জাতীয়

বস, স্যার নাকি ভাইয়া—অফিসে কাকে কী বলে ডাকবেন?

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
বস, স্যার নাকি ভাইয়া—অফিসে কাকে কী বলে ডাকবেন?
বস, স্যার নাকি ভাইয়া—অফিসে কাকে কী বলে ডাকবেন?

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

‘স্যার’ বললে অনেকে খুশি হন। আবার কেউ কেউ সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন, ‘আমাকে ভাই বলবেন।’ কেউ আবার ‘ভাইয়া’ শুনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে কেউ মনে করেন, অফিসে অতটা ঘনিষ্ঠ সম্বোধনের প্রয়োজন নেই। তাহলে প্রশ্ন হলো—কাকে স্যার বলব, কাকে বস আর কাকে ভাইয়া?

আসলে এর কোনো একক আন্তর্জাতিক নিয়ম নেই। কর্মক্ষেত্রে কাউকে কীভাবে সম্বোধন করা হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি, ব্যক্তির পছন্দ, পদমর্যাদা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর। বিভিন্ন পেশাগত শিষ্টাচার গাইডেও বলা হয়, নতুন বা অপরিচিত কারও সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শুরুতে কিছুটা আনুষ্ঠানিক থাকা নিরাপদ; পরে তিনি কীভাবে সম্বোধিত হতে চান, সেটি অনুসরণ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

সেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

বাংলাদেশের অনেক অফিসে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘স্যার’ বেশ পরিচিত একটি সম্মানসূচক সম্বোধন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে আবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘বস’ বলা হয়। কোথাও সবাই সবাইকে ‘ভাই’ বলে, আবার কোথাও একই প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র-সিনিয়র সবাইকে ‘ভাইয়া’ বলার সংস্কৃতিও আছে। অর্থাৎ একই সম্বোধন একেক প্রতিষ্ঠানে একেক অর্থ বহন করতে পারে।

তাই নতুন কোনো অফিসে যোগ দিলে নিজের মতো করে সম্বোধনের নিয়ম চালু করার চেয়ে আগে পরিবেশটা বোঝা ভালো। সহকর্মীরা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কীভাবে ডাকছেন, সেটি লক্ষ্য করা যেতে পারে। যিনি যে সম্বোধনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেটি জানা গেলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়।

ধরা যাক, একজন ম্যানেজারকে সবাই ‘স্যার’ বলে ডাকছেন। নতুন কর্মী এসে তাকে ‘ভাইয়া’ বলা শুরু করলেন। এতে ওই ম্যানেজার স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেও পারেন, আবার নাও করতে পারেন। বিপরীত ঘটনাও ঘটতে পারে। কেউ হয়তো নিজেই বলে দিলেন, ‘স্যার বলবেন না, ভাইয়া বলুন।’ তখন তাকে ভাইয়া বলায় কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। কারণ সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজের পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

একই বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রযোজ্য। বিশেষ করে পেশাগত প্ল্যাটফর্মে নতুন কারও সঙ্গে যোগাযোগের সময় শুরুতেই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ সম্বোধন না করাই নিরাপদ। প্রথম যোগাযোগে কিছুটা ফরমাল থাকা পেশাগত সৌজন্যের অংশ হতে পারে। পরে ব্যক্তিটি কীভাবে সম্বোধিত হতে চান, সেটি বুঝে নেওয়া যায়। পেশাগত যোগাযোগের বিভিন্ন নির্দেশিকাতেও অপরিচিত ব্যক্তিকে প্রথমে টাইটেল ব্যবহার করে সম্বোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ‘স্যার’, ‘বস’ কিংবা ‘ভাইয়া’—কোনোটিই কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার বিকল্প নয়। বরং কখনো কখনো আমরা সম্বোধন নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে আসল বিষয়টি ভুলে যাই—কাজ কেমন করছি?

একজন কর্মী তার বসকে দিনে বিশবার ‘স্যার’ বলছেন, কিন্তু সময়মতো কাজ জমা দিচ্ছেন না—এতে সেই সম্বোধনের মূল্য কতটুকু? অন্যদিকে কেউ হয়তো তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শুধু নাম ধরে ডাকছেন, কিন্তু দায়িত্বের জায়গায় অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। শেষ পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে তার মূল্যায়ন হবে কাজের মান, দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা ও পেশাদার আচরণের ভিত্তিতেই।

