জাতীয়

এআইয়ের অগ্রগতির লাগাম না টানলে সবাই মারা যেতে পারি: অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
এআইয়ের অগ্রগতির লাগাম না টানলে সবাই মারা যেতে পারি: অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক
এআইয়ের অগ্রগতির লাগাম না টানলে সবাই মারা যেতে পারি: অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি মানুষের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা কর্মীরা নিজেরাই এখন মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে মারাত্মক শঙ্কিত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন।

অ্যানথ্রোপিক থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন জ্যাকব কক্সন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি যে অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে চলেছে, তা মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে গবেষকেরা নিজেরাই ভীষণ আতঙ্কিত। কক্সন সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি এখনই এই অগ্রগতির রাশ টেনে না ধরি, তাহলে এটার বড় সম্ভাবনা রয়েছে যে অদূর ভবিষ্যতে আমরা সবাই মারা যেতে পারি।’

চাকরি ছাড়ার পর এআইয়ের বিপদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কক্সনের একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তিনি বিবিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। ২৭ বছর বয়সী কক্সনের সাবেক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের প্রধান দারিও আমোদেইও সম্প্রতি এআইয়ের অগ্রগতির গতি ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট অনেকে তাঁর এই আহ্বানের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক আমোদেইয়ের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। তাঁরা পুরো শিল্পজুড়ে কাজের গতি কমানো, কঠোর নিয়মনীতি চালু এবং এআই মডেল ডেভেলমেন্টের ওপর স্বাধীন তদারকির পক্ষে মত দিয়েছেন।

শনিবার এক নিবন্ধে আমোদেই লিখেছেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু এর সঙ্গে যে ঝুঁকি রয়েছে, তা ‘গুরুতর’। এসব ঝুঁকি মোকাবিলা করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছুটা সময় দিতে হবে। অ্যানথ্রোপিকে যোগ দেওয়ার আগে ওপেনএআইয়ে কাজ করা কক্সন এআইয়ের অগ্রগতি ধীর করার এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এড়াতে এ প্রক্রিয়ায় চীনকেও যুক্ত করতে হবে।

কক্সনের মতে, এআইয়ের কারণে মানবজাতির চরম বিপর্যয় বা ধ্বংস কেমন হতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে অ্যানথ্রোপিক প্রধান আমোদেই একটি বড় ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, অসংখ্য স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম (বট) একজোট হয়ে একটি শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারের মতো রূপ নিতে পারে এবং পুরো ইন্টারনেট দখল করে নিতে পারে। কক্সন মনে করেন, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া বিচিত্র কিছু নয়।

কক্সনের পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় অ্যানথ্রোপিকের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এআই প্রযুক্তির বিপুল সুফলের পাশাপাশি যে নজিরবিহীন কিছু ঝুঁকিও রয়েছে, তা আমরা শুরু থেকেই অত্যন্ত খোলামেলাভাবে বলে আসছি। এসব ঝুঁকি দূর করতে আমরা পুরো এআই–শিল্পের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে নতুন মডেল তৈরি করছি।’

ওই মুখপাত্র আরও জানান, এআই মডেলগুলো ভেতরে কীভাবে কাজ করে, তা গবেষণার ক্ষেত্রে অ্যানথ্রোপিক শুরু থেকেই পথপ্রদর্শক। এআই উন্নয়নের ঝুঁকি কমানোর জন্য তারাই বিশ্বে প্রথম একটি সুরক্ষা-রূপরেখা প্রকাশ করেছিল। এ ছাড়া এআই যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যে কেউ যেন তা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করতে পারে, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটি তাদের মডেলগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে পরীক্ষা করে এবং সেই ফলাফল সবার জন্য প্রকাশ করে।

অ্যানথ্রোপিকের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা চাই এ খাতের সব প্রতিষ্ঠান আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য উপায়ে একযোগে কাজ করুক। এভাবে নিয়ন্ত্রিত গতিতে শক্তিশালী মডেলগুলো বাজারে ছাড়া সম্ভব হলে শেষ পর্যন্ত গোটা বিশ্বই উপকৃত হবে।’

মানুষের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছাড়িয়ে যেতে পারে

সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক গত বৃহস্পতিবার একটি ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন অপশক্তি কীভাবে অ্যানথ্রোপিকের ক্লড এআই মডেল ব্যবহার করে অস্ত্র তৈরি, সাইবার আক্রমণ, নজরদারি ও জালিয়াতির মতো কাজ পরিচালনা করছে, তার বিবরণ উঠে আসার পর আমোদেই নিবন্ধটি প্রকাশ করেন।

