জাতীয়

বাবা মা যেভাবে সন্তানদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলবেন

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বাবা মা যেভাবে সন্তানদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলবেন
বাবা মা যেভাবে সন্তানদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলবেন

একই ছাদের নিচে বেড়ে ওঠা দুই ভাই-বোন। কখনো খেলনা নিয়ে তুমুল ঝগড়া, কখনো টিভির রিমোট নিয়ে মনোমালিন্য, আবার কিছুক্ষণ পরেই পাশাপাশি বসে গল্প কিংবা খেলায় মেতে ওঠা-শৈশবে ভাই-বোনের সম্পর্ক যেন এমনই। একদিকে খুনসুটি, অন্যদিকে গভীর টান। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মধুর সম্পর্ক যেন প্রতিযোগিতা, ঈর্ষা কিংবা অভিমানে দূরে সরে না যায়, সেদিকে শুরু থেকেই নজর রাখা প্রয়োজন।

সন্তান মানুষ করা সহজ নয়। ঘরে একাধিক সন্তান থাকলে তাদের চাহিদা, স্বভাব ও মানসিকতার পার্থক্য সামলানো মা-বাবার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বড় সন্তান মনে করতে পারে, ছোটটি বেশি আদর পাচ্ছে।

আবার ছোটজনের মনে হতে পারে, বড় ভাই বা বোনই সবসময় বেশি সুবিধা পাচ্ছে। এসব ছোটখাটো অভিমান সময়ের সঙ্গে বড় দূরত্বে পরিণত হতে পারে। তাই ভাই-বোনের মধ্যে ভালোবাসা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে মা-বাবার কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।

তুলনা নয়, প্রত্যেককে আলাদা করে দেখুন

‘তোমার ভাই তো এত ভালো পড়াশোনা করে’, ‘তোমার বোনের মতো হতে পারো না?’-এ ধরনের কথা অনেক সময় অভিভাবকরা সন্তানকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু এতে উৎসাহের বদলে তৈরি হতে পারে ঈর্ষা, হীনম্মন্যতা কিংবা ক্ষোভ।

প্রতিটি শিশুর ক্ষমতা ও আগ্রহ আলাদা। কেউ পড়াশোনায় ভালো, কেউ খেলাধুলায়, আবার কেউ হয়তো গান, ছবি আঁকা বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে দক্ষ। তাই একজনকে অন্যজনের মাপকাঠিতে বিচার না করে প্রত্যেক সন্তানের নিজস্ব গুণকে গুরুত্ব দিন।

প্রয়োজন অনুযায়ী সমান মনোযোগ দিন

দুই সন্তানকে সমান ভালোবাসা দেওয়া জরুরি। তবে দুজনের প্রয়োজন সবসময় এক হবে, এমন নয়। একজনের হয়তো পড়াশোনায় বাড়তি সহযোগিতা দরকার, অন্যজনের প্রয়োজন হতে পারে একটু বেশি সময় কিংবা মানসিক সমর্থন। তাই সবকিছু হুবহু সমান করার চেষ্টা না করে ন্যায্য হওয়ার চেষ্টা করুন। সন্তানদের বোঝান, পরিবারের কারও প্রয়োজনের সময় তাকে সহযোগিতা করা ভালোবাসারই অংশ।

ঝগড়ায় তৎক্ষণাৎ পক্ষ না নেওয়া

ভাই-বোনের ঝগড়া হলে একজনের কথা শুনেই অন্যজনকে শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। এতে যে শিশুকে দোষী করা হলো, তার মনে অন্যায় হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। বরং দুজনের কথাই শুনুন। কে জিতল বা কে হারল, তার চেয়ে কীভাবে সমস্যাটি মেটানো যায়, সেটি শেখান। ছোটখাটো সমস্যা নিজেরা সমাধান করার সুযোগও দিন।

একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ তৈরি করুন

ভাই-বোনের বন্ধুত্ব বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো একসঙ্গে আনন্দের সময় তৈরি করা। বোর্ড গেম, গল্পের বই, রান্নায় সাহায্য, ঘরের ছোট কাজ কিংবা পারিবারিক ভ্রমণে দুজনকে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারেন।

তবে সবসময় তাদের কী করতে হবে তা বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজেদের মতো করে খেলতে ও গল্প করতে দিন। এই স্বাভাবিক সময়গুলোই ধীরে ধীরে সম্পর্ককে গভীর করে।

বড় হলেই সবসময় মানিয়ে না নেওয়ার চেষ্টা না করা  

‘তুমি বড়, তাই তোমাকেই মানিয়ে নিতে হবে’-এই কথা বড় সন্তানকে বারবার বলা হলে তার মনে অভিমান তৈরি হতে পারে। বয়সে বড় হওয়ায় দায়িত্ববোধ শেখানো অবশ্যই ভালো, কিন্তু প্রতিটি ঘটনায় বড় সন্তানকেই ছাড় দিতে বলা উচিত নয়।
দুই সন্তানকেই একে অন্যের অনুভূতি বোঝা, প্রয়োজন হলে ছাড় দেওয়া এবং নিজের ভুল স্বীকার করার শিক্ষা দিন।

