জাতীয়

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ম্যারাডোনা, প্রকাশ পেল ৩৭ বছর আগের ছবি

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ম্যারাডোনা, প্রকাশ পেল ৩৭ বছর আগের ছবি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ম্যারাডোনা, প্রকাশ পেল ৩৭ বছর আগের ছবি

ফুটবলার হতে ছুটতে হয় বলের পিছু। তারপর একদিন ফুটবলার হয়ে ওঠার পর? তখন তো আরও বেশি জোরে দৌড়াতে হয়। তবে পৃথিবীতে এমন কেউ কেউ এসেছেন, বলই যাঁদের পিছু ছুটেছে সব সময়। অন্য চোখে আমরা তাঁদের বলি কিংবদন্তি। যেমন ডিয়েগো ম্যারাডোনা!

বলের পিছু ছোটার বিষয়টি এমন, যেখানেই যান না কেন তাঁকে ঘিরে ফুটবল কিংবা ফুটবলের গল্পসল্পই উঠে এসেছে সবার আগে। জলে ও স্থলে কিংবা এখন যেমন অন্তরিক্ষে—২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনা প্রয়াত হয়ে ওই দূর আকাশে সত্যিকারের তারকা হয়ে ওঠার পর তাঁকে নিয়ে গল্পে, আড্ডায়, স্মৃতিচারণায় তো ফুটবলই উঠে আসে সবার আগে।

দুই দিন আগে ফার্নান্দো সিনিওরিনিও ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি যেমন। ৭৬ বছর বয়সী এ ভদ্রলোক দীর্ঘদিন ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত ট্রেনার ছিলেন। সেটা কিংবদন্তির সোনালি দিনগুলোয়—১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪। তখন চোখের সামনে দেখেছেন ম্যারাডোনা যেখানেই গেছেন, ফুটবলও তাঁর পিছু ছুটেছে। সেটা হোক স্কুল–কলেজ থেকে গির্জা কিংবা যুদ্ধজাহাজ।

সিনিওরিনি এর প্রমাণ হিসেবে তাঁর সেই পোস্টে কয়েকটি ছবিও পোস্ট করেন। সেটা ৩৭ বছর আগের ছবি। একটি যুদ্ধজাহাজে গুলি ছোড়ার বিশাল দুটি নলের মাঝে দাঁড়িয়ে বল পায়ে কসরত করছেন ম্যারাডোনা। ক্যাপশনে সেই চিরন্তন সত্যই লেখা, ‘সব জায়গাতেই ম্যারাডোনার সঙ্গে বল থাকতই। ১৫ নভেম্বর, ১৯৮৯।’

সালটা যেদিন এই ছবি তোলা সেদিনের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যারাডোনার এই ছবিগুলো আলোড়ন তোলার একটি কারণও আছে। সাধারণত ম্যারাডোনার খেলোয়াড়ি কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের বারবার দেখা ছবি কিংবা ভিডিওগুলোই ঘুরেফিরে সামনে আসে। কিন্তু এই ছবিগুলো তেমন নয়। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘ক্লারিন’ জানিয়েছে, এই ছবিগুলো এত দিন অপ্রকাশিত ছিল।

যুদ্ধজাহাজে গুলি ছোড়ার বিশাল দুটি নলের মাঝে দাঁড়িয়ে বল পায়ে কসরত করছেন ম্যারাডোনা

সিনিওরিনি যেহেতু বহুদিন ম্যারাডোনার সঙ্গে ছিলেন, তাঁর মাঠ ও ব্যক্তিগত জীবনকে খোলনলচে জেনেছেন, চোখের সামনে অনেক কিছুর সাক্ষী ছিলেন, তাই ’৮৬ বিশ্বকাপ কিংবদন্তিকে নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণায় নতুন কিছু উঠে আসা স্বাভাবিক। সংবাদমাধ্যমটির ভাষায়, সিনিওরিনি ম্যারাডোনাকে স্মৃতির ঝাঁপি খুললে প্রতিবারই প্রকাশ পায় কিংবদন্তির জীবনঘনিষ্ঠ না বলা সব গল্প।