আমোদেই মূলত এআই-ব্যবস্থার নিজেকে নিজে উন্নত করার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে ইঙ্গিত করে বলেন, এটি মানুষের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। সেই সঙ্গে ওপেনএআই ও হাগিং ফেসের সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে এআই মডেলের অগ্রগতিতে লাগাম টানার প্রাথমিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদের চেয়ে নিজেদের নিরাপত্তাসচেতন ল্যাব হিসেবে তুলে ধরলেও অ্যানথ্রোপিকও এসব আশঙ্কার ঊর্ধ্বে নয়। গত সপ্তাহে তারা তাদের এআই মডেল কর্তৃক বাইরের সিস্টেমে হ্যাক করার আরও একটি ঘটনা প্রকাশ করে। এর আগে গত জুলাই মাসে সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ক্লডের কিছু মডেল তিনটি কোম্পানির সিস্টেমে হ্যাক করেছিল।

আমোদেই লেখেন, ‘এআই সক্ষমতার দ্রুতগতির বিকাশ দেখে আমার ভয় হচ্ছে যে ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টদের দল গোটা ইন্টারনেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে, যার ফলে শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হওয়া সম্ভব।’

তবে আমোদেই পরিষ্কার করেছেন যে তিনি মডেলের প্রশিক্ষণ কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পূর্ণ বন্ধ করার কথা বলছেন না; বরং প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে তাদের মডেলগুলোকে নিরাপদ করার এবং থার্ড পার্টি বিশ্লেষকদের মাধ্যমে এসব পদক্ষেপ নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেয়, সেটিই তিনি চাইছেন।

গত সপ্তাহে রয়টার্স জানায়, ওপেনএআইয়ের একদল নিয়ন্ত্রণহীন এআই এজেন্ট একটি জার্মান ওয়েবসাইট হাইজ্যাক করে অন্যান্য এআই এজেন্টের ব্যবহারের জন্য বুলেটিন বোর্ডে রূপান্তরিত করেছে। উন্মুক্ত কোড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেস’-এ জুলাইয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এ ঘটনা ঘটায় ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি নির্মাতারা বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

ওপেনএআইয়ের মতো ডেভেলপারদের এআই এজেন্টগুলো বাইরের সিস্টেমে হ্যাক করা বা ঢোকার চেষ্টা চালানোর একের পর এক ঘটনা এআই মডেলগুলোর বাড়তে থাকা সক্ষমতা এবং ডেভেলপারদের এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আমোদেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বহু আইনপ্রণেতা যখন এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আইনের দাবি জানাচ্ছেন, তখন এআই কোম্পানিগুলোর উচিত স্বেচ্ছায় একে অপরের সঙ্গে কাজ করে সুরক্ষার মানদণ্ড নির্ধারণ করা।

বারাক ওবামার উদ্বেগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এই সমস্যা মোকাবিলায় নীতি ও শাসন পরিচালনাসংক্রান্ত এজেন্ডা প্রস্তুত করতে তিনি ডেমোক্র্যাটদের তাগিদ দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওবামার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বেসরকারি খাতে খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে; আর আমরা যদি এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারি, তবে আমার মনে হয় এটি বিপজ্জনক হতে পারে।’

বার্নি স্যান্ডার্সের আহ্বান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে এআই থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেছেন, এআই উন্নয়নের গতি ধীর করার বিষয়ে দারিও আমোদেই, স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কের আহ্বান একটি সূচনা মাত্র, তবে যথেষ্ট নয়।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, যুবক আটক
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, যুবক আটক

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় আব্দুর রহমান ওরফে সম্রাট নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে র‍্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ

মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে র‍্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ

পূজায় মদ খেয়ে নাচানাচি করলে ঘাড় ধরে নিয়ে আসব: পুলিশ সুপার

পূজায় মদ খেয়ে নাচানাচি করলে ঘাড় ধরে নিয়ে আসব: পুলিশ সুপার

মানিকগঞ্জে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মা ইলিশ রক্ষায় ২৮ হাজার ৯২৯ জেলেকে ৭২৩ মেট্রিক টন চাল
মা ইলিশ রক্ষায় ২৮ হাজার ৯২৯ জেলেকে ৭২৩ মেট্রিক টন চাল

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পদ্মা-মেঘনা নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা একটি জেলা। এই জেলার নদীগুলোতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। চলতি মৌসুমে ইলিশের প্রধান প্রজনন মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে মাছ ধরার ওপর আজ (৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে আগামী (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত পর্যন্ত মোট ২২ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জেলার মোট চারটি উপজেলা— জাজিরা, নড়িয়া, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জে এ সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা হিসেবে সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে বিজেপি

‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে বিজেপি

সেই সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন

সেই সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন

বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ

বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ

0 Comments