জাতীয়

বহু বছরের বন্ধুত্ব, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আসলে আপন বোন

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
বহু বছরের বন্ধুত্ব, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আসলে আপন বোন
বহু বছরের বন্ধুত্ব, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আসলে আপন বোন

ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু। ছোটবেলা থেকেই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ। দেখতে একই রকম, হাসিও প্রায় এক। মজা করে একে অপরকে ডাকতেন ‘বোন’। কিন্তু তখনও তারা জানতেন না, সেই ডাকের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সত্যি।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই নারী মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিজেনের গল্প যেন বলিউডের কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য। কয়েক দশক ধরে তারা ছিলেন বন্ধু। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, তারা আসলে একই বাবা-মায়ের সন্তান।

১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম হয় মীনা ও মিনালের। জন্মের কয়েক মাসের মধ্যে তাদের আলাদা দুটি অনাথ আশ্রম থেকে দত্তক নেয় নেদারল্যান্ডসের দুটি পরিবার। দুই পরিবার কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করায় বড় হতে হতে তাদের পথও একসময় মিলিত হয়।

প্রথম দেখাতেই বিস্ময়

কৈশোরে একটি দত্তক গ্রহণকারী সংস্থার অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। সেখানে অন্য দত্তক নেওয়া শিশুদের সঙ্গে তাদেরও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

প্রথম দেখাতেই দুজনের বন্ধুদের চোখে পড়ে তাদের অদ্ভুত মিল। মুখের গড়ন, নাক, হাসি—সবকিছুতেই যেন একে অপরের ছায়া।

মীনা বলেন, বন্ধুরা তাদের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে বলেছিল, নিজেদের দিকে তাকাও।

মীনার চোখে তখনই পড়ে মিনালের নাক তার নিজের মতো। এমনকি তাদের হাসির ধরনও একই রকম ছিল। প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে তৈরি হয় গভীর এক টান।

পরদিন তারা নিজেদের ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময় করেন। এরপর শুরু হয় চিঠি লেখা ও নিয়মিত যোগাযোগ। একসময় মজা করেই একে অপরকে ‘সিস’ বা বোন বলে ডাকতে শুরু করেন। কারণ তাদের মনে হয়েছিল, সম্পর্কটা যেন বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কিছু।

একই পছন্দ, একই রকম অভ্যাস

বছরের পর বছর চিঠির মাধ্যমে তারা নিজেদের জীবনের নানান কথা ভাগ করে নিতেন। স্কুল, বন্ধু, প্রেম, ঘুরতে যাওয়া, নাচ, খেলাধুলা—সবই ছিল তাদের আলোচনায়।

দুজনের পছন্দেও ছিল আশ্চর্য মিল। বিশেষ করে সংগীতের ক্ষেত্রে দুজনেই জনপ্রিয় ব্যান্ড ব্যাকস্ট্রিট বয়েজের ভক্ত ছিলেন।

কিন্তু প্রায় ১৫ বছর আগে হঠাৎ তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মিনাল ফ্রান্সে চলে যান। অন্যদিকে মীনা তখন প্রথম সন্তানের মা হয়েছেন। সংসার ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় যোগাযোগ আর নিয়মিত থাকেনি।

ডিএনএ পরীক্ষায় বদলে গেল সব

২০১৭ সালে ভারতে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে মীনা ডিএনএ পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে পারেন। নিজের শিকড় সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই তিনি পরীক্ষা করান। কিন্তু কোনো মিল খুঁজে পাননি।

এরপর চলতি বছরের শুরুতে ফোনের জায়গা খালি করতে গিয়ে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার অ্যাপটি মুছে ফেলেন।

তারপর ২০ মে আসে সেই অবিশ্বাস্য বার্তা।

ফেসবুকে মীনার কাছে মেসেজ পাঠান মিনাল। সেখানে লেখা ছিল—আমাকে মনে আছে?

মিনাল এর কিছুদিন আগে, এপ্রিল মাসে, নেদারল্যান্ডসে নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করিয়েছিলেন। পরীক্ষার ফলাফলের একটি ছবি তিনি মীনার কাছে পাঠান।

মীনা আবার অ্যাপটি ইনস্টল করেন। উত্তেজনা ও উদ্বেগে ভুল পাসওয়ার্ডও কয়েকবার দেন। অবশেষে যখন ফলাফল দেখলেন, তখন আর কোনো সন্দেহ রইলো না।

ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, দুজনের মধ্যে ১০০ শতাংশ মিল।