কারণটা হয়তো আরেকটু গভীরে। সিনিওরিনি ম্যারাডোনাকে জানতেন, বুঝতেন। সে জন্যই একবার বলেছিলেন, ‘আমি ডিয়েগোর পেছনে পৃথিবীর শেষ সীমানা পর্যন্ত যেতে রাজি আছি, কিন্তু ম্যারাডোনার সঙ্গে রাস্তার মোড় পর্যন্তও যাব না।’ এ কথার ভেতরে তাকালে বোঝা যায়, সর্বকালের অন্যতম সেরা এ ফুটবলারের ভেতরে সিনিওরিনি আবিষ্কার করেছিলেন দুটি সত্তা; ডিয়েগো—নিখাদ মানুষ, সরল ও বন্ধুবৎসল, মাঠে ফুটবল জাদুকর কিন্তু ভেতরে শিশুর মতো মন। ম্যারাডোনা—প্রচারমাধ্যম, ভক্তদের অতিরিক্ত উন্মাদনা এবং খ্যাতির চরম চাপ থেকে তৈরি হওয়া এক ধ্বংসাত্মক চরিত্র, যা তাঁকে ধীরে ধীরে গ্রাস করেছিল।  

সে অন্য এক গল্প। সিনিওরিনির পোস্টে ফেরা যাক।

ইউএসএস আইওয়ার নাম শুনেছেন? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এ রণতরি বেশ আগে থেকেই অবসরে। ১৯৩৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী প্রথম যে ছয়টি রণতরি বানায়, সেগুলোর মধ্যে ‘লিড শিপ’ ছিল এই আইওয়া। ওই ছয়টি রণতরিকে আইওয়ার নামেই ডাকা হয় ‘আইওয়া ক্লাস।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচল করা এ শ্রেণির একমাত্র রণতরি ছিল ‘ইউএসএস আইওয়া’। ইতিহাস–শিক্ষা বাদ দিয়ে প্রসঙ্গে ফেরা যাক। ১৯৮৯ সালের সেই নভেম্বরে ইতালির নেপলসে অবস্থান করছিল আইওয়া। ম্যারাডোনা তখন নাপোলিতে ‘মহানায়ক’। অনেকটাই ‘ঘর হতে দু পা ফেলিয়া’ কোনো কিছু দেখতে যাওয়ার মতো আইওয়া পরিদর্শনে গিয়েছিলেন কিংবদন্তি। তারই ছবিগুলো পোস্ট করে সেসব দিনের স্মৃতিচারণা করেন সিনিওরিনি।

ম্যারাডোনার সঙ্গে সিনিওরিনিও

সেই পরিদর্শনের পটভূমিও সিনিওরিনি জানিয়েছেন তাঁর পোস্টের ক্যাপশনে, ‘নেপলসে ন্যাটোর সদর দপ্তর থেকে ম্যারাডোনাকে ‘ইউএসএস আইওয়া’ রণতরি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত তাঁর সঙ্গে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম আমিও।’

ম্যারাডোনা তত দিনে ’৮৬ বিশ্বকাপ জিতেছেন। নাপোলিকে জিতিয়েছেন লিগ ও উয়েফা কাপ। পাশাপাশি মাঠে ব্যক্তিগত ঝলকের পসরা তো ছিলই। আসলে মহাতারকা বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই। তা, এই মহাতারকাকে আইওয়ায় কেমন মর্যাদায় বরণ করে নেওয়া হয়েছিল, সেটাও জেনে নিতে পারেন সিনিওরিনির পোস্টে, ‘সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের মতোই অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন তিনি। আমাদের সময়টা দারুণ কাটছিল।’

কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, বিধির লিখন না যায় খণ্ডন! ম্যারাডোনাও খণ্ডাতে পারেননি। বন্ধু ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাতে গেলেও তাঁকে সেখানে বল নিয়ে কায়দা–কসরত করে দেখাতে হয়েছে। ইউএসএস আইওয়ায় ব্যাপারটা তাই অবধারিতই ছিল।

কারণ, সেই সময়ে ফুটবলকে বশ বানানোর মুনশিয়ানায় সম্ভবত ম্যারাডোনার চেয়ে ভালো কেউ ছিলেন না। নেপলসবাসী তা প্রতিদিনই দেখতেন। আর্জেন্টাইনরা তো তা দেখে আসছিলেন ম্যারাডোনার শৈশব থেকেই। আর বেসবল–পাগল যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ থেকে গোটা বিশ্ব হয়তো সেটাই ভালোভাবে দেখেছেন ’৮৬ বিশ্বকাপে। ফুটবলটা যে সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের অনেকেই পছন্দ করতেন, সেটার প্রমাণ হলো ম্যারাডোনা আইওয়ায় ওঠার পর কোত্থেকে যেন তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি ফুটবল।ওই তো, বল নিয়ে কিংবদন্তির অবিশ্বাস্য সব কারিকুরি দেখার আবদার!