তবে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টাও সব সময় ভালো ফল দেয় না। কাউকে ‘ভাইয়া’ বললেই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে যায় না, আবার ‘স্যার’ বললেই সম্মান প্রমাণ হয় না। সম্মান আসলে আচরণে প্রকাশ পায়। কখনো দেখা যায়, একই অফিসে কেউ বসকে ‘স্যার’ বলছেন, কেউ ‘বস’, আবার কেউ ‘ভাইয়া’। এর পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বয়স, প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি কিংবা দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক—বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। নারী ও পুরুষ সহকর্মীদের সম্বোধনের ধরনেও কখনো পার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো সার্বজনীন নিয়ম আছে—এমনটা বলার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য হিসেবেই দেখা ভালো।

সবচেয়ে নিরাপদ নিয়ম হতে পারে—নতুন পরিবেশে গেলে আগে দেখুন, শুনুন, বুঝুন; তারপর সম্বোধন করুন। কেউ যদি বলেন, ‘আমাকে ভাইয়া বলবেন’—ভাইয়া বলুন। কেউ যদি ‘স্যার’ পছন্দ করেন—স্যার বলুন। প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিতে ‘বস’ প্রচলিত হলে বস বলুন। আর যদি বুঝতে না পারেন, শুরুতে ভদ্র ও আনুষ্ঠানিক সম্বোধনই তুলনামূলক নিরাপদ।

আরও পড়ুন

আয়কর আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

শেষ পর্যন্ত একজন কর্মীর পরিচয় তার মুখে কতবার ‘স্যার’ বা ‘বস’ শব্দটি এসেছে, তা দিয়ে নয়; তার কাজ দিয়ে তৈরি হয়। যে কর্মী দায়িত্ব বুঝে সময়মতো কাজ শেষ করেন, তাকে নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বারবার খোঁজ নিতে হয় না। কারণ তিনি জানেন—এই মানুষটিকে দায়িত্ব দিলে কাজটি ঠিক সময়ে হয়ে যাবে।

তাই অফিসে কাকে ‘স্যার’, কাকে ‘বস’ আর কাকে ‘ভাইয়া’ বলবেন—তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করার চেয়ে একটি বিষয় মনে রাখা ভালো; সম্বোধন সৌজন্য তৈরি করতে পারে, কিন্তু আপনার কাজই তৈরি করবে আপনার পেশাগত পরিচয়।

এমআইএইচ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রাজধানীতে অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধ
রাজধানীতে অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধ

পুলিশি হয়রানি বন্ধ, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে বাধা না দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা। 

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
নিজের জায়গা ও সম্মান বাঁচাতে ব্যবসায়ী বাবুলের সংবাদ সম্মেলন

নিজের জায়গা ও সম্মান বাঁচাতে ব্যবসায়ী বাবুলের সংবাদ সম্মেলন

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ১৪ ঘণ্টায়ও হয়নি তদন্ত কমিটি

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ১৪ ঘণ্টায়ও হয়নি তদন্ত কমিটি

১,৮৩৭ টাকার গ্যাস ২,৬০০ টাকা: এলপিজির বাজারে আসলে কী ঘটছে?

১,৮৩৭ টাকার গ্যাস ২,৬০০ টাকা: এলপিজির বাজারে আসলে কী ঘটছে?

গাড়ি আমদানিতে প্রস্তুত পায়রা সমুদ্রবন্দর
গাড়ি আমদানিতে প্রস্তুত পায়রা সমুদ্রবন্দর

দেশে গাড়ি আমদানিতে নতুন ঠিকানা হতে যাচ্ছে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দর। গাড়ি বার্থিং, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তত করা হয়েছে অত্যাধুনিক অবকাঠামো।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
মবের মুখে পদত্যাগ, স্বপদে ফেরার অপেক্ষায় সিলেটের শিক্ষকরা

মবের মুখে পদত্যাগ, স্বপদে ফেরার অপেক্ষায় সিলেটের শিক্ষকরা

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

জয়শঙ্করের সঙ্গে বিদায়ী বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ

জয়শঙ্করের সঙ্গে বিদায়ী বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ

প্রভোস্টের বিরুদ্ধে সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিটের অভিযোগ
প্রভোস্টের বিরুদ্ধে সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিটের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
কুমিল্লায় তিন কিশোর গ্যাংয়ের ৫ মূলহোতা গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় তিন কিশোর গ্যাংয়ের ৫ মূলহোতা গ্রেপ্তার

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ১০

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ১০

শিক্ষার লক্ষ্য শুধু জীবিকা অর্জন নয়, ভালো মানুষ হওয়া: সেতুমন্ত্রী

শিক্ষার লক্ষ্য শুধু জীবিকা অর্জন নয়, ভালো মানুষ হওয়া: সেতুমন্ত্রী

0 Comments