জাতীয়

আবারও ২০২৪-এর মতো পরিস্থিতি চাই না: টিআইবি

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
আবারও ২০২৪-এর মতো পরিস্থিতি চাই না: টিআইবি
আবারও ২০২৪-এর মতো পরিস্থিতি চাই না: টিআইবি

রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার ফল দীর্ঘমেয়াদি হলে তা শুধু বুমেরাং নয়, আত্মঘাতীও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আগামীদিনে আবারও ২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা চান না জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের জুলাই অভ্যুত্থানের শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহি সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আস্তে আস্তে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা বিষয়গুলো দেখেছি। কিন্তু ২০২৪ আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, মানুষের অধিকার ও ক্ষমতার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ট্রানজিশনের পর যাদের ওপর দায়িত্ব আসে বা যারা বিজয়ী হয়ে যান, তারা আন্দোলনের প্রত্যাশা প্রতিবারই পূরণ করেন না। আমরা সেটিই দেখতে পাচ্ছি।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সব জায়গায় পরিবর্তন দরকার। আমরা সংস্কারের প্রয়োজনের কথা বলছি। জুলাই অভ্যুত্থানের শিক্ষাটা আমরা নিয়েছি কি না, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে সেটি ভেবে দেখতে হবে।’

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা সত্যিকার অর্থে জুলাই অভ্যুত্থানের শিক্ষা নিয়েছেন কি না, সেটিও একটি প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, দীর্ঘকাল গণতন্ত্রের ঘাটতি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে সারা দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পুরো দেশবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যারা আজ ক্ষমতায় আছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন এবং সংসদের ভেতরে আছেন, তারাও বিভিন্নভাবে এসব পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সংস্কার বা পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা থাকার কথা, সেটি আশানুরূপ দেখা যাচ্ছে না।’

‘সেটা যদি বাস্তবে পেতে হয়, আমি আবার বলব, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের সংস্কার করতে হবে। নিজেদের দিকে তাকাতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ৫ আগস্টের পর দল বা ব্যক্তি পর্যায়ে গণতন্ত্রের চর্চা, চাঁদা সংগ্রহসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয়, দায়িত্বপূর্ণ ও কর্তৃত্বের অবস্থানে যারা রয়েছেন, তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে সরে আসতে হবে। রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের কর্তৃত্ব নিজেদের সুবিধায় ব্যবহারের প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল অনেকটা প্রতিষ্ঠানের মতো। এর পরিবর্তন বাইরে থেকে কেউ করে দিতে পারবে না। রাজনৈতিক দলকে নিজেদের পরিবর্তনের জন্য নিজেরাই উদ্যোগ নিতে হবে।

পরিবর্তনের পথে রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্রকে অন্যতম প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই প্রতিরোধক শক্তির এক নম্বরে আসছে রাজনৈতিক দল। তবে আমি সবাইকে একই ক্যাটাগরিতে ফেলছি না। অনেকে সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন চান এবং পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু সার্বিকভাবে রাজনৈতিক অবস্থান থেকে যেভাবে পরিবর্তনের পথে প্রতিরোধ বা অন্তরায় তৈরি করা হচ্ছে, সেটি একটি বড় শক্তি। এই শক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে।’

দ্বিতীয় প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে আমলাতন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে যে ক্ষমতা, রাষ্ট্র বাস্তবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু এর পরিবর্তে আমলাতন্ত্র রাজনৈতিক গণতন্ত্রকে পরিচালনা করে।’

আইন সংস্কার ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক শক্তির নির্দেশনা অনেক সময় কাজে লাগে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে আমলাতন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মূলত আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রায় অন্যতম প্রতিরোধক যে শক্তিগুলো, তারা যদি নিজেরা পরিবর্তন করে, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।’

আগামী দিনে আবার ২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন প্রতি বছর, প্রতি মাসে করতে হবে, এমনটা দরকার নেই। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার যে ফল, তা যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাহলে রাষ্ট্রের জন্য সেটি শুধু বুমেরাং হবে না, আত্মঘাতীও হবে। আবার বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে, সেটি আমরা চাই না।’

তিনি বলেন, ‘আশা করি, যারা দায়িত্বে আছেন, ২৪-এর শিক্ষাটা তারা গ্রহণ করবেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিশ্রুত হবেন।’

সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা হচ্ছে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করা। পাশাপাশি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও স্বতঃস্ফূর্ত সংসদ পরিচালনাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরছেন এবং যৌক্তিকভাবে একে অপরের সমালোচনা করছেন।

‘আমাদের দুটো অধিবেশনে যে কার্যকারিতা ও প্রাণচাঞ্চল্য আমরা সংসদে দেখেছি, দীর্ঘকাল সেটা ছিল না। নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যারা এসেছেন, তারা সংসদে জনগণের কথা তুলে ধরছেন। জনগণের সুখ-দুঃখ, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিষয়ে আলোকপাত করছেন।’

বাংলাদেশকে আগামী ৫০ বা ১০০ বছর পর এমন একটি দেশ হিসেবে দেখতে চান, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ পড়াশোনা, চিকিৎসা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।

তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে ভালো প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই হবে না। প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং জবাবদিহির চর্চা কতটা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। কাগজে কী লেখা হলো, তার চেয়ে বাস্তবে গণতন্ত্রের অনুশীলন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে উল্লেখ করে নওশাদ জমির বলেন, সেখানে মূল বিষয় হতে হবে যোগ্যতা। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমেও গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ নিজে দুর্নীতি না করলেও দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন কি না এবং এর বিরুদ্ধে কতজন দাঁড়াচ্ছেন, সেটি ভাবতে হবে। কেউ ঘুষ চাইলে ‘১০০ টাকা দেব না, দেখি কী হয়’-এমন অবস্থান নেওয়ার সাহস তৈরি করতে হবে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় আসার আহ্বান জানিয়ে নওশাদ জমির বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট দল বিদেশে খেললে যেমন সবাই দলের জয় চায়, তেমনি দেশের ক্ষেত্রেও ‘বাংলাদেশকে জিততে হবে’-এই মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এই চেতনা ধরে রাখতে পারলে একদিন বাংলাদেশ এমন একটি দেশে পরিণত হবে, যাকে সারা পৃথিবী উদাহরণ হিসেবে দেখবে।

এতে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব এবং নারী নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

এসএম/এমএএইচ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
প্যারিসে বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে দাঙ্গা ও লুটপাটে
প্যারিসে বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে দাঙ্গা ও লুটপাটে

রবিবার সকালে ফ্রান্স জেগে উঠেছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখে। শনিবার সেখানে দাঙ্গা ও বিক্ষোভের পর প্যারিসের ফুটপাতে ছড়িয়ে ছিল ভাঙা দোকানের কাঁচ,পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল এবং ধ্বংসাবশেষের স্তূপ।

News অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
মসলিনের প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করতে চায় সরকার

মসলিনের প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করতে চায় সরকার

সাবেক এমপি নয়ন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের ২ মামলা

সাবেক এমপি নয়ন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের ২ মামলা

দিনাজপুরে ২ সন্তান হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

দিনাজপুরে ২ সন্তান হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদ‌ক) দায়ের করা মামলার আসা‌মি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করা হ‌য়ে‌ছে।

News অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
অগ্নি-ঝুঁকিতে সুন্দরবন সংলগ্ন ২৪ রিসোর্ট

অগ্নি-ঝুঁকিতে সুন্দরবন সংলগ্ন ২৪ রিসোর্ট

সচিবালয় যাচ্ছে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে 

সচিবালয় যাচ্ছে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে 

প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

0 Comments