‘বন্ধু, আজকের ক্লাসটা কোন রুমে?’ বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের অসংখ্য গল্পের শুরু হয় এমনই একটি সাধারণ প্রশ্ন থেকে। দেশের দুই প্রান্তের দুটি অচেনা পরিবারের দুটি মানুষের পরিচয়। তারপর একসঙ্গে ক্লাস, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষার চাপ, ক্যানটিনের আড্ডা, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় গভীর বন্ধুত্বে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) প্রতিটি ব্যাচেরই রয়েছে এমন শত শত গল্প, যেখানে একটি ছোট প্রশ্নের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বন্ধুত্ব। আর এই সম্পর্কগুলোর মধ্য দিয়েই তৈরি হয় এমন একধরনের নেটওয়ার্ক, যা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নয়, ভবিষ্যতের পথচলাকেও করে তোলে আরও সহজ, শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময়।
বুটেক্সের জীবন শুধু ক্লাস, ল্যাব আর পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বুটেক্সের পকেট গেট–সংলগ্ন প্যারিস রোডখ্যাত রাস্তার সেই চিরচেনা আড্ডা, টং ও বিটাক মোড়ের চা, গ্রুপ স্টাডি কিংবা ক্লাবের কার্যক্রম, এসব ছোট ছোট মুহূর্তই একসময় হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি এবং গড়ে ওঠে একে অপরের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক।
অনেকেই ‘নেটওয়ার্কিং’ শব্দটিকে জটিল বা অপ্রয়োজনীয় মনে করে, কিন্তু বাস্তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়জীবন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নেটওয়ার্কিং বলতে শুধু পরিচিত মানুষের সংখ্যা বাড়ানোকে বোঝায় না, এটি এমন সম্পর্ককে ইঙ্গিত দেয় , যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা, শেখা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে সহপাঠী, সিনিয়র, শিক্ষক, অ্যালামনাই কিংবা বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের সদস্য প্রত্যেকেই এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই একটি ইতিবাচক ও কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারলে অনেক পথ সহজ হয়ে যায়। ক্লাসের নোট, পরীক্ষার প্রস্তুতি, গ্রুপ স্টাডি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সেমিনারে অংশগ্রহণ, এমনকি ইন্টার্নশিপ ও চাকরির খবর পাওয়ার ক্ষেত্রেও একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বন্ধুত্ব ও নেটওয়ার্ক নিয়ে বুটেক্সের ৪৬তম ব্যাচের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের গ্র্যাজুয়েট তানজিম আফসানা দ্বীনা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব শুরুই হয় ক্লাস নোট আদান–প্রদানের মাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গভীর হয় একে অপরকে পরীক্ষার আগে পড়াশোনায় সাহায্য করে। অনেক জটিল কোর্স বন্ধুরা সহজে বুঝিয়ে দিত। ল্যাবগুলোতেও একসঙ্গে এক্সপেরিমেন্ট করা, ল্যাব রিপোর্ট লেখা ইত্যাদি নানান জায়গায় বন্ধুদের সাহায্য করেছি এবং একই সঙ্গে সাহায্য পেয়েছি। পড়াশোনার বাইরে একসঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়া, ক্যানটিনে যাওয়া, কাজ শেষে হাতিরঝিল ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি আজ আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সেরা স্মৃতি। একই সঙ্গে আমি ডিবেট ক্লাবের সঙ্গেও সংযুক্ত ছিলাম, সেখানেও কাটিয়েছি সেরা মুহূর্তগুলো। স্নাতক শেষ হওয়ার পরও সেই বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট রয়েছে। আমরা নিয়মিত একে অপরের খোঁজ নিই, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করি এবং প্রয়োজনে পরামর্শ দিই। বর্তমানে কর্মজীবনে এসে আরও বেশি উপলব্ধি করেছি যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক শুধু চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেই নয়, প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখা, দক্ষতা বাড়ানো এবং নিজেকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন হোক কিংবা কর্মজীবন, সঠিক বন্ধুত্ব ও ইতিবাচক নেটওয়ার্কিং একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি।’
