জাতীয়

ছয় বছরেও কাটেনি আম্পানের ক্ষত, দুর্ভোগে ৬ গ্রামের ২৮ হাজার মানুষ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ছয় বছরেও কাটেনি আম্পানের ক্ষত, দুর্ভোগে ৬ গ্রামের ২৮ হাজার মানুষ
ছয় বছরেও কাটেনি আম্পানের ক্ষত, দুর্ভোগে ৬ গ্রামের ২৮ হাজার মানুষ

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বিধ্বস্ত হওয়ার ছয় বছর পরও পুনর্নির্মাণ হয়নি সাতক্ষীরার আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নির্মাণ হয়নি প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্টও। ফলে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ও নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে ছয় গ্রামের প্রায় ২৮ হাজার মানুষকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে কুড়িকাহুনিয়া-গড়াইমহল খাল হয়ে কপোতাক্ষ নদের পুরোনো লঞ্চঘাট পর্যন্ত একটি সড়ক এবং সনাতনকাটি-নাকনা সংযোগ সড়ক মিলিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জলোচ্ছ্বাসে সড়ক দুটির বড় অংশ ভেঙে যায়। পরের বছর ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জোয়ারে ক্ষতি আরও বাড়ে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেসে গিয়ে কোথাও কোথাও গভীর খালের সৃষ্টি হয়েছে। এরপর কয়েক বছর পার হলেও সড়ক দুটি আগের অবস্থায় ফেরেনি।

৭০০ ফুটের বাঁশের সাঁকোই ভরসা

সরেজমিনে দেখা গেছে, গড়াইমহল খালের ওপর স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো। সাঁকোটি দিয়ে একসঙ্গে একাধিক মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পার হতে অন্যের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ শত শত মানুষ এ পথে যাতায়াত করেন। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় নৌকা ছাড়া পারাপারের সুযোগ থাকে না।

শিশু শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। বৃষ্টি হলে বাঁশ পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন খুব ভয় লাগে। অনেক সময় বই-খাতা নিয়ে সাঁকো পার হওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী খাইরুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিক মানুষেরই এই সাঁকো পার হতে ভয় লাগে। আমার মতো মানুষের জন্য আরও কঠিন। কারও সাহায্য ছাড়া পার হতে পারি না। একটা সেতু হলে আমাদের এই কষ্ট থাকত না।

আরও পড়ুন

যশোরে ৩৪ মোটরসাইকেলসহ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক

রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতেও ভোগান্তি

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় কেউ অসুস্থ হলে। মোটরসাইকেল, ভ্যান বা অ্যাম্বুলেন্স সরাসরি বাড়ির কাছে যেতে পারে না। রোগীকে কোলে, চেয়ারে অথবা অন্যের সহযোগিতায় সাঁকো পার করে নৌকায় তুলতে হয়।

অসুস্থ শাহাজাহান গাজীর বলেন, অসুস্থ শরীরে চিকিৎসকের কাছে যেতে হলেও আগে এই সাঁকো পার হতে হয়। জরুরি রোগী হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রাতে রোগী নিয়ে বের হলে কীভাবে পার করব, সেটাই বড় চিন্তা।

স্থানীয় বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, ছোট ছেলেমেয়েদের একা সাঁকো পার হতে দিতে ভয় লাগে। আমরা সঙ্গে গিয়ে পার করে দিই। বর্ষার সময় ভয় আরও বেড়ে যায়। এত বছরেও একটা কালর্ভার্ট হয়নি।

একই এলাকার বাসিন্দা সুরাইয়া খাতুন বলেন, গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিতে হলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয়। রাতের বেলা পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়। এদিয়ে কোনো যানবাহন চলে না।

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ জানিয়েছেন, আম্পান ও ইয়াসে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্ট না থাকায় কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সড়ক দুটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ বাঁশের সাঁকো ও নৌকায় চলাচল করছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা প্রয়োজন।

আশাশুনি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব সরকার বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এলজিইডিকে কাজ করার সুযোগ দিলে অথবা প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়া গেলে সড়ক পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।

এনএইচআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
গ্রাহ‌কদের ৮ কো‌টি টাকা আত্মসাৎ, অগ্রণী ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা আটক 
গ্রাহ‌কদের ৮ কো‌টি টাকা আত্মসাৎ, অগ্রণী ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা আটক 

গ্রাহ‌কের অভিযোগ পে‌য়ে প্রথ‌মে ব‌্যাংক‌টির অফিসার (ক্যাশ) মো. শরীফুজ্জামানকে পু‌লি‌শের সহায়তায় আটক করা হয়। প‌রে দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশ‌নের (দুদক) টিম অনুসন্ধান ক‌রে শরীফুজ্জামানের স‌ঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ব‌্যাংক‌টির আরও পাঁচ কর্মকর্তা‌কে পু‌লি‌শের সাহা‌য্যে আাটক ক‌রে। 

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
কুড়িগ্রামে সব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতির দাবিতে অবরোধ

কুড়িগ্রামে সব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতির দাবিতে অবরোধ

‘তুমি অভিনেতা, হিরো নও’, নানা পাটেকরকে স্মরণে শাহরুখ

‘তুমি অভিনেতা, হিরো নও’, নানা পাটেকরকে স্মরণে শাহরুখ

স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত ইবির ২৪ শিক্ষার্থী

স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত ইবির ২৪ শিক্ষার্থী

সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান আইজিপির 
সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান আইজিপির 

সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। 

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ইউক্রেনে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় নিহত ৩০

ইউক্রেনে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় নিহত ৩০

চরফ্যাশনে ১৩০০ জেলের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

চরফ্যাশনে ১৩০০ জেলের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

নোবিপ্রবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

নোবিপ্রবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ফরহাদকে হত্যা করে বোন-ভগ্নিপতি, সন্দেহ পুলিশের
পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ফরহাদকে হত্যা করে বোন-ভগ্নিপতি, সন্দেহ পুলিশের

রাজধানীর শাহজাহানপুরে মোহাম্মদ ফকরুল হাসান ফরহাদকে (৪৪) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহতের বোন ও ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে : মেয়র

চট্টগ্রামে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে : মেয়র

টানা তৃতীয়বার বিশ্বসেরা ২% গবেষক তালিকায় বেরোবির অধ্যাপক ফেরদৌস

টানা তৃতীয়বার বিশ্বসেরা ২% গবেষক তালিকায় বেরোবির অধ্যাপক ফেরদৌস

মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধে ঢাবির দুই হলে ছাত্রদল-শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত ৪

মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধে ঢাবির দুই হলে ছাত্রদল-শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত ৪

0 Comments