সিনিওরিনির পোস্টের ভাষায়, ‘হঠাৎ কোথা থেকে যেন একটা বল চলে এল। বল পাওয়ামাত্রই একদম ছোটবেলার মতো নাচাতে (জাগলিং) শুরু করে দিলেন ম্যারাডোনা—যেটি আর্জেন্টিনা জুনিয়র্সের ম্যাচে মধ্যবিরতিতে তিনি নিয়মিত করতেন। কিছু ভাবার সময়ই পাননি!’ হয়তো জানেন কিংবা না–ও জানতে পারেন, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনা জুনিয়র্সে থাকতে ম্যাচের বিরতিতে বল নিয়ে বিভিন্ন কারিকুরি দেখিয়ে দর্শককে আনন্দ দিতেন।

আইওয়ার ডেকেও সবাইকে ম্যারাডোনা আনন্দ দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাংবাদিক অ্যাঞ্জেলো রসি। তৎকালীন নেপলস ও দক্ষিণ ইতালির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ইল মাতিনোতে কাজ করতেন। ম্যারাডোনার আইওয়া পরিদর্শন নিয়ে পরে প্রতিবেদনও করেছিলেন রসি।

ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো দেখতে দেখতে একটি ভাবনা মনে আসতে পারে। ফুটবলে সব কিংবদন্তির পরিচয় বুঝি একটাই—বলের সঙ্গে সখ্য কত ভালো! নইলে রণতরি দেখতে গিয়েও ম্যারাডোনাকে কেন বল নিয়ে ‘জাগলিং’ প্রদর্শন করতে হবে? কেন প্রতিবারই এমন সব মুহূর্তে শিশুর মতো আনন্দ নিয়ে বলকে পোষ মানাতে দেখা যেত ম্যারাডোনাকে! কারণ সম্ভবত একটাই—পৃথিবীতে ম্যারাডোনার সঙ্গে শুধু একটি বস্তুর সম্পর্কেই কখনো চোট লাগেনি। ফুটবল!

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নতুন মায়েদের জন্য শুটিংয়ে ‘বাড়তি যত্ন’, জানালেন শ্রিয়া
নতুন মায়েদের জন্য শুটিংয়ে ‘বাড়তি যত্ন’, জানালেন শ্রিয়া

মা হওয়ার পর অভিনয়জীবনে সিনেমা বাছাইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে শ্রিয়া সরণের। তবে, এই পরিবর্তনের সময়ে ‘দৃশ্যম’ সিনেমার টিম যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটিই অভিনেত্রীর কাছে বিশেষ হয়ে আছে।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ এসোসিয়েশনের প্রশাসক হলেন আতিকুর রহমান

কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ এসোসিয়েশনের প্রশাসক হলেন আতিকুর রহমান

নেশার টাকার জন্য বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

নেশার টাকার জন্য বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

২২ বছর পর কারামুক্ত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন

২২ বছর পর কারামুক্ত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন

গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে ইসরায়েল : সিআই-এর প্রতিবেদন
গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে ইসরায়েল : সিআই-এর প্রতিবেদন

বিশেষ করে অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের— যাদের ‘হারেদি’ বলা হয়— সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির বিষয়টি ইসরায়েলি সমাজে বড় ধরনের ক্ষোভ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একদিকে দীর্ঘ সময় ধরে রিজার্ভ সেনাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে হারেদি পুরুষদের একটি বড় অংশ সামরিক সেবার বাইরে থাকায় ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন আরো তীব্র হচ্ছে।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

বিশ্ব বসতি দিবসের মেলায় টেকসই আবাসনের প্রযুক্তি দেখাচ্ছে ওয়ালটন

বিশ্ব বসতি দিবসের মেলায় টেকসই আবাসনের প্রযুক্তি দেখাচ্ছে ওয়ালটন

২৬টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার: বর্ষসেরা রিপোর্টের খোঁজে ডিআরইউ

২৬টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার: বর্ষসেরা রিপোর্টের খোঁজে ডিআরইউ

ঘুষ নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করা পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড
ঘুষ নেওয়া নিয়ে মন্তব্য করা পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

ঘুষ নেওয়াকে যৌক্তিক দাবি করে মন্তব্য করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে ক্লোজড করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ছে লিফটের চাহিদা, উৎপাদনে জোর ওয়ালটনের

নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ছে লিফটের চাহিদা, উৎপাদনে জোর ওয়ালটনের

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড়

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড়

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ

0 Comments