই বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কক্সবাজার থেকে এসেছিলেন পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনেরা। বিয়ের অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসব ও আনন্দের রেশ। সবাই মিলে ছবি তুলেছেন, গল্প করেছেন, দিয়েছেন আড্ডা।

অনুষ্ঠান শেষে মধ্যরাতে বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নেন কনেপক্ষের লোকজন। কয়েক ঘণ্টা আগেও যাঁরা বিয়ের আনন্দে একসঙ্গে ছিলেন, তাঁরাই ফিরছিলেন একই গাড়িতে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভোরের দিকে বাড়িতে পৌঁছানোর কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই বদলে গেল সবকিছু। দিবাগত রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলীর শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় তাঁদের মাইক্রোবাস।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বস্তি নিয়ে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি পরিণত হলো বিষাদের যাত্রায়। যে গাড়িতে সবাই মিলে বাড়িতে ফেরার কথা ছিল, সেই গাড়িই মুহূর্তে হয়ে গেল মৃত্যুর বাহন। একসঙ্গে যাত্রা শুরু করা মানুষগুলোর মধ্যে চারজন আর ফিরলেন না।

দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত পেরিয়ে ভোরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্বজনদের ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ আহত স্বজনের খোঁজ করছেন, কেউ চিকিৎসকদের কাছ থেকে তাঁর অবস্থা জানার চেষ্টা করছেন। কয়েক ঘণ্টা আগেও যাঁরা বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন, তাঁদের স্বজনদের কেউ এখন হাসপাতালের শয্যায়, কেউ হাসপাতালের করিডরে অপেক্ষায়। আনন্দের রাতের পর তাঁদের সামনে এখন অনিশ্চয়তা ও শোক।

কনের মা–বাবা ও মামা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের স্বজনেরা চিকিৎসার জন্য ছুটছেন, আহত ব্যক্তিদের খবর নিচ্ছেন। একই পরিবারের জন্য রাতটি যেন মুহূর্তেই বদলে গেছে। যে রাতে পরিবারের মেয়ের বিয়ে নিয়ে আনন্দ করার কথা, সেই রাতেই তাঁদের সামনে এসেছে চারটি মৃত্যুর শোক।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়িতে ফেরার সময় হয়তো কেউ ভাবেননি, এই যাত্রাই তাঁদের জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে উঠবে। চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কথা হয় নিহত মোরশেদ-মিমতার মামা আজিজুল হকের সঙ্গে। তিনি নিজেও এ দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন ভাই ফেরদৌস আলমকে। এভাবে ভাই ও ভাগনে-ভাগনি হারানোর বেদনায় স্তম্ভিত আজিজুল হক বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে সবাই একসঙ্গে রওনা দিয়েছিলাম চারটি গাড়িতে করে। বোন এবং ভাগনে-ভাগনিদের বহনকারী গাড়ি তেলের জন্য একটি জায়গায় দাঁড়িয়েছিল। এ সময় আমাদের গাড়ি অনেক দূর চলে যায়। ক্লান্ত এবং রাত হওয়ায় গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ একটি ফোন আসে। এরপর খবর শুনে কাঁপতে থাকি। গাড়ি ঘুরিয়ে এসে যেটি দেখেছি, সেটির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।’

সে দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে আজিজুল হক বলেন, ‘গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেছে। কাচ ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। গাড়ির ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখি, রক্ত আর রক্ত। পুলিশ ও আশপাশের লোকজনের সহায়তায় গাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসি। কিন্তু সবার অবস্থা খারাপ। এভাবে ভাগনে-ভাগনিদের হারিয়ে ফেলব, তা ভাবিনি। এখন বোন ও দুলাভাইকে নিয়ে চিন্তা।’

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের পথে সেই রাতের যাত্রায় গন্তব্য ছিল বাড়ি; কিন্তু চারজনের জন্য পথেই শেষ হয়ে গেছে সব পথচলা। আর দুর্ঘটনায় যাঁরা বেঁচে গেছেন, তাঁরাও লড়ছেন হাসপাতালের শয্যায় জীবনের সঙ্গে। প্রিয়জনদের সামনে একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে আহত ব্যক্তিদের সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষা।

হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা দেড়টায় চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন স্বজনেরা। রাতে বাড়িতে ফেরার সময় তাঁরা ছিলেন এক গাড়িতে। এখন ফিরছেন চারটি গাড়িতে—চারজনের নিথর শরীর। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে পরিবারটি বিয়ের আনন্দে একসঙ্গে ছিল, সেই পরিবারেই এখন কান্না। নতুন একটি সম্পর্কের শুরু উদ্‌যাপন করতে গিয়ে তাঁরা হারিয়েছেন স্বজনদের। বিয়ের রাতের সেই আনন্দ তাই শেষ হয়েছে এক গভীর বিষাদে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নতুন মায়েদের জন্য শুটিংয়ে ‘বাড়তি যত্ন’, জানালেন শ্রিয়া
নতুন মায়েদের জন্য শুটিংয়ে ‘বাড়তি যত্ন’, জানালেন শ্রিয়া

মা হওয়ার পর অভিনয়জীবনে সিনেমা বাছাইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে শ্রিয়া সরণের। তবে, এই পরিবর্তনের সময়ে ‘দৃশ্যম’ সিনেমার টিম যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটিই অভিনেত্রীর কাছে বিশেষ হয়ে আছে।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ এসোসিয়েশনের প্রশাসক হলেন আতিকুর রহমান

কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ এসোসিয়েশনের প্রশাসক হলেন আতিকুর রহমান

নেশার টাকার জন্য বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

নেশার টাকার জন্য বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

২২ বছর পর কারামুক্ত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন

২২ বছর পর কারামুক্ত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন

গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে ইসরায়েল : সিআই-এর প্রতিবেদন
গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে ইসরায়েল : সিআই-এর প্রতিবেদন

বিশেষ করে অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের— যাদের ‘হারেদি’ বলা হয়— সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির বিষয়টি ইসরায়েলি সমাজে বড় ধরনের ক্ষোভ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একদিকে দীর্ঘ সময় ধরে রিজার্ভ সেনাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে হারেদি পুরুষদের একটি বড় অংশ সামরিক সেবার বাইরে থাকায় ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন আরো তীব্র হচ্ছে।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

বিশ্ব বসতি দিবসের মেলায় টেকসই আবাসনের প্রযুক্তি দেখাচ্ছে ওয়ালটন

বিশ্ব বসতি দিবসের মেলায় টেকসই আবাসনের প্রযুক্তি দেখাচ্ছে ওয়ালটন

২৬টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার: বর্ষসেরা রিপোর্টের খোঁজে ডিআরইউ

২৬টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার: বর্ষসেরা রিপোর্টের খোঁজে ডিআরইউ

ঘুষ নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করা পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড
ঘুষ নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করা পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

ঘুষ নেওয়াকে যৌক্তিক দাবি করে মন্তব্য করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে ক্লোজড করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ছে লিফটের চাহিদা, উৎপাদনে জোর ওয়ালটনের

নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ছে লিফটের চাহিদা, উৎপাদনে জোর ওয়ালটনের

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড়

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড়

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ

0 Comments