বন্ধুত্ব ও নেটওয়ার্কিং নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম ব্যাচের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গ্র্যাজুয়েট ও প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের ট্রেইনি মার্চেন্ডাইজার মো. সাহরিয়ার আলম পাভেল বলেন, ‘একজন মানুষকে জানতে হলে আগে তার বন্ধুদের সম্পর্কে জানতে হয়। কারণ, একজন মানুষের চিন্তাভাবনা, অভ্যাস ও ব্যক্তিত্বের ওপর তার বন্ধুদের প্রভাব অনেক বেশি থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ভালো বন্ধু নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো বন্ধুরা প্রয়োজনের সময় পাশে থাকে সব সময়, পড়াশোনার ম্যাটারিয়ালস দিয়ে সাহায্য করে, উৎসাহ দেয় এবং সঠিক পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। অন্যদিকে খারাপ বন্ধু ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে। অনেকে বলে থাকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি সত্যিকারের বন্ধু পাওয়া যায় না। তবে আমি এ কথার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নই। আমার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই এমন অনেক বন্ধু পেয়েছি, যারা ক্লাস নোট ও বিভিন্ন একাডেমিক বিষয়ে আমাকে সাহায্য করেছে। তাই সঠিক মানুষকে বন্ধু হিসেবে বেছে নিতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুত্ব আজীবনের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। টেক্সটাইল খাতে ভালো চাকরির সুযোগ তৈরি করতে সিনিয়রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা খুবই প্রয়োজন। নিয়োগ, ফ্যাক্টরি, কাজের পরিবেশ বা ক্যারিয়ার নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা সিনিয়রদের থেকেই জানা যায়।’
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com
বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুত্ব ও করপোরেট জীবনে নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব নিয়ে একই ব্যাচের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গ্র্যাজুয়েট এবং আরএইচ করপোরেশনের ল্যাব ট্রেইনি ওয়াসিমা তাসনিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। সবার চিন্তাধারা, মতামত আর ব্যক্তিত্ব আলাদা। কিন্তু পরীক্ষার সময় নোট শেয়ার করা, একসঙ্গে পড়াশোনা, আড্ডা দেওয়া কিংবা পরীক্ষা শেষে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা, এসব ছোট ছোট মুহূর্তই বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে তোলে। করপোরেট–জীবনে প্রবেশ করার পর বাস্তবতা অনেক বদলে যায়। চাকরির ব্যস্ততায় পর প্রায় ছয় মাস বা তারও বেশি সময় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না। আগের মতো আড্ডাও হয় না, যোগাযোগটা বেশির ভাগ সময় শুধু মেসেজেই সীমাবদ্ধ থাকে। তখন বুঝতে পারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো কতটা মূল্যবান ছিল। নেটওয়ার্কিংয়ের কথা বলতে গেলে, বুটেক্সের জুনিয়র-সিনিয়র সম্পর্ক সত্যিই অন্যতম শক্তিশালী দিক। আমার নিজের চাকরিজীবনের অল্প সময়ের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বুটেক্সের সিনিয়র ভাইয়া-আপুরা সব সময় সহযোগিতা করেছেন। কখনো সাহায্য চাইলে ফিরিয়ে দেননি বা উপেক্ষা করেননি; বরং ছোট বোনের মতো দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, ভুল হলে শাসন করে ঠিক পথও দেখিয়েছেন। একজন বুটেক্স শিক্ষার্থী হিসেবে জব লাইফে আমি এটাকে অনেক বড় প্রাপ্তি বলে মনে করি।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রান খরায় ভুগতে থাকা লিটন দাস প্রথম ইনিংসে হাফ-সেঞ্চুরি করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ না করায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ভেতরে রেখেই উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারো তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে শিগগির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।