এবার রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিকূলতা, পদ্ধতিগত দমনপীড়ন আর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর তীব্র তাণ্ডব ও রাষ্ট্রীয় দ্বিচারিতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভারতের মাটিতে এক নীরব, অলৌকিক বিপ্লব ঘটে চলেছে। সত্যের আলো নেভানোর যত চেষ্টাই হচ্ছে, মানুষের হৃদয়ে সেই আলোর তীব্রতা যেন তত বেশি প্রস্ফুটিত হচ্ছে। সব ভয়ভীতি আর সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে পায়ে ঠেলে, কেবল আত্মিক শান্তি আর পরম সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন বহু মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। এই যেন এক অবিনশ্বর সত্যের জয়গান—যেখানে শত জুলুম আর অপপ্রচারের অন্ধকারকে চিরে ইসলামের শাশ্বত সৌন্দর্য মানুষের অন্তরকে জয় করে চলেছে, এবং সমস্ত বাধা পেরিয়ে কেরালাসহ পুরো ভারতে ইসলামের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে স্বমহিমায়।
ভারতের কেরালার সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে রাজ্যের ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে এক চমকপ্রদ ও ভিন্নমুখী চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, কেরালায় অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার যেমন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, ঠিক তেমনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিগত কয়েক বছরের সরকারি গেজেট ডেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কেরালা সরকারের অফিসিয়াল গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারীদের সংখ্যার চেয়ে নতুন করে এই বিশ্বাসের ছায়াতলে আসা মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেশি। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবধান আরও প্রকট ও শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে।
২০২০ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সে বছর কেরালায় মাত্র ৪০ জন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু এর বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মীয় আদর্শ থেকে ১৪৪ জন নতুন বিশ্বাসী ইসলাম গ্রহণ করেন—যা ত্যাগের তুলনায় গ্রহণের হার প্রায় সাড়ে তিন গুণেরও (৩.৬ গুণ) বেশি ছিল। এই নবাগতদের সিংহভাগই (৭৭%) এসেছিলেন হিন্দু সম্প্রদায় থেকে, যার মধ্যে একটি বড় অংশ (৬৩%) ছিলেন নারী। বিশেষ করে ইঝাভা, থিয়্যা এবং নায়ারের মতো প্রতিষ্ঠিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরাই বেশি সংখ্যায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
চার বছরের ব্যবধানে, ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গেজেট ডেটাতে এই প্রবণতা আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। ২০২৪ সালে কেরালায় মোট ৫৭ জন ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করলেও (৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্ট ধর্মে), তার বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শ থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৩৪৩ জন মানুষ (২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান) নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বছর কেরালায় ইসলাম ত্যাগের তুলনায় ইসলাম গ্রহণের অনুপাতিক হার প্রায় ৬ গুণ (৬.০১ গুণ) বেশি। নেট বা নিট পরিবর্তনের এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, কেরালায় ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ও স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। ইসলামের এই রকেটের গতিতে বৃদ্ধির বিপরীতে হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটি বেশ উদ্বেগজনক। ডেটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেরালায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণের চেয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগের (অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার) হার ও সংখ্যা দিন দিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০২০ সালের তথ্যে দেখা যায়, কেরালায় ২৪১ জন ব্যক্তি অন্য ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। তবে এই ধর্মান্তরের ভেতরের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি পরিসংখ্যান মতে, হিন্দু ধর্মে আসা এই ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২% মানুষই ছিলেন মূলত দলিত খ্রিষ্টান (যেমন—খ্রিষ্টান চেরামার, খ্রিষ্টান সাম্বাভা এবং খ্রিষ্টান পুলায়া)। তারা মূলত খ্রিষ্টান ধর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে দলিতদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কোটা বা রিজার্ভেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ফলে কেবল সেই আইনি ও অর্থনৈতিক সুবিধা ফিরে পেতেই তারা কাগজে–কলমে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে বাধ্য হন। অর্থাৎ, এটি কোনো আত্মিক আকর্ষণে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সুযোগ–সুবিধা পাওয়ার একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা ছিল মাত্র। অন্যদিকে, সে বছর ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছিলেন মাত্র ৩২ জন।
কিন্তু ২০২৪ সালের কেরালা স্টেট গেজেটের ডেটায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগের এক অভাবনীয় ও ব্যাপক চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে হিন্দু ধর্মে আসার চেয়ে তা ছেড়ে যাওয়ার হার অনেক বেশি। ২০২৪ সালে অন্য ধর্ম (ইসলাম ও খ্রিষ্টান) থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছেন সর্বমোট ৩৬৫ জন (যার মধ্যে খ্রিষ্টান থেকে ৩২৯ জন এবং ইসলাম থেকে মাত্র ৩৬ জন)। এর বিপরীতে, ২০২৪ সালে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে গেছেন রেকর্ড সংখ্যক ৫১০ জন মানুষ! এর মধ্যে সরাসরি ইসলাম গ্রহণ করেছেন ২৭৬ জন এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন ২৩৪ জন। অর্থাৎ, চার বছরের ব্যবধানে ইসলাম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের সংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল (২০২০ সালে ৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ৩৬ জন) থাকলেও, হিন্দু ধর্ম থেকে সরাসরি ইসলাম গ্রহণের হার দ্বিগুণেরও বেশি (২০২০ সালে ১১১ জন থেকে ২০২৪ সালে ২৭৬ জন) বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামগ্রিক সরকারি গেজেট ও পরিসংখ্যানের এই তুলনামূলক চিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় প্রমাণ করে যে, কেরালায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার প্রবণতা শুধু বজায়–ই নেই, বরং তা নাটকীয় গতিতে বাড়ছে। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মে ফেরার বিষয়টি অনেকাংশে সরকারি সুযোগ–সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থার আইনি মারপ্যাঁচের সাথে যুক্ত হলেও, স্বতঃস্ফূর্তভাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মে চলে যাওয়ার হার সমাজ ও জনমিতির জন্য একটি শক্তিশালী ও বাস্তব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস/নিউজলন্ড্রি
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
কারাবাস থেকে মুক্তি পেয়ে ২০২২ সালের নির্বাচনে অতি-ডানপন্থি জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরেন লুলা। আমাজন জঙ্গল রক্ষা, অর্থনীতি চাঙা করা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের পর ২০২৬ সালে ৮০ বছর বয়সে তিনি চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে জয়লাভ করেন। প্রথম দফার ভোটে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও মাত্র ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে নির্বাচনি কৌশল বদলে ফেলেন লুলা। ডিজিটাল প্রচারণায় জোর দিয়ে এবং ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে এনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ৪৪ লাখেরও বেশি ভোট বেশি পেয়ে ৫২ শতাংশের কাছাকাছি ভোট নিশ্চিত করেন। ১৯৮৫ সালে সামরিক শাসনের অবসানের পর প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকে চূড়ান্ত ভোটে জয়ের এই ঘটনা ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড।
নওয়াজ শরীফ এবং ইমরান খান, দুজনেই লাহোরের সচ্ছল কিন্তু অরাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শুরুতে কেউই রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন না। দু'জনই এক সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু কেউই নিজেদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। দু'জনকেই বিতর্কিত মামলায় সাজা ও কারাবরণ করতে হয়েছিল।
তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল ছেড়ে চলে যাওয়া সংসদ সদস্য ও বিধায়কদের ফিরে আসার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।