অর্থাৎ তারা শুধু বন্ধু নন—তারা একই বাবা ও মায়ের সন্তান।

মীনা বলেন, ফলাফল দেখে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। এতদিন যে মানুষটিকে তিনি বোনের মতো মনে করতেন, তিনিই যে সত্যিকারের বোন—ডিএনএ পরীক্ষা সেটিই নিশ্চিত করলো।

‘আমরা বোনই ছিলাম, শুধু জানতাম না’

মিনালও প্রথমে ডিএনএ পরীক্ষার ফল দেখে বুঝতে পারেননি, তার পাওয়া ‘ফুল সিস্টার’ আসলে সেই কিশোরী মীনা, যার সঙ্গে তিন দশক আগে পরিচয় হয়েছিল।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে বিষয়টি তার কাছে পরিষ্কার হয়।

মিনাল বলেন, তারা আগে বন্ধু ছিলেন, পরে জানতে পেরেছেন তারা বোন। আসলে তারা পুরো সময়ই বোন ছিলেন—শুধু কেউ তা জানতেন না।

বহু বছর পর ‘ঘরে ফেরার’ অনুভূতি

ডিএনএ পরীক্ষার সত্য জানার পর গত আগস্টে প্রথমবারের মতো আবার মুখোমুখি হন দুই বোন। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর সেই সাক্ষাৎ ছিল আবেগে ভরা। কান্না, আলিঙ্গন আর হাসিতে কেটে যায় পুনর্মিলনের মুহূর্ত।

মীনা বলেন, তার কাছে সেই সাক্ষাৎ ছিল ঘরে ফেরার মতো।

বর্তমানে মীনা তিন সন্তানের মা। মিনাল ফ্রান্সে সঙ্গী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন। এরই মধ্যে তারা একে অপরের স্বামী বা সঙ্গী, সন্তান, ভাই ও বাবা-মায়ের সঙ্গেও পরিচিত হয়েছেন।

মীনা বলেন, তাদের কথা বলার ধরন, হাঁটা, মাথা নাড়ার ভঙ্গি—সবকিছুতেই এখনো আশ্চর্য মিল খুঁজে পান পরিবারের সদস্যরা। কখনো তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেন এবং সময়ের হিসাবই থাকে না।

এবার একসঙ্গে মুম্বাই ফেরার ইচ্ছা

তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোসও এখন স্পষ্ট। জীবনের কঠিন সময়গুলোতে তারা একে অপরের পাশে থাকতে পারেননি।

এখন সেই অপূর্ণতা নিয়ে কিছুটা পূরণ করতে চান তারা। মীনা ও মিনালের ইচ্ছা, একদিন একসঙ্গে ভারতে ফিরে আসবেন। ঘুরবেন মুম্বাইয়ের সেই রাস্তায়, যেখান থেকে তাদের জীবনের গল্প শুরু হয়েছিল।

দশকের পর দশক অজান্তেই পাশাপাশি চলেছে দুই বোনের জীবন। বন্ধুত্বের মধ্যেই তারা খুঁজে পেয়েছিলেন বোনের সম্পর্ক। আর একটি ডিএনএ পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করে দিল সেই সত্য—তারা বোন ছিলেন শুরু থেকেই, শুধু জানতেন না।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আবারো দিল্লিতে ভেঙে পড়ল আবাসিক ভবন
আবারো দিল্লিতে ভেঙে পড়ল আবাসিক ভবন

দিল্লিতে আবারো ভেঙে পড়ল আবাসিক ভবন। একটি পাঁচতলা ভবনের সামনের অংশ বুধবার বিকেলে আচমকা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসাবশেষের নীচে অনেকে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা। 

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
ফ্রান্সের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরো জোরদারের প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর

ফ্রান্সের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরো জোরদারের প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর

রামেবির উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করায় বিএনপি নেতারা

রামেবির উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করায় বিএনপি নেতারা

১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের চুক্তি সই 

১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের চুক্তি সই 

এক ঘণ্টায় এক কুকুরের কামড়ে ৩৩ জন হাসপাতালে
এক ঘণ্টায় এক কুকুরের কামড়ে ৩৩ জন হাসপাতালে

কেউ যাচ্ছিলেন বাসায়, কেউবা ঘুরছিলেন রাস্তায়। এমন সময় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৩৩ জন আহত হয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ৮১টি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে 

ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ৮১টি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে 

অ্যাপসে লেনদেনের তথ্য পাবেন বিনিয়োগকারীরা 

অ্যাপসে লেনদেনের তথ্য পাবেন বিনিয়োগকারীরা 

পুলিশের পোশাক ও অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার 

পুলিশের পোশাক ও অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার 

0 Comments