জাতীয়

একমাস আগেই বাংলাদেশের কাছে ইলিশ চায় ভারত, এখন কেন উল্টো যাত্রা?

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
একমাস আগেই বাংলাদেশের কাছে ইলিশ চায় ভারত, এখন কেন উল্টো যাত্রা?
একমাস আগেই বাংলাদেশের কাছে ইলিশ চায় ভারত, এখন কেন উল্টো যাত্রা?

একমাস আগেই বাংলাদেশের কাছে ইলিশ চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন ভারতের মৎস্য ব্যবসায়ীরা। চিঠিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। অথচ কিছুদিন যেতে না যেতেই ঘটেছে উল্টো ঘটনা। বাংলাদেশে এখন ভারতের গুজরাট থেকে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে।

গত ১২ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে চিঠি দেন পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। চলতি বছরের দুর্গাপূজা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।

আরও পড়ুন

প্রথমবার বাংলাদেশে আসলো ‘স্বাদ-গন্ধহীন’ গুজরাটি ইলিশ

চিঠিতে ভারতের মৎস্য আমদানিকারকেরা বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তার অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।

থমকে আছে ইলিশ রপ্তানি

বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল এলসিএস (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) ও আখাউড়া এলসিএস (ত্রিপুরা, ভারত) হয়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি করে আসছেন তারা।

তবে ২০১২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে তারা নিয়মিত আবেদন করে আসছেন। তবে তাতে কোনো ফল হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক মাসের জন্য ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিতে শুরু করে। তবে পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন ভারতীয় আমদানিকারকেরা।

আরও পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি বলে বিক্রি হচ্ছে ‘স্বাদ-গন্ধহীন’ নকল ইলিশ

‘দুই বাংলার বিশেষ সম্পর্ক’

ভারতের মৎস্য আমদানিকারকেরা চিঠিতে দুই বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তাদের ভাষ্য, এপার বাংলা ও ওপার বাংলার মানুষের মধ্যে ভাষা, খাদ্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশেষ মিল রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার মাছপ্রেমীরা তাদের প্রিয় খাবার ইলিশের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।

চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়। আমদানিকারকেরা আশাপ্রকাশ করেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবারও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে। এতে ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ উপকৃত হবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

এবারও দুর্গাপূজায় ইলিশ চায় ভারত

‘ইলিশ পাওয়ার আশায় আছি’

চিঠির বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগোনিউজকে বলেন, প্রতিবছরের মতো চলতি বছরও দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ চেয়ে সরকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলতি বছরও যেন বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি করা যায়, সে জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, এবারও বাংলাদেশ সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেবে।

এখন উল্টো পথে ইলিশ

ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুরোধ জানানোর এক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশে ঢুকছে গুজরাটের ‘স্বাদ-গন্ধহীন’ ইলিশ। সাধারণত প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়। কিন্তু এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। রপ্তানির পরিবর্তে ভারতের গুজরাট থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

পদ্মার নাকি গুজরাটের ইলিশ, চিনবেন যেভাবে

এরই মধ্যে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন গুজরাটি ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক। তিনি বলেন, গত মাসে তারা একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। সে সময় বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান ও ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়। তবে তখন গুজরাটের ইলিশ পাঠানো নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।

সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ আরও জানান, এ বছর গুজরাটে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। এ কারণে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাংলাদেশেও এবার পূজার আগে ইলিশ পাঠানো হবে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন গুজরাটি ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

এ বছর বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশে হয়তো আরও গুজরাটি ইলিশ রপ্তানি করা হতে পারে।

ডিডি/কেএএ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ২৫৫ ইউরো জরিমানা
রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ২৫৫ ইউরো জরিমানা

পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে গত মাসে উয়েফা নেশন্স লিগের অভিযানের মাঝপথে দল ছেড়ে যাওয়ায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ২৫৫ ইউরো জরিমানা ও ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন...

News অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0
পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিচ্ছে ৬ হাজার প্লাস্টিক বোতলে তৈরি পূজামণ্ডপ

পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিচ্ছে ৬ হাজার প্লাস্টিক বোতলে তৈরি পূজামণ্ডপ

গুলিস্তানে বোমাসদৃশ বস্তু ঘিরে আতঙ্ক, ভেতরে মিললো পুরোনো কাপড়-পচা ফল

গুলিস্তানে বোমাসদৃশ বস্তু ঘিরে আতঙ্ক, ভেতরে মিললো পুরোনো কাপড়-পচা ফল

বাংলাদেশকে হারানো জিম্বাবুয়ে পাত্তাই পেলো না আফগানিস্তানের কাছে

বাংলাদেশকে হারানো জিম্বাবুয়ে পাত্তাই পেলো না আফগানিস্তানের কাছে

ওয়াসিমসহ ছয় হত্যা: হাছান-নওফেলসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ১৫ নভেম্বর
ওয়াসিমসহ ছয় হত্যা: হাছান-নওফেলসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ১৫ নভেম্বর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল...

News অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0
অস্ত্রোপচার শেষে কেমন আছেন রিফাত চৌধুরী?

অস্ত্রোপচার শেষে কেমন আছেন রিফাত চৌধুরী?

রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ৯৯ তম বার পেছালো

রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ৯৯ তম বার পেছালো

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার

সৌদি আরবের আদালতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা
সৌদি আরবের আদালতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা

সৌদি আরবের আদালতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডাদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে রায়ের কপি চেয়েছে বাংলাদেশ। তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তথ্য চাওয়ার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

News অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0
পর্যটকের অপেক্ষায় সিলেট, ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার প্রত্যাশা

পর্যটকের অপেক্ষায় সিলেট, ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার প্রত্যাশা

যশোরে প্রতিমা দর্শনে গিয়ে নসিমন-ভ্যান সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ভাইবোনের

যশোরে প্রতিমা দর্শনে গিয়ে নসিমন-ভ্যান সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ভাইবোনের

ঠাকুরগাঁওয়ে হাতপাখার প্রচার রিকশা ভাঙচুর, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি

ঠাকুরগাঁওয়ে হাতপাখার প্রচার রিকশা ভাঙচুর, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি

0 Comments