ব্যক্তিগত জিনিসের প্রতি সম্মান শেখানো

ভাই-বোন কাছের মানুষ হলেও প্রত্যেকের নিজস্ব জগৎ থাকে। কারও বই, খেলনা, পোশাক বা ব্যক্তিগত জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার না করার অভ্যাস তৈরি করুন। এতে ছোটবেলা থেকেই একে অন্যের ব্যক্তিগত সীমারেখা ও পছন্দকে সম্মান করার শিক্ষা হবে।

একজনের সাফল্যে অন্যজনকে আনন্দ শেখানো

একজন পরীক্ষায় ভালো ফল করলে বা কোনো প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেলে অন্য সন্তানকে ছোট করবেন না। বরং তাকে ভাই-বোনের সাফল্যে অভিনন্দন জানাতে উৎসাহ দিন। একই সঙ্গে সফল সন্তানকেও অহংকার না করে অন্যজনকে উৎসাহ দেওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। পরিবারে এমন পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে একজনের সাফল্য অন্যজনের কাছে হুমকি নয়, আনন্দের বিষয় হয়ে ওঠে।

ভুল থেকে শেখানো

এক সন্তানের ভুলের কথা অন্যজনের সামনে বলে অপমান করবেন না। প্রয়োজন হলে শাসন করুন, কিন্তু তাকে ‘দুষ্ট’ বা ‘খারাপ’ বলে পরিচয় দেবেন না। আচরণটি ভুল এই কথা বোঝানো, শিশুটিকে ভুলের সঙ্গে এক করে ফেলবেন না।

এছাড়া ঝগড়ার পর জোর করে ‘সরি বলো’ বলার বদলে কেন তার আচরণে ভাই বা বোন কষ্ট পেয়েছে, সেটি বুঝতে সাহায্য করুন। ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা করার অভ্যাস দুটিই শেখানো জরুরি।

মা-বাবাই হোন সবচেয়ে বড় উদাহরণ

শিশুরা শুধু মা-বাবার কথা শুনে শেখে না, তাদের আচরণও অনুসরণ করে। বাবা-মা যদি একে অন্যের কথা মন দিয়ে শোনেন, মতের অমিলেও সম্মান বজায় রাখেন এবং ভুল হলে ক্ষমা চান, সন্তানরাও ধীরে ধীরে সেই আচরণ শিখবে।

আরও পড়ুন

শিশুর মেধা বিকাশে ঘুমাতে যাওয়ার আগে করণীয়

ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হবেই। অভিমানও থাকবে, মতের অমিলও হবে। তাই সম্পর্ককে একেবারে ঝগড়ামুক্ত করার চেষ্টা না করে তাদের শেখাতে হবে কীভাবে মতের অমিলের মধ্যেও ভালোবাসা ও সম্মান বজায় রাখা যায়।

আরও পড়ুন

শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয়

মা-বাবার সচেতনতা, ধৈর্য আর সঠিক দিকনির্দেশনাই পারে শৈশবের ভাই-বোনের এই বন্ধনকে ভবিষ্যতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সম্পর্কগুলোর একটিতে পরিণত করতে।

সূত্র: ইউনিসেফ, রাইজিং চিল্ডেন নেটওয়ার্ক, ফার্স্ট ওয়েভ ফ্যামিলিস

এসএকেওয়াই

 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ইসরায়েলি নির্বাচন জরিপ: বিরোধী জোটের ঝুলিতে ৫২ আসন
ইসরায়েলি নির্বাচন জরিপ: বিরোধী জোটের ঝুলিতে ৫২ আসন

আসন্ন ইসরায়েলি সংসদ (নেসেট) নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত নতুন এক জনমত জরিপে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে বিরোধী দলগুলো সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তবে নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হবে না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। 

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
নারীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে: সিইসি

নারীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে: সিইসি

আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে যোগ দিলেন মেসি

আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে যোগ দিলেন মেসি

ট্রলার থেকে ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ

ট্রলার থেকে ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ

নাসীরুদ্দীনের ওপর একের পর এক হামলা রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক
নাসীরুদ্দীনের ওপর একের পর এক হামলা রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়া পরিদর্শনে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং তার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এনসিপি।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: চমক দেখালেন বলসোনারো

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: চমক দেখালেন বলসোনারো

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘ব্লু গার্ড’ 

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘ব্লু গার্ড’ 

কেন ভাঙছে প্রীতম-শেহতাজের সংসার?

কেন ভাঙছে প্রীতম-শেহতাজের সংসার?

0 Comments