দুর্নীতি আমাদের সমাজে নতুন কোনো বিষয় নয়। সরকারি অফিস, ভূমি কার্যালয়, আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য-জীবনের নানা ক্ষেত্রে এর উপস্থিতি নিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগের ধরন বদলেছে। এখন প্রশ্ন শুধু দুর্নীতি আছে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র ও সমাজ কি সত্যিই এই দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। আবার আশাবাদী হওয়ার কারণও একেবারে নেই, তা নয়। সর্বশেষ দুর্নীতি ধারণা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২৪ এবং অবস্থান ১৮২ দেশের মধ্যে ১৫০তম। অর্থাৎ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সরকারি ক্রয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং দুর্নীতি দমনের প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। ফলে আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে, আমরা কি দুর্নীতিকে বাংলাদেশের স্থায়ী বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেব, নাকি এটিকে পরিবর্তনের চেষ্টা করব?
আসলে দুর্নীতি কেবল নৈতিকতার সমস্যা নয়। এটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাও। একজন নাগরিক যখন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে মনে করেন যে নিয়ম মেনে কাজ করলে সময় বেশি লাগবে, অথচ অনৈতিক পথে গেলে দ্রুত কাজ হবে, তখন দুর্নীতি তার কাছে আর ব্যতিক্রম থাকে না। হয়ে ওঠে বাস্তবতার অংশ।
এই জায়গায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, বিচার, প্রশাসন, সংসদ, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যদি স্বাধীন, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করে, তাহলে দুর্নীতির সুযোগ সংকুচিত হয়। বিপরীতে প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন দুর্নীতি শুধু টিকে থাকে না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো একক কমিশন, সরকার বা আইন নয়—একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান। আমরা যদি সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে পারি, তাহলে আজকের হতাশা একদিন পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত হতে পারে
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকালেও বিষয়টি স্পষ্ট। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা, গবেষণা ও যোগ্যতার পাশাপাশি যদি রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার নৈকট্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি বিপজ্জনক বার্তা যায় যে যোগ্যতার চেয়ে পরিচয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যদি মেধার পরিবর্তে আনুগত্য পুরস্কৃত হয়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রের দক্ষতা যেমন কমে, তেমনি দুর্নীতির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ে।
বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মানুষের শেষ আশ্রয় হওয়া উচিত আদালত। একজন নাগরিকের বিশ্বাস থাকতে হবে যে ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের জন্য আইনের প্রয়োগ একই। বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই দুর্বল হয়ে পড়ে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষেত্রেও আমরা একই বাস্তবতা দেখেছি। একটি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে শুধু নতুন নেতৃত্ব বা নতুন আইন যথেষ্ট নয়। তদন্তের স্বাধীনতা, পেশাদার দক্ষতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত এবং দ্রুত বিচার—সবকিছু মিলিয়েই একটি কার্যকর দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা তৈরি হয়। বড় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান বা রাজনৈতিক প্রভাব যা-ই হোক না কেন, আইনের প্রয়োগ যদি সমান না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরবে না।
এখানে প্রযুক্তি একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সরকারি ক্রয়, কর প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সেবাকে যত বেশি ডিজিটাল ও তথ্যনির্ভর করা যাবে, ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর নির্ভরতা তত কমবে। ই-প্রকিউরমেন্ট, অনলাইন সেবা, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং তথ্যের উন্মুক্ততা দুর্নীতির অনেক প্রচলিত সুযোগ কমাতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি কোনো জাদুর কাঠি নয়। দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে এমন আইন, বিধি ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে ডিজিটাল ব্যবস্থাও একসময় নতুন ধরনের অনিয়মের পথ তৈরি করতে পারে।
তাই প্রয়োজন একই সঙ্গে আইন, প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি এবং রাজনৈতিক সংস্কারের পরিবর্তন। সংসদকে কার্যকর করতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনতে হবে, সরকারি নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কারণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তথ্য প্রকাশ এবং প্রশ্ন করার অধিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধব্যবস্থা।
সবচেয়ে বড় কথা, দুর্নীতি কমানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। রাজনৈতিক দল, আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ী সমাজ, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ—সবারই এখানে ভূমিকা আছে। যে সমাজ ঘুষকে ‘কাজ করানোর খরচ’ হিসেবে মেনে নেয়, সে সমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না।
তাহলে বাংলাদেশে কি দুর্নীতি কমবে? আমার উত্তর—হ্যাঁ, কমতে পারে। কিন্তু আপনা-আপনি নয়। দুর্নীতি কমাতে হলে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেখানে দুর্নীতির লাভের চেয়ে ঝুঁকি বেশি এবং সততার মূল্য বেশি। যেখানে পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা, ক্ষমতার চেয়ে আইন এবং ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো একক কমিশন, সরকার বা আইন নয়—একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান। আমরা যদি সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে পারি, তাহলে আজকের হতাশা একদিন পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত হতে পারে। উত্তর হয়তো সত্যিই আমাদের চারপাশেই আছে। প্রয়োজন শুধু সেই উত্তরকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক সাহস। তাই বারবার মনে পড়ে বব ডিলানের কালজয়ী গানটি ‘দ্য আনসার মাই ফ্রেন্ড ইজ ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’ অর্থাৎ উত্তরটি আমাদের সবার সামনেই আছে। শুধু এটিকে বাস্তবে গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সাহস দরকার।
মামুন রশীদ ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিদেশে থাকাকালে পাঠানো টাকার হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে হাসনা আক্তার (২০) নামে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সরকার বাণিজ্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে রদবদল করেছে।
সালমান আলি আগার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে শুভসূচনা করেছে পাকিস